তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত সোনারগাঁ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ২৪ ঘণ্টায় বিদ্যুৎ মিলছে মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা। লোডশেডিংয়ের ফলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা এবং কৃষি অর্থনীতি প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ সংকটের সবচেয়ে বড় ও ভয়ংকর থাবা পড়েছে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ডে। সোনারগাঁয়ে বিদ্যুৎনির্ভর ছোট-বড় সকল কলকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ক্ষমতা অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। বিকল্প হিসেবে জেনারেটর ব্যবহার করছেন শিল্প উদ্যোক্তারা। কাঁচপুর ইউনিয়নের বাইশটেকি এলাকার চাকরিজীবী মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, কাঁচপুরের মতো এত বড় শিল্প এলাকায় মানুষ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাবে, এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ঘরে থাকাই দায়, প্রচণ্ড গরমে রাতের পর রাত নির্ঘুম কাটাতে হয়। ছোট বাচ্চা আর বয়স্ক বাবা-মাকে নিয়ে আমরা এক নরকবাসের মধ্যে আছি। দিনের বেলায় অফিস বা কাজকর্মে গিয়েও শান্তি নেই, আর বাসায় ফিরলে লোডশেডিংয়ে জীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। পিরোজপুর ইউনিয়নের জৈনপুর গ্রামের প্রান্তিক কৃষক আব্দুল মতিন বলেন, গরমে আমরা অতিষ্ঠ। বিদ্যুৎ একবার চলে গেলে আর আসার নামই নেয়

তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত সোনারগাঁ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ২৪ ঘণ্টায় বিদ্যুৎ মিলছে মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা। লোডশেডিংয়ের ফলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা এবং কৃষি অর্থনীতি প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

বিদ্যুৎ সংকটের সবচেয়ে বড় ও ভয়ংকর থাবা পড়েছে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ডে। সোনারগাঁয়ে বিদ্যুৎনির্ভর ছোট-বড় সকল কলকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ক্ষমতা অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। বিকল্প হিসেবে জেনারেটর ব্যবহার করছেন শিল্প উদ্যোক্তারা।

কাঁচপুর ইউনিয়নের বাইশটেকি এলাকার চাকরিজীবী মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, কাঁচপুরের মতো এত বড় শিল্প এলাকায় মানুষ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাবে, এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ঘরে থাকাই দায়, প্রচণ্ড গরমে রাতের পর রাত নির্ঘুম কাটাতে হয়। ছোট বাচ্চা আর বয়স্ক বাবা-মাকে নিয়ে আমরা এক নরকবাসের মধ্যে আছি। দিনের বেলায় অফিস বা কাজকর্মে গিয়েও শান্তি নেই, আর বাসায় ফিরলে লোডশেডিংয়ে জীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে।

পিরোজপুর ইউনিয়নের জৈনপুর গ্রামের প্রান্তিক কৃষক আব্দুল মতিন বলেন, গরমে আমরা অতিষ্ঠ। বিদ্যুৎ একবার চলে গেলে আর আসার নামই নেয় না। এক বিঘা জমিতে শখ করে সবজি চাষ করেছিলাম, কিন্তু সময়ের মাপে সেচ দিতে না পেরে চোখের সামনে ফসল শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। দিনে-রাতে মিলিয়ে চার ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পাই না।

বারদী ইউনিয়নের শান্তির বাজার এলাকার অটোরিকশাচালক কাশেম মিয়া বলেন, অটোরিকশার সামান্য আয়েই আমার কোনোমতে সংসার চলে। কিন্তু দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকমতো গাড়ি চার্জই দিতে পারছি না। গ্যারেজে বসে থাকতে থাকতে দিনে আয় নেমেছে তলানিতে। বউ-বাচ্চাকে দুবেলা দুমুঠো ভাত খাওয়ানোই আজ অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

মোগরাপাড়া ইউনিয়নের দমদমা এলাকার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাব্বি জানায়, সামনেই এসএসসি পরীক্ষা। কিন্তু এমনও দিন যায়, পুরো রাতে এক ফোঁটাও বিদ্যুৎ থাকে না। গরমে ঘেমে নেয়ে মোমবাতির আলোয় পড়াশোনা করা তো দূরের কথা, টেবিলে বই নিয়ে টিকে থাকাই দায়।

নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ (সোনারগাঁ জোনাল অফিস) এর উপমহাব্যবস্থাপক খোরশেদ আলম বলেন, চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন না থাকায় বাধ্য হয়ে লোডশেডিং দিচ্ছে। জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এ সংকট কাটবে না। আশা করা যায়, শিগগির এ সমস্যার সমাধান করা হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow