ডাচদের বিপক্ষে জয়ে যে রেকর্ড গড়ল লিটনরা
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে দুর্দান্ত জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। তাসকিন আহমেদের বিধ্বংসী বোলিংয়ে ডাচরা থেমে যায় ১৩৬ রানে। এরপর লিটন দাসের অগ্নিঝরা ইনিংস আর সাইফ হাসানের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে মাত্র ১৩.৩ ওভারেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় টাইগাররা। হাতে থাকে ৩৯ বল—টি-টোয়েন্টিতে বল বাকি থাকার হিসাবে এটাই বাংলাদেশের ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ বড় জয়।
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বড় জয় এসেছিল গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে, যেখানে ৫০ বল হাতে রেখে জিতেছিল লাল–সবুজের প্রতিনিধিরা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড ৪৮ বল হাতে রেখে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়। এবার ডাচদের বিপক্ষে সেই তালিকায় নতুন সংযোজন হলো।
ব্যাট হাতে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন অধিনায়ক লিটন দাস। ২৯ বলে ৫৪ রানের ইনিংস খেলে তিনি পৌঁছে যান এক বিশেষ মাইলফলকে—টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ফিফটির তালিকায় সাকিব আল হাসানের পাশে। দুইজনের ঝুলিতেই এখন সমান ১৩টি অর্ধশতক। লিটনের ইনিংসে আসে ৬টি চার ও ২টি ছক্কা।
রান তাড়ার শুরুতেই পারভেজ হোসেন ইমন ও তানজিদ হাসান তামিম ২ ওভারেই যোগ করেন ২৫ রান। ইমন ৯ বলে ১৫ রান করে ফিরলেও তানজিদ খেলেন ২৪ বলে ২৯ রানের কার্যকর ইনিংস। লিটন–তানজিদের জুটিতেই কার্যত ম্যাচ চলে আসে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে। এরপর সাইফ হাসান ১৯ বলে অপরাজিত ৩৬ রান করে শেষটা রাঙান, ইনিংসে ছিল ৩ ছক্কা ও ১ চার।
এর আগে বল হাতে আলো ছড়ান তাসকিন আহমেদ। ৪ ওভারে ২৮ রান দিয়ে তুলে নেন ৪ উইকেট, হয়ে ওঠেন ম্যাচসেরা। মুস্তাফিজুর রহমান ও সাইফ হাসানও ছিলেন মিতব্যয়ী।
নেদারল্যান্ডসের পক্ষে তেজা নিদামানুরু সর্বোচ্চ ২৬ রান করেন। ম্যাক্স ও’ডাউড (২৩), টিম প্রিঙ্গল (১৬) ও আরিয়ান দত্ত (১৩) কিছুটা লড়লেও বড় ইনিংস গড়তে ব্যর্থ হয় ডাচরা।
অসাধারণ ব্যাটিং–বোলিং সমন্বয়ে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই বাংলাদেশ প্রমাণ করল, তারা এশিয়া কাপের আগে কতটা প্রস্তুত। আর সেই সঙ্গে রেকর্ডের পাতায় নতুন করে জায়গা করে নিল লিটন–তাসকিনদের নাম।