ডুয়েট ‘শাটডাউনের’ আলটিমেটাম 

গাজীপুরে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)-এ সাধারণ শিক্ষার্থীরা এবার ঈদের আগেই সংকট সমাধানের আলটিমেটাম দিয়েছেন। দাবি আদায় না হলে পুরো ক্যাম্পাস ‘শাটডাউন’ করে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন তারা। সোমবার (১৮ মে) দুপুরে ডুয়েট ক্যাম্পাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য দেন চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. আমান উল্লাহ ও হাসানুর রহমান। এসময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে মো. আমান উল্লাহ বলেন, ‘আমাদের দাবি ছিল ডুয়েটে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্য থেকেই প্রশাসন গঠন করা হবে। কিন্তু সেই দাবিকে ঘিরে আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে। এরপরও আমরা আমাদের অবস্থান থেকে সরে আসব না। বাহির থেকে নিয়োগ দেওয়া উপাচার্যের প্রজ্ঞাপন বাতিল করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শিক্ষকদের মধ্য থেকেই প্রশাসন গঠন করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের চিন্তাধারা বজায় রাখার চেষ্টা করেছি। সাংবাদিকদের মাধ্যমে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল মহল, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সরকারের কাছে আমাদের দাবি পৌঁছে দিতে চাই। তারা দ্রুত উদ্যোগ নিলে আমরা শান্তিপূর

ডুয়েট ‘শাটডাউনের’ আলটিমেটাম 

গাজীপুরে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)-এ সাধারণ শিক্ষার্থীরা এবার ঈদের আগেই সংকট সমাধানের আলটিমেটাম দিয়েছেন। দাবি আদায় না হলে পুরো ক্যাম্পাস ‘শাটডাউন’ করে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

সোমবার (১৮ মে) দুপুরে ডুয়েট ক্যাম্পাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য দেন চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. আমান উল্লাহ ও হাসানুর রহমান। এসময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে মো. আমান উল্লাহ বলেন, ‘আমাদের দাবি ছিল ডুয়েটে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্য থেকেই প্রশাসন গঠন করা হবে। কিন্তু সেই দাবিকে ঘিরে আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে। এরপরও আমরা আমাদের অবস্থান থেকে সরে আসব না। বাহির থেকে নিয়োগ দেওয়া উপাচার্যের প্রজ্ঞাপন বাতিল করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শিক্ষকদের মধ্য থেকেই প্রশাসন গঠন করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের চিন্তাধারা বজায় রাখার চেষ্টা করেছি। সাংবাদিকদের মাধ্যমে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল মহল, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সরকারের কাছে আমাদের দাবি পৌঁছে দিতে চাই। তারা দ্রুত উদ্যোগ নিলে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের চেষ্টা করব। কিন্তু দাবি উপেক্ষা করা হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘ঈদের আগেই এ সংঘাত নিরসন করতে হবে। অন্যথায় ঈদের পর পর্যন্ত আন্দোলন চলবে এবং প্রয়োজন হলে পুরো ডুয়েট ক্যাম্পাস শাটডাউন করে দেওয়া হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কোনো বৈঠক হয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষার্থীরা জানান, নবনিযুক্ত উপাচার্যকে তারা মানছেন না এবং তার সঙ্গে কোনো বৈঠকও হয়নি। শিক্ষকদের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি বলে দাবি করেন তারা।

মো. আমান উল্লাহ বলেন, ‘আমরা শিক্ষকদের কাছে বারবার সহযোগিতা চেয়েছি। শিক্ষক সমাজ আমাদের দাবির প্রতি সহমত প্রকাশ করেছে এবং তাদের বিবৃতিতেও তা উঠে এসেছে। কিন্তু বাস্তব সমাধান আসছে না। আমরা চাই সরকারের দায়িত্বশীল মহল দ্রুত হস্তক্ষেপ করুক।’

হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে শিক্ষার্থী হাসানুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘আমাদের ওপর হামলায় ছাত্রদল সংশ্লিষ্ট কয়েকজন এবং বহিরাগতরা জড়িত ছিল। তাদের অনেককে আমরা শনাক্ত করেছি। রামদা হাতে নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান হয়েছে।’

তিনি দাবি করেন, সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে কয়েকজনের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং অনেকের শরীরে একাধিক সেলাই দিতে হয়েছে। আহতরা কেউ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, কেউ বাসায় এবং কেউ ক্যাম্পাসে অবস্থান করছেন।

এসময় সাংবাদিকদের সামনে আহত শিক্ষার্থীদের ছবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ডও প্রদর্শন করা হয়। আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিতের চেষ্টা করছে, তবে পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক।

ছাত্রশিবির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নাকচ করে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘এটি কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের আন্দোলন নয়। এখানে যারা আছে তারা সবাই সাধারণ শিক্ষার্থী। তারা ডুয়েটকে ভালোবাসে বলেই রাজপথে নেমেছে। ছাত্রদল, ছাত্রশিবির বা অন্য কোনো সংগঠনের নামে আন্দোলনকে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

তাদের দাবি, ৫ আগস্টের পর শিক্ষার্থীদের ঐকমত্যে ডুয়েটকে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাস ঘোষণা করা হয়েছে। এরপরও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রতিহত করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন উপাচার্য নিয়োগের পর থেকেই ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক সংঘর্ষে একাধিক শিক্ষার্থী আহত হওয়ার পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রশাসনিক সংকট নিরসনে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে ক্যাম্পাসে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত সমাধান না এলে একাডেমিক পরিবেশ ভেঙে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

ডুয়েট ক্যাম্পাসে চলমান এ সংকট এখন শুধু প্রশাসনিক বিরোধে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, শিক্ষার পরিবেশ এবং ছাত্ররাজনীতি প্রশ্নেও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। ঈদের আগেই পরিস্থিতির সমাধান হবে কি না, সেটিই এখন সবার নজরে।
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow