ট্রাম্পের সতর্কতার পরও নিজেদের ‘স্বাধীন রাষ্ট্র’ ঘোষণা করলো তাইওয়ান

তাইওয়ানকে চীনের কাছ ‘স্বাধীন’ ঘোষণা করার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তা সত্ত্বেও নিজেদের ‘স্বাধীন-সার্বভৌম’ রাষ্ট্র বলে দাবি করেছে স্বশাসিত এই দ্বীপটি। বেইজিংয়ে দুই দিনের শীর্ষ বৈঠক শেষে ট্রাম্প বলেন, তাইওয়ান ইস্যুতে তিনি ‘কোনো দিকেই প্রতিশ্রুতি দেননি’। স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে চীন ও এটিকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে একীভূত করতে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের পথও তারা নাকচ করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার সক্ষমতা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে ওয়াশিংটনের। তবে একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়টিও যুক্তরাষ্ট্রকে সমন্বয় করে চলতে হয়। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে আগেও বলেছেন, তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণার প্রয়োজন নেই, কারণ তারা নিজেদের আগেই একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে দেখে। শনিবার (১৬ মে) প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ক্যারেন কুও বলেন, তাইওয়ান যে ‘একটি সার্বভৌম, স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশ- এটি ‘স্বতঃসিদ্ধ’। তবে তিনি আরও বলেন, চীনের সঙ্গে বর্তমান অবস্থান বা ‘স্ট্যাটাস কো’ বজায় রাখতেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ত

ট্রাম্পের সতর্কতার পরও নিজেদের ‘স্বাধীন রাষ্ট্র’ ঘোষণা করলো তাইওয়ান

তাইওয়ানকে চীনের কাছ ‘স্বাধীন’ ঘোষণা করার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তা সত্ত্বেও নিজেদের ‘স্বাধীন-সার্বভৌম’ রাষ্ট্র বলে দাবি করেছে স্বশাসিত এই দ্বীপটি।

বেইজিংয়ে দুই দিনের শীর্ষ বৈঠক শেষে ট্রাম্প বলেন, তাইওয়ান ইস্যুতে তিনি ‘কোনো দিকেই প্রতিশ্রুতি দেননি’। স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে চীন ও এটিকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে একীভূত করতে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের পথও তারা নাকচ করেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার সক্ষমতা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে ওয়াশিংটনের। তবে একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়টিও যুক্তরাষ্ট্রকে সমন্বয় করে চলতে হয়।

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে আগেও বলেছেন, তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণার প্রয়োজন নেই, কারণ তারা নিজেদের আগেই একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে দেখে। শনিবার (১৬ মে) প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ক্যারেন কুও বলেন, তাইওয়ান যে ‘একটি সার্বভৌম, স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশ- এটি ‘স্বতঃসিদ্ধ’।

তবে তিনি আরও বলেন, চীনের সঙ্গে বর্তমান অবস্থান বা ‘স্ট্যাটাস কো’ বজায় রাখতেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তাইওয়ান। অর্থাৎ তাইওয়ান একদিকে যেমন চীনের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা করছে না, অন্যদিকে, চীনের সঙ্গে একীভূতও হচ্ছে না।

তাইওয়ানের অনেক মানুষ নিজেদের আলাদা জাতির অংশ হিসেবে মনে করেন। যদিও অধিকাংশই বর্তমান অবস্থান বজায় রাখার পক্ষপাতী।

ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের অবস্থান হলো- তারা তাইওয়ানের স্বাধীনতাকে সমর্থন করে না। একইসঙ্গে বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য ‘এক চীন নীতি’ মেনে নেওয়াও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক অবস্থানের অংশ।

শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প পুনরায় বলেন, তাইওয়ান বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, বেইজিংয়ের সঙ্গে সংঘাত চান না তিনি।

ট্রাম্প বলেন, আমি কাউকে স্বাধীন হতে দেখার চেষ্টা করছি না। আপনি জানেন, যুদ্ধ করতে আমাদের ১৫ হাজার ২৮৯ কিলোমিটার (৯ হাজার ৫০০ মাইল ) যেতে হবে। আমি সেটা চাই না। আমি চাই তারা শান্ত হোক। আমি চাই চীনও শান্ত হোক।

ওয়াশিংটনে ফেরার পথে সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান, তিনি ও শি তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে ‘অনেক কথা’ বলেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে রক্ষা করবে কি না, এ বিষয়ে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্প বলেন, শি জিনপিং তাইওয়ান ইস্যুতে ‘খুবই দৃঢ় অবস্থানে’ আছেন ও ‘স্বাধীনতার কোনো আন্দোলন দেখতে চান না’।

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তেকে নিয়ে বেইজিং অতীতেও তীব্র সমালোচনা করেছে। চীন তাকে ‘ঝামেলা সৃষ্টিকারী’ ও ‘দুই তীরের শান্তি ধ্বংসকারী’ বলেও আখ্যা দিয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্বীপটির চারপাশে সামরিক মহড়া বাড়িয়েছে চীন, যা অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বাড়িয়েছে এবং ওয়াশিংটনের কৌশলগত ভারসাম্যকে আরও পরীক্ষার মুখে ফেলেছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প আরও জানান, তাইওয়ানের কাছে ১১ বিলিয়ন বা ১১০০ কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্র বিক্রির একটি প্যাকেজ অনুমোদন করবেন কি না, সে বিষয়ে তিনি শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবেন।

ট্রাম্প বলেন, সম্ভাব্য অস্ত্র প্যাকেজটি নিয়ে তাইওয়ানের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তিনি আরও বলেন, আমি বলব, আমাকে সেই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে হবে, যিনি এখন তাইওয়ান পরিচালনা করছেন। আপনি জানেন তিনি কে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবে দুই পক্ষের মধ্যে শক্তিশালী অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক বজায় রয়েছে। সাধারণত মার্কিন প্রেসিডেন্টরা সরাসরি তাইওয়ানের নেতার সঙ্গে কথা বলেন না, কারণ এতে বেইজিংয়ের সঙ্গে বড় ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে।

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র বলেন, তাইওয়ান প্রণালির নিরাপত্তা রক্ষায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদ থেকেই যে সমর্থন দিয়ে আসছেন। সে জন্য তাইওয়ানবাসী তার প্রতি কৃতজ্ঞ।

তিনি আরও বলেন, শক্তির মাধ্যমে শান্তি নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা আরও গভীর করবে তাইওয়ান, যাতে তাইওয়ান প্রণালিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে না পড়ে বা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এটি তাইওয়ান, যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক গণতান্ত্রিক সম্প্রদায়ের অভিন্ন স্বার্থ রক্ষা করবে।

সূত্র: বিবিসি

এসএএইচ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow