ঢিমেতালে চলছে বিবিরবাজার স্থলবন্দর
রপ্তানি কমেছে অর্ধেকে রপ্তানির ৯০ শতাংশ শুধু সিমেন্ট আমদানি-রপ্তানিতে জটিলতা এবং ভারতীয় নিষেধাজ্ঞার কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরের কার্যক্রম। এক সময়ের ব্যস্ত এই বন্দরে আমদানির তুলনায় রপ্তানি কমে নেমেছে প্রায় অর্ধেকে। ফলে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন স্থানীয় শ্রমিকরা। আরও পড়ুন ১৩ বছরেও চালু হয়নি ইমিগ্রেশন, সম্ভাবনা হারাচ্ছে সোনাহাট বন্দর বিবিরবাজার দেশের ১৩তম স্থলবন্দর। ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে বন্দরের কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৯ সালের ২৩ এপ্রিল। ২ দশমিক ৮৩ একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত বন্দরটিতে বর্তমানে ১২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই বন্দর দিয়ে হাতেগোনা কয়েকটি পণ্য রপ্তানি করা হলেও আমদানি নেই বললেই চলে। চাহিদা থাকা সত্ত্বেও নানান জটিলতায় ভারতে পাঠানো যাচ্ছে না মাছ, পোলট্রি খাদ্য, গ্লাস ও সুতলিসহ বেশ কয়েকটি পণ্য। চাহিদার শীর্ষে থাকা প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফলমূলসহ বেশ কিছু ভোগ্যপণ্যে ভারতের পক্ষ থেকে রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা থানায় সেগুলিও পাঠানো যাচ্ছে না। এতে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।
- রপ্তানি কমেছে অর্ধেকে
- রপ্তানির ৯০ শতাংশ শুধু সিমেন্ট
আমদানি-রপ্তানিতে জটিলতা এবং ভারতীয় নিষেধাজ্ঞার কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরের কার্যক্রম। এক সময়ের ব্যস্ত এই বন্দরে আমদানির তুলনায় রপ্তানি কমে নেমেছে প্রায় অর্ধেকে। ফলে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন স্থানীয় শ্রমিকরা।
বিবিরবাজার দেশের ১৩তম স্থলবন্দর। ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে বন্দরের কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৯ সালের ২৩ এপ্রিল। ২ দশমিক ৮৩ একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত বন্দরটিতে বর্তমানে ১২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই বন্দর দিয়ে হাতেগোনা কয়েকটি পণ্য রপ্তানি করা হলেও আমদানি নেই বললেই চলে। চাহিদা থাকা সত্ত্বেও নানান জটিলতায় ভারতে পাঠানো যাচ্ছে না মাছ, পোলট্রি খাদ্য, গ্লাস ও সুতলিসহ বেশ কয়েকটি পণ্য। চাহিদার শীর্ষে থাকা প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফলমূলসহ বেশ কিছু ভোগ্যপণ্যে ভারতের পক্ষ থেকে রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা থানায় সেগুলিও পাঠানো যাচ্ছে না। এতে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।
‘বর্তমানে এ বন্দর দিয়ে সিমেন্ট, এলপি গ্যাস ও গুঁড়া পাথরসহ হাতেগোনা কয়েকটি পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। অথচ আগে কয়লা, ঢেউটিন, সিমেন্ট শিট, পিভিসি কম্পাউন্ড, প্লাস্টিকের দরজা, ইট ভাঙার মেশিন, ধান মাড়াই কল, কোমল পানীয় এবং ভোগ্যপণ্যসহ অর্ধশতাধিক পণ্য রপ্তানি করা হতো’
বন্দর সূত্রমতে, গত এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত আমদানি হয়েছে চার লাখ ৫৩ হাজার ২৯০ টাকার পণ্য। সেখানে রপ্তানি হয়েছে দুই লাখ ৩৩ হাজার ৪৭৩ টাকার পণ্য। তবে দুদেশের নাগরিকদের আসা-যাওয়া চলছে অনেকটাই সমান তালে। গত তিন মাসে এ বন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করেছেন পাঁচ হাজার ৫২১ জন ভারতীয়। আর ভারতে ঢুকেছেন পাঁচ হাজার ১৭৯ জন।
বর্তমানে এ বন্দর দিয়ে সিমেন্ট, এলপি গ্যাস ও গুঁড়া পাথরসহ হাতেগোনা কয়েকটি পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। অথচ আগে এ বন্দর দিয়ে কয়লা, ঢেউটিন, সিমেন্ট শিট, পিভিসি কম্পাউন্ড, প্লাস্টিকের দরজা, ইট ভাঙার মেশিন, ধান মাড়াই কল, কোমল পানীয় এবং ভোগ্যপণ্যসহ অর্ধশতাধিক পণ্য রপ্তানি করা হতো। একই পথে ভারত থেকে বাংলাদেশে আমদানি হতো অন্তত ৪০-৪৫টি পণ্য। প্রতিদিন অন্তত ৬০-৭০টি ট্রাক পণ্য আমদানি-রপ্তানি হতো।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘কয়েক বছর আগে দেখেছি, বন্দর এলাকায় সড়কের পাশে গাড়ির দীর্ঘলাইন। দোকানপাটে ছিল মানুষের হাঁকডাক। এখন গাড়ির সারি আর মানুষের ভিড় কোনোটাই দেখা যায় না। গাড়িতে স্থানীয় যারা মালামাল লোড-আনলোড করতেন তারাও বেকার। বন্দর গেটে গেলে মনে হয় পরিত্যক্ত স্থাপনা পড়ে আছে।’
‘৫ আস্টের পর প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য (চিপস, স্ন্যাকস, কনফেকশনারি, বেকারি পণ্য), তুলা ও সুতার বর্জ্য, প্লাস্টিক, পিভিসি পাইপ, ফার্নিচার, ফল, ফলের ফ্লেভারের পানীয় ও কোমল পানীয় রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এরপরই মূলত বন্দরে স্থবিরতা নেমে আসে’
বিবিরবাজার স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জামাল আহম্মদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘অবকাঠামো উন্নয়ন, পর্যাপ্ত জনবল, ডিজিটাল স্কেলিং, পার্কিং ব্যবস্থা এবং পর্যান্ত নিরাপত্তাসহ সবকিছু ঠিকঠাক রয়েছে। তবে বর্তমানে এ বন্দর দিয়ে মাত্র ৪০-৪৫টি পণ্য আমদানির অনুমতি রয়েছে। এটি বাড়ানো দরকার। বাংলাদেশি যেসব পণ্য রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তাও প্রত্যাহার করা প্রয়োজন।’
কথা হয় বিবিরবাজার স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক মো. সাইদুর রহমান ভূঁইয়ার সঙ্গে। তিনি জাগো নিউজকে জানান, ৫ আস্টের পর প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য (চিপস, স্ন্যাকস, কনফেকশনারি, বেকারি পণ্য), তুলা ও সুতার বর্জ্য, প্লাস্টিক, পিভিসি পাইপ, ফার্নিচার, ফল, ফলের ফ্লেভারের পানীয় ও কোমল পানীয় রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এরপরই মূলত বন্দরে স্থবিরতা নেমে আসে।
তিনি বলেন, ‘গত তিন মাসে এ বন্দর দিয়ে মাত্র ২৩ ট্রাক ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশে এসেছে। একই সময়ে ভারতে গেছে ৭৩২ ট্রাক পণ্য। এর মধ্যে ৯০ শতাংশই সিমেন্ট। আগের মতো এখন গাড়ি আসে না।’
দুদেশের কর্তব্যক্তিদের আলোচনা এবং এ বন্দর দিয়ে আগে যেসব পণ্য আমদানি-রপ্তানি হতো, তা পুনরায় চালু হলে বন্দর আবারও সচল হবে বলে মনে করে দায়িত্বপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তা।
জেডআইপি/এসআর/এএসএম
What's Your Reaction?



