তারেক রহমানের সিলেট সফর ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি বিএনপির
দীর্ঘ দুই দশক পর বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) শ্বশুরবাড়ি সিলেটে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সিলেট সফরকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি প্রায় শেষ করেছে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি। দেশে ফেরার পর ঢাকার বাইরে এটিই হবে তার প্রথম সফর। এছাড়া হজরত শাহজালাল (র.) মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রমের সূচনা করবেন তিনি। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও সিলেটের মাজার জিয়ারতের মাধ্যমেই নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতেন। এবার সেখান থেকেই সিলেট ও সুনামগঞ্জের ১১টি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তারেক রহমানকে বরণ এবং আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের জনসভা সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সিলেট বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন। সিলেটের ওই জনসভা থেকেই দলের নির্বাচনী প্রচারণার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে। তার আগমনে পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন আর মাইকিংয়ে নগরী ও আশপাশের এলাকা ছেয়ে গেছে। দীর্ঘদিন পর দলের শীর্ষ নেতার আগমনকে কেন্দ্র করে সিলেট বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উচ্ছ্বাস ও ব্যস্ততা। জনসভাকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি কর্মযজ্ঞ চলছে মূল মঞ্চ
দীর্ঘ দুই দশক পর বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) শ্বশুরবাড়ি সিলেটে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সিলেট সফরকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি প্রায় শেষ করেছে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি। দেশে ফেরার পর ঢাকার বাইরে এটিই হবে তার প্রথম সফর।
এছাড়া হজরত শাহজালাল (র.) মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রমের সূচনা করবেন তিনি। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও সিলেটের মাজার জিয়ারতের মাধ্যমেই নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতেন। এবার সেখান থেকেই সিলেট ও সুনামগঞ্জের ১১টি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তারেক রহমানকে বরণ এবং আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের জনসভা সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সিলেট বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন। সিলেটের ওই জনসভা থেকেই দলের নির্বাচনী প্রচারণার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে। তার আগমনে পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন আর মাইকিংয়ে নগরী ও আশপাশের এলাকা ছেয়ে গেছে। দীর্ঘদিন পর দলের শীর্ষ নেতার আগমনকে কেন্দ্র করে সিলেট বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উচ্ছ্বাস ও ব্যস্ততা।
জনসভাকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি কর্মযজ্ঞ চলছে মূল মঞ্চ নির্মাণকে কেন্দ্র করে। বিশাল আয়তনের স্টেজ তৈরির কাজ দিনরাত এগিয়ে নিচ্ছেন কর্মীরা। আলোকসজ্জা, সাউন্ড সিস্টেম ও দর্শনার্থীদের বসার ব্যবস্থা সাজানো হচ্ছে পরিকল্পিতভাবে। নেতাকর্মীদের লক্ষ্য, জনসভাস্থলকে জনসমুদ্রে পরিণত করা। বিএনপির প্রথম নির্বাচনী জনসভায় অন্তত ৭/৮ লাখ মানুষের সমাগম ঘটিয়ে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির জানান দিতে চায় বিএনপি। এ লক্ষ্যে স্থানীয় নেতাকর্মীরা সভা-সমাবেশ, প্রচার-প্রচারণা ও বৈঠকসহ নানা কার্যক্রম শেষ করেছেন তারা।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বোম ডিসপোজাল ইউনিট মঞ্চ ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা তল্লাশি চালায়। জনসভাস্থল, পুরো মাঠ ও এয়ারপোর্ট, হজরত শাহজালাল (রহ.), হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার, চৌহাট্টাসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বিএনপি দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২২ জানুয়ারি সিলেটের জনসভা থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হবে বিএনপির। এর আগের দিন সন্ধ্যায় আকাশপথে সিলেটে পৌঁছাবেন তারেক রহমান। পরে রাত ৮টায় হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.) এর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করবেন তিনি। এছাড়া তিনি শ্বশুরবাড়ি বাড়ি দেখতে রাতে যাবেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় নগরীর চৌহাট্টা এলাকার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে প্রধান অতিথি হিসেবে জনসভায় বক্তব্য দেবেন। এই জনসভায় বিএনপির নেতারা, সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন।
দলীয় সূত্র আরও জানা যায়, সিলেটের জনসভা শেষ করে তারেক রহমান সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। ফেরার পথে তিনি মৌলভীবাজারের শেরপুর ও হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে আরও দুটি পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন। এসব সভায় সংশ্লিষ্ট জেলার সংসদ সদস্য প্রার্থীদের তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেবেন।
তারেক রহমানের এই সফরকে ঘিরে সিলেট নগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ব্যাপক শোডাউন করার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। বিশেষ করে তিনি যেসব পথ দিয়ে যাতায়াত করবেন, সেই সব রাস্তার দুই পাশে বিপুল মানুষের উপস্থিতির মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দলের নেতারা।
সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, আমাদের বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিলেট আগমন উপলক্ষ্যে দলীয় নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উচ্ছ্বাস উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আমরা প্রচারণা লিফলেট বিতরণে গেলে মানুষ বলছে লিফলেট লাগবে না। আমরা নিজ দায়িত্বেই সভায় যাব। সাধারণ মানুষ আমাদের নেতাকে কীভাবে গ্রহণ করছে সেটা ২২ তারিখ মানুষের জনসমাগম দেখলেই বুঝা যাবে। সিলেটের প্রতিটি জায়গা থেকে সবাই নেতার বক্তব্য শুনবে। অন্তত দুই বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে লোকে লোকারণ্য থাকবে।
সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, আমাদের দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিলেট আসছেন। সিলেটের মানুষ ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে তাকে বরণ করার অপেক্ষায় রয়েছেন। আমার বিশ্বাস সমাবেশের আগের রাতেই আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ মানুষে ভরে যাবে। সকাল হলে লোকে লোকারণ্য হবে পুরো সিলেট।
সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী কালবেলাকে বলেন, ইতোমধ্যে সমাবেশ মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। সাউন্ড সিস্টেম সেটআপ করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সমাবেশে সর্বস্তরের জনসাধারণকে অংশগ্রহণের জন্য মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে প্রচারপত্র বিলি করা হচ্ছে। অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন প্রচার মিছিল করেছে। আমাদের নেতার সিলেট আগমন উপলক্ষে দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা রয়েছে। তারেক রহমান মানুষের মুক্তির আন্দোলনে ধারাবাহিক নেতৃত্ব প্রদানের মাধ্যমে মানুষের আস্থা এবং বিশ্বাস অর্জন করেছেন। আমরা আশা করছি, যে মাঠে মেজর জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বক্তব্য রেখেছেন, সেই একই মাঠে তারেক রহমানের জনসভা লোকে লোকারণ্য হবে।
প্রস্তুতির বিষয়ে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান আগামী ২২ জানুয়ারি সিলেট আসছেন। আমরা সিলেটবাসী ও দলের নেতাকর্মী অত্যন্ত আনন্দিত। কারণ কাছ থেকে সিলেটবাসী আমাদের নেতাকে দেখতে পাবে। আমাদের নেতার আগমন উপলক্ষে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা, বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরাসহ সকলে মিলে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। এ সভাটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অতীতের রেওয়াজ অনুযায়ী আমাদের নেতা হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.) এর মাজার জিয়ারত শেষে নির্বাচনী জনসভার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করবেন। আমাদের নেতা সিলেটের সঙ্গে আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ। তিনি সিলেটবাসীকে অত্যন্ত সম্মান-স্নেহ করেন, ভালোবাসেন। সিলেটের মানুষরাও অতিথিপরায়ণ। আমরা সেভাবেই নেতাকে বরণ করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও সিলেট-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, আমাদের প্রস্তুতি শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। আমরা জনসংযোগ করছি। অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় ২২ তারিখের জনসভায় জনসমাগম বেশি হবে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী কালবেলাকে বলেন, আমাদের নেতা বিএনপির চেয়ারম্যান হওয়ার পর সিলেটের জনসভায় যোগদানই তার প্রথম সভা। সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন জায়গা থেকে আমাদের দলের নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সভায় যোগদান করবেন। পাশাপাশি সাধারণ জনতার মাঝে আমরা যে প্রাণ চাঞ্চল্য দেখতে পাচ্ছি তাতে আমরা মনে করি পুরো শহরই সেদিন একটি সভাস্থলে পরিণত হবে। ইতোমধ্যে আমরা প্রশাসনের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছি। প্রশাসনও এ ব্যাপারে নজরদারি করছে। সবকিছু মিলিয়ে তাকে বরণ ও সমাবেশকে সফল করার জন্য আমরা সিলেটবাসী প্রস্তুত।
তিনি আরও বলেন, আমরা ধারণা করছি ৭ থেকে ৮ লাখ মানুষের সমাগম হতে পারে এই জনসভায়। পাশাপাশি এখান থেকে সারা দেশে একটি বার্তা যাবে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বিএনপি যদি সরকার গঠন করে তাহলে বিএনপি কিভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে সে বিষয়ে একটা নির্দেশনা থাকবে এবং ভোটের ব্যাপারেও নির্দেশনা থাকবে। যেহেতু এই সভা থেকেই নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হচ্ছে তাই এই জনসভাটি অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করছে।
এদিকে তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও এবং সমাবেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিলেট আগমন ও জনসভাকে কেন্দ্র করে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে নগরীর বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ টিম কাজ শুরু করেছে। কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় থাকবে। যখন যে জায়গায় যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু পুলিশ মোতায়েন করা হবে।
What's Your Reaction?