তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে আরও ২ মাস সময়

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় ১৭ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঢাকা-৫ আসনের সাবেক এমপি কাজী মনিরুল ইসলাম মনুসহ আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে আরও দুই মাস সময় পেয়েছে প্রসিকিউশন। আগামী ৪ অক্টোবর এ প্রতিবেদন জমার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। সোমবার (৩ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ নির্দেশ দেন। প্যানেলের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। তিনি এ মামলার অগ্রগতি তুলে ধরে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময়ের আবেদন করেন। পরে তার আবেদনটি মঞ্জুর করে আগামী ৪ অক্টোবরের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেন আদালত। এদিন সকালে সাবেক এমপি মনুসহ চারজনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। অন্য আসামিরা হলেন— যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শফিকুল ইস

তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে আরও ২ মাস সময়
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় ১৭ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঢাকা-৫ আসনের সাবেক এমপি কাজী মনিরুল ইসলাম মনুসহ আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে আরও দুই মাস সময় পেয়েছে প্রসিকিউশন। আগামী ৪ অক্টোবর এ প্রতিবেদন জমার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। সোমবার (৩ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ নির্দেশ দেন। প্যানেলের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। তিনি এ মামলার অগ্রগতি তুলে ধরে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময়ের আবেদন করেন। পরে তার আবেদনটি মঞ্জুর করে আগামী ৪ অক্টোবরের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেন আদালত। এদিন সকালে সাবেক এমপি মনুসহ চারজনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। অন্য আসামিরা হলেন— যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম খান ও যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ মুন্না। প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৯ ও ২০ জুলাই যাত্রাবাড়ীতে ১৭ জনকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত চলছে। গত ২২ জুলাই এই চারজনের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করেন ট্রাইব্যুনাল-২। এরই ধারাবাহিকতায় তাদের আজ এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মুগ্ধ হত্যা মামলা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর উত্তরায় মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ কয়েকজনকে হত্যার ঘটনায় সাবেক এমপি হাবিব হাসানসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ২০ আগস্ট দিন ঠিক করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনল। ট্রাইব্যুনালে গতকাল ডিসচার্জ চেয়ে শুনানি করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। এ মামলায় নিজেদের মক্কেলদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই দাবি করে অব্যাহতি চান তারা। টানা তিন কার্যদিবসে তাদের এ শুনানি হয়। শুনানি শেষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশের জন্য সময় চায় প্রসিকিউশন। পরে আগামী ২০ আগস্ট দিন ধার্য করেন আদালত। প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, তারেক আবদুল্লাহ, শাইখ মাহদী, মঈনুল করিম, মামুনুর রশিদ, জহিরুল আমিনসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর। এদিন সকালে এ মামলায় গ্রেপ্তার আট আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন— ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মির্জা সালাহউদ্দিন, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক ওসি মো. মজিবুর রহমান, আজমপুর পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক কনস্টেবল মো. হোসেন আলী, উত্তরা পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোয়ার ইসলাম চৌধুরী রবিন, যুবলীগ সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন রুবেল, আওয়ামী লীগ নেতা মো. সোহেল রানা, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি মো. শাহ আলম ও তুরাগ থানা এলাকার আওয়ামী লীগ কর্মী মো. ইরফানুল হক গাজী। পলাতকরা হলেন—ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হাবিব হাসান, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার কাজী আশরাফুল আজীম, উত্তরা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. তোহিদুল ইসলাম, উত্তরা বিভাগের সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার সুমন কর, উত্তরা পশ্চিম থানার সাবেক ওসি বিএম ফরমান আলী, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশনস) মাহমুদুল হাসান, উত্তরা পূর্ব থানার  সাবেক কনস্টেবল মো. আবু ছায়েম, আওয়ামী লীগ নেতা মো. আলাউদ্দিন আল সোহেল, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন, সাবেক কাউন্সিলর মো. ফরিদ আহমেদ, সাবেক কাউন্সিলর ডিএম. শামীম, সাবেক কাউন্সিলর মো. আনিছুর রহমান নাঈম, সাবেক কাউন্সিলর মো. আফছার উদ্দিন খান, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক এসআই খালেদ আনোয়ার, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক এএসআই মো. রোকনুজ্জামান, উত্তরা পশ্চিম থানা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মুরতাফা বিন ওমর ও তুরাগ থানা আওয়ামী লীগের যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন। এর আগে, ২১ জুলাই ২৬ আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আবেদন জানিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শেষ করে প্রসিকিউশন। ওই দিন এ মামলায় আনা দুটি অভিযোগ পড়ে শোনান প্রসিকিউটর তামিম। একইসঙ্গে ঘটনার বীভৎসতা ও মুগ্ধসহ অন্যদের হত্যার বর্ণনা তুলে ধরেন। এছাড়া একই দিন নিজের মক্কেলদের ডিসচার্জ চান স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী আমির হোসেন ও এম হাসান ইমাম। প্রসিকিউশনের প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ঢাকা মহানগরের উত্তরা এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও আশপাশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) এমবিএ শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ সাতজনকে হত্যা করা হয়। তাদের মধ্যে উবারচালক মোখলেছুর রহমান ওরফে দুর্জয়কে পুলিশের এপিসির চাকায় পিষ্ট করে হত্যার পর মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে তুরাগ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। একই ঘটনায় মেহেদী হাসানসহ পাঁচজনকে হত্যাচেষ্টার উদ্দেশ্যে গুলি করে গুরুতর জখম করার অভিযোগ রয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে অনুযায়ী ১৯ জুলাই একই এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর পুনরায় নির্বিচারে গুলি চালিয়ে রিদোয়ান শরীফ রিয়াদ জয়সহ চারজনকে হত্যা করা হয়। এছাড়া রাইসুল রহমান রাতুলকে হত্যাচেষ্টার উদ্দেশ্যে গুলি করে গুরুতর আহত করা হয়। দুটি অভিযোগেই এসব ঘটনাকে পরিকল্পিত, ব্যাপক ও পদ্ধতিগতভাবে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে প্রসিকিউশন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow