ঢাকার মতোই ফাঁকা কমলাপুর রেলস্টেশন
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নাড়ির টানে শেষ মুহূর্তে রাজধানী ছাড়ছেন ঘরমুখো মানুষ। শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল থেকে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনের তুলনায় আজ যাত্রীচাপ অনেকটাই কম। তবে এর মধ্যেই বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছেন। স্টেশনের প্ল্যাটফর্মগুলোতে আজ উপচে পড়া ভিড় না থাকায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় বুটের ব্যবসা করেন দিনাজপুরের পার্বতীপুরের বাসিন্দা আনিসুল হক। সাধারণত তিনি চাঁদ রাতেই গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঈদের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় আজ সকালে সপরিবারে কমলাপুর স্টেশনে চলে এসেছেন তিনি। একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট হাতে নিয়ে তিনি বলেন, পরিবারের জন্য সাধ্যমতো কেনাকাটা করেছি, এখন দ্রুত সন্তানদের কাছে পৌঁছাতে চাই। একইভাবে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশ্যে যাত্রার অপেক্ষায় থাকা সবজি বিক্রেতা মতিউর রহমান জানান এক অনন্য অভিজ্ঞতার কথা। তিনি জানান, তিন দিন আগে আনা সবজি গতকাল দুপুরের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যাওয়ায় তিনি আর নতুন করে মালামাল তোলেননি। আজ এগ
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নাড়ির টানে শেষ মুহূর্তে রাজধানী ছাড়ছেন ঘরমুখো মানুষ। শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল থেকে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনের তুলনায় আজ যাত্রীচাপ অনেকটাই কম।
তবে এর মধ্যেই বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছেন। স্টেশনের প্ল্যাটফর্মগুলোতে আজ উপচে পড়া ভিড় না থাকায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা।
উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় বুটের ব্যবসা করেন দিনাজপুরের পার্বতীপুরের বাসিন্দা আনিসুল হক। সাধারণত তিনি চাঁদ রাতেই গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঈদের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় আজ সকালে সপরিবারে কমলাপুর স্টেশনে চলে এসেছেন তিনি। একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট হাতে নিয়ে তিনি বলেন, পরিবারের জন্য সাধ্যমতো কেনাকাটা করেছি, এখন দ্রুত সন্তানদের কাছে পৌঁছাতে চাই।
একইভাবে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশ্যে যাত্রার অপেক্ষায় থাকা সবজি বিক্রেতা মতিউর রহমান জানান এক অনন্য অভিজ্ঞতার কথা। তিনি জানান, তিন দিন আগে আনা সবজি গতকাল দুপুরের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যাওয়ায় তিনি আর নতুন করে মালামাল তোলেননি। আজ এগারসিন্দুর প্রভাতী ট্রেনে আসন পেয়ে অনেকটা অবাকই হয়েছেন তিনি। তার মতে, অন্য প্ল্যাটফর্মগুলোতেও আজ যাত্রী উপস্থিতি কম থাকায় কোনো ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে না।
ঈদের এই আবহে রাজধানীর সেবামূলক খাতের কর্মীরাও পিছিয়ে নেই। বেনাপোলগামী ট্রেনের যাত্রী হেলাল উদ্দীন একটি চাইনিজ হোটেলে সেলস এক্সিকিউটিভ হিসেবে কর্মরত। হোটেল বন্ধ থাকায় চার দিনের ছুটিতে তিনি গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন। অন্যদিকে, ভুলতা গাউছিয়ার একটি পোশাক কারখানার সুপারভাইজার শামসুন্নাহার বাসের অতিরিক্ত ভাড়ার ভয়ে ট্রেন বেছে নিয়েছেন। বেতন ও বোনাস হাতে পেয়ে নীলফামারীগামী চিলাহাটি এক্সপ্রেসে চেপে বসেছেন তিনি, যেখানে গ্রামে তার অপেক্ষায় রয়েছে প্রিয় সন্তান।
যাত্রীদের এই ভিড়ে দেখা মিলল সিএনজি অটোরিকশা চালক আশরাফুল ইসলামেরও। তিনি জানান, ঈদের সময় ঢাকা ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় ভাড়া কম থাকে, তাই এবার সময় থাকতেই গ্রামের বাড়ি থেকে ঘুরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সুরে কথা বললেন নারায়ণগঞ্জে একটি প্রকল্পে রাজমিস্ত্রির কাজ করা আসাদুল। কাজ বন্ধ হওয়ায় সহকর্মীদের নিয়ে তিনি গ্রামে ফিরছেন। তবে তার অনেক সহকর্মী অতিরিক্ত উপার্জনের আশায় বা প্রজেক্টের পাহারায় থেকে গেছেন, যারা ঢাকাতেই ঈদ উদযাপন করবেন।
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে অধিকাংশ ট্রেন নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে গেছে। তবে গত বৃহস্পতিবার বিলম্বের কারণে চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেসের যাত্রা বাতিল করায় কিছু যাত্রী সাময়িক বিড়ম্বনায় পড়েছিলেন। আজ সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় স্বস্তিতেই ফিরছেন ঘরমুখো মানুষ।
What's Your Reaction?