ট্রাম্পের দাবি আলোচনা চলছে কিন্তু বাঘাই বলে ভিন্ন কথা, আসলে যা হচ্ছে
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে আলোচনা প্রায় শেষ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেবে ইরান এবং ওমান। হরমুজে তৃতীয় কোনো পক্ষের হস্তক্ষেপ ইরান মেনে নেবে না । এই জলপথ নিয়ে ইরান-ওমান এমন একটি প্রস্তাবিত চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছে যা বাস্তবায়িত হলে হরমুজের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ সূত্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এটি বাস্তবায়িত হলে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে ইরানের পক্ষে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। ট্রাম্পের দাবি আর বাঘাই যা বললো শনিবার (১ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছিলেন, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়েছে। তাই তিনি ইরানের জ্বালানি স্থাপনার ওপর সর্বাত্মক হামলা বন্ধ রাখা হয়েছে। তার দাবি, ওই চুক্তির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে, সম্পূর্ণ এবং পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে এবং ইর
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে আলোচনা প্রায় শেষ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেবে ইরান এবং ওমান। হরমুজে তৃতীয় কোনো পক্ষের হস্তক্ষেপ ইরান মেনে নেবে না । এই জলপথ নিয়ে ইরান-ওমান এমন একটি প্রস্তাবিত চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছে যা বাস্তবায়িত হলে হরমুজের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ সূত্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এটি বাস্তবায়িত হলে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে ইরানের পক্ষে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।
ট্রাম্পের দাবি আর বাঘাই যা বললো
শনিবার (১ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছিলেন, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়েছে। তাই তিনি ইরানের জ্বালানি স্থাপনার ওপর সর্বাত্মক হামলা বন্ধ রাখা হয়েছে। তার দাবি, ওই চুক্তির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে, সম্পূর্ণ এবং পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে এবং ইরানের পারমাণবিক হুমকির অবসান ঘটবে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং একটি সমঝোতা খুবই কাছাকাছি অবস্থানে আছে। এর আগে ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় সর্বাত্মক হামলার সিদ্ধান্ত স্থগিত করার কারণ হিসেবে এমন কথা জানান ট্রাম্প। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না বলে জানান ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।
তিনি জানান, বর্তমানে শুধু ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েই আলোচনা হচ্ছে।
এদিকে, মার্কিন কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন যে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি বাণিজ্যপথের প্রবেশাধিকার ইরানের নিয়ন্ত্রণে দেওয়া হবে না।
বুধবার (৫ আগস্ট) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য একটি নিরাপদ নৌপথ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তেহরান ও মাসকাটের (ওমান) মধ্যে চলমান আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালির দুই উপকূলীয় রাষ্ট্র হিসেবে ইরান ও ওমান গত দুই মাস ধরে এ বিষয়ে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
বাঘাইয়ের মতে, আলোচনায় নিরাপদ নৌপথ প্রতিষ্ঠার কারিগরি, আইনি, নিরাপত্তা এবং পরিবেশগত বিভিন্ন দিক নিয়ে ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত পর্যালোচনা করেছে। আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং শিগগির এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যেতে পারে।
ওমান-ইরানের আলোচনা নিয়ে যা জানা গেলো
ইরানে নিয়ন্ত্রণে হরমুজ প্রণালির উত্তর অংশ আর দক্ষিণ অংশ ওমানের নিয়ন্ত্রণে। এ কারণে দুই দেশ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরান জানিয়েছে, ভবিষ্যতে উপসাগরে প্রবেশ ও বের হওয়া—উভয় দিকের বাণিজ্যিক জাহাজই ইরানের আঞ্চলিক জলসীমা ব্যবহার করবে। এক্ষেত্রে, আপাতত অস্থায়ী একটি রুট নির্ধারণ করার কথাও জানিয়েছিল ইরান।
গত ১৮ জুন ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ৩ ও ৫ নম্বর দফা অনুয়াযি-৩০ দিনের মধ্যে নৌ অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্র এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় জাহাজ চলাচলের উপযোগী করা হবে এবং ইরানের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে। আর ৮ নম্বর দফায় বলা হয়েছে-পারমাণবিক ইস্যু এবং যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ ও আইএইএ-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে পরবর্তী ৬০ দিনের আলোচনা চলবে।
তবে, এরপর আবারও নতুন দফা যুদ্ধে জড়ায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। এর কারণ যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ধনে ওমানের দক্ষিণ অংশ দিয়ে জাহাজ পারাপার শুরু করে মার্কিন বাহিনী। এতে ওইসব জাহাজে হামলা চালায় আইআরজিসি। এরপর, নতুন দফায় ১৩ দিন যুদ্ধ চলে এবং ট্রাম্পের নির্দেশে আগস্টের শুরুতে হামলা বন্ধ হয়।
তবে,নতুন দফা হামলার মধ্যেই সংঘাত বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বার্তা নিয়ে তেহরানে গিয়েছিলেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জায়েদি। ওই প্রস্তাবে ‘যুদ্ধবিরতি’র কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। তবে, ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।

নিউইয়র্ক টাইমস রিপোর্ট / ট্রাম্পের প্রস্তাব নিয়ে তেহরানে ইরাকি প্রধানমন্ত্রী, গ্রহণ করেছে ইরান?
সর্বশেষ বুধবার ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা IRNA-কে বলেন, বাণিজ্যিক জাহাজের যাতায়াত এমনভাবে পরিচালিত হবে যাতে প্রবেশ ও প্রস্থানের উভয় ক্ষেত্রেই তারা ইরানের জলসীমা অতিক্রম করে। তার ভাষায়, আলোচনায় মৌলিক সমঝোতা হয়েছে এবং এটি চূড়ান্ত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।
দুই দেশের স্বার্থ রক্ষায় নতুন করিডোর
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো ওমানের জলসীমা দিয়ে যাওয়া দক্ষিণাঞ্চলীয় নৌপথ এবং ইরানের জলসীমা দিয়ে যাওয়া উত্তরাঞ্চলীয় নৌপথকে একত্র করে একটি দ্বিমুখী করিডোর গঠন করা যা উভয় উপকূলীয় দেশের স্বার্থ রক্ষা করবে।
তিনি বলেন, আমরা এখন এমন একটি করিডোর নিয়ে কথা বলছি যেখানে দুটি বা তিনটি আলাদা পথের পরিবর্তে উভয়মুখী একটি পথ থাকবে।
ইরানের আলোচক দলের সদস্য সাঈদ আজোরলু রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি-কে বলেন, নতুন ব্যবস্থায় নিরাপত্তা, মাইন অপসারণ এবং সামুদ্রিক সেবার দায়িত্ব ইরানই পালন করবে। ইরান এক থেকে তিন মাসের জন্য একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা চায় যেখানে ইরানের প্রাধান্য থাকবে।
ফি আদায় নিয়ে মতপার্থক্য
রয়টার্সের তথ্যমতে, প্রস্তাবিত চুক্তির অন্যতম বিতর্কিত বিষয় হচ্ছে জাহাজ চলাচলের জন্য ফি। ইরান পণ্যের মূল্যের ৫ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত ফি আদায় করতে চায়। অন্যদিকে, ওমান প্রায় ৩ শতাংশ ফি প্রস্তাব করেছে।
আর যে কোনো ধরনের ফি আরোপের বিরোধিতা করছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিনিধিরা চাইছেন, জাহাজ পরিদর্শনের দায়িত্ব আঞ্চলিক দেশগুলোর তত্ত্বাবধানে থাকুক এবং কোনো ফি থাকলেও তা যেন বাধ্যতামূলক না হয়।
যুদ্ধ শুরর ঘটনা প্রবাহ
জেনেভা শহরে আলোচনা চলা অবস্থায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। এতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশকিছু শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এর প্রতিবাদে ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা হামলা চালায় ইরান।
এরপর ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠক করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়া ১৩ এপ্রিল হরমুজে নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়। এরপর কয়েক দফা যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ান ট্রাম্প।
সর্বশেষ, ইরানের ১৪ দফা শর্তের ভিত্তিতে গত ১৮ জুন একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছায় দুই পক্ষ। অ্যাক্সিওস এর সংবাদের তথ্য মতে, ১৪ দফার ভিত্তিতে দুই পক্ষ ৬০ দিনের জন্য আলোচনায় সম্মত হয়েছে এবং ইরানের ওপর হামলা তথা যুদ্ধ বন্ধের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হয়েছে।
ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতে ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।
কেএম
What's Your Reaction?