তলিয়ে গেছে কিশোরগঞ্জের ৯ হাজার হেক্টর জমির ফসল
কিশোরগঞ্জে টানা অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ঢুকছে পানি। নতুন করে ডুবেছে আরও ২ হাজার হেক্টর বোরো ধান। এখন পর্যন্ত ৯ হাজার ৪৫ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ২১ হাজার কৃষক। শনিবার (২ মে) বিকেলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ইটনা উপজেলার হাওরাঞ্চলে। সেখানে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমির ধান পানির নিচে চলে গেছে। টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে হাওরের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় হাজার হাজার হেক্টর জমির পাকা ধান ডুবে গেছে। কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চামড়াঘাটে মগড়া নদীর পানি ১০ সেন্টিমিটার বেড়েছে। অষ্টগ্রামে কালনী নদীর পানি ১৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ভৈরব বাজার পয়েন্টে মেঘনা নদীর পানি কিছুটা কমে ১.৮০ মিটারে নেমেছে, যা গতকালের তুলনায় ৭ সেন্টিমিটার কম। এদিকে পানি বাড়ায় ধান কাটতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকরা। গতকাল কিছুটা রোদ থাকলেও আজ সারাদিন বৃষ্টির কারণে খলায় রাখা ধান শুকাতে পারছেন না তারা। এতে ধ
কিশোরগঞ্জে টানা অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ঢুকছে পানি। নতুন করে ডুবেছে আরও ২ হাজার হেক্টর বোরো ধান। এখন পর্যন্ত ৯ হাজার ৪৫ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ২১ হাজার কৃষক।
শনিবার (২ মে) বিকেলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ইটনা উপজেলার হাওরাঞ্চলে। সেখানে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমির ধান পানির নিচে চলে গেছে। টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে হাওরের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় হাজার হাজার হেক্টর জমির পাকা ধান ডুবে গেছে।
কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চামড়াঘাটে মগড়া নদীর পানি ১০ সেন্টিমিটার বেড়েছে। অষ্টগ্রামে কালনী নদীর পানি ১৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ভৈরব বাজার পয়েন্টে মেঘনা নদীর পানি কিছুটা কমে ১.৮০ মিটারে নেমেছে, যা গতকালের তুলনায় ৭ সেন্টিমিটার কম।
এদিকে পানি বাড়ায় ধান কাটতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকরা। গতকাল কিছুটা রোদ থাকলেও আজ সারাদিন বৃষ্টির কারণে খলায় রাখা ধান শুকাতে পারছেন না তারা। এতে ধানে চারা গজানো ও পচন ধরার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জেলার নিকলী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোর ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩৬ মিলিমিটার এবং দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত আরও ১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
করিমগঞ্জ উপজেলার কৃষক মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, তিন লাখ টাকা ধার দেনা করে ৬ একর জমি করেছিলেন এবার। কিন্তু টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তলিয়ে গেছে সব ফসল। ফসল হারিয়ে তিনি এখন দিশেহারা।
কৃষক রুস্তম আলী বলেন, তার চাষ করা ৫ একর জমির অর্ধেকই তলিয়ে গেছে। বাকি অর্ধেক কাটতে পারলেও টানা বৃষ্টির কারণে ধান শুকাতে পারছেন না। বেশিরভাগ ধানে চারা গজিয়ে পচন ধরেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, টানা তিন দিনের অব্যাহত বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ইটনা উপজেলায়। সেখানে প্রায় ২ হাজার ৭৬৮ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। এছাড়া অষ্টগ্রাম হাওরে তলিয়েছে প্রায় ১ হাজার ৯০০ হেক্টর জমি।
তিনি আরও বলেন, মিঠামইন, করিমগঞ্জ ও নিকলী উপজেলার হাওরগুলোতেও পানি ঢুকে ধান তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, জেলার সব নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিভিন্ন পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১০৯ থেকে ৪০০ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে পানি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগাম ক্ষতি এড়াতে কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হাওর পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে তাদের বিষয়ে সরকারকে অবহিত করা হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা যাতে সরকারি সহায়তার আওতায় আসে সে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।
What's Your Reaction?