ত্যাগেই সীমাবদ্ধ জবি, প্রাপ্তির খাতা আজও শূন্য
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজধানীর পুরান ঢাকার রাজপথে অন্যতম প্রথম সারির শক্তি হিসেবে ভূমিকা পালন করেছিলেন। আন্দোলনের সূচনা থেকে শুরু করে শাহবাগ, গুলিস্তান, সচিবালয়, তাঁতীবাজার, ভিক্টোরিয়া পার্ক, লক্ষ্মীবাজার এবং ‘ঢাকা চলো’ কর্মসূচি প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পর্বে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের সক্রিয় উপস্থিতি ছিল। তবে আন্দোলনের দুই বছর পরও বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রাপ্তি, বিচার এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সমন্বয়ক ও আহ্বায়ক মাসুদ রানা। জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা ও পরবর্তী বাস্তবতা নিয়ে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ত্যাগের বিচারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম শীর্ষ অবস্থানে থাকলেও প্রাপ্তির খাতা এখনো প্রায় শূন্য। দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ, আন্দোলনে হামলার বিচার, বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ, কোনো ক্ষেত্রেই প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজধানীর পুরান ঢাকার রাজপথে অন্যতম প্রথম সারির শক্তি হিসেবে ভূমিকা পালন করেছিলেন। আন্দোলনের সূচনা থেকে শুরু করে শাহবাগ, গুলিস্তান, সচিবালয়, তাঁতীবাজার, ভিক্টোরিয়া পার্ক, লক্ষ্মীবাজার এবং ‘ঢাকা চলো’ কর্মসূচি প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পর্বে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের সক্রিয় উপস্থিতি ছিল।
তবে আন্দোলনের দুই বছর পরও বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রাপ্তি, বিচার এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সমন্বয়ক ও আহ্বায়ক মাসুদ রানা।
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা ও পরবর্তী বাস্তবতা নিয়ে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ত্যাগের বিচারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম শীর্ষ অবস্থানে থাকলেও প্রাপ্তির খাতা এখনো প্রায় শূন্য। দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ, আন্দোলনে হামলার বিচার, বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ, কোনো ক্ষেত্রেই প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
লাইব্রেরির মানববন্ধন থেকেই আন্দোলনের সূচনা
মাসুদ রানা বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনের শুরুটা হয়েছিল খুবই ছোট পরিসরে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে মাত্র পাঁচজন শিক্ষার্থীর মানববন্ধনের মাধ্যমে আন্দোলনের সূচনা হয়। এরপর ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়তে থাকে।
২ ও ৩ জুলাই ক্যাম্পাসে মিছিল হয়। ৪ জুলাই প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে তাঁতীবাজার মোড়ে অবস্থান নেন। এর মধ্য দিয়েই আন্দোলন রাজধানীর পুরান ঢাকার রাজপথে ছড়িয়ে পড়ে।
গুলিস্তান ও সচিবালয় অবরোধ, গঠিত হয় গোপন সমন্বয়ক দল
৮ জুলাই জবির শিক্ষার্থীরা গুলিস্তান মোড় এবং সচিবালয়ের সামনের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন। এরপর ১১ জুলাই তারা শাহবাগের কেন্দ্রীয় আন্দোলনে যোগ দেন।
পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ওই কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং আন্দোলনের গতি আরও তীব্র হয়ে ওঠে। - সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ
আন্দোলনকে আরও সুসংগঠিত করতে এ সময় একটি ‘সিক্রেট টিম’ বা গোপন সমন্বয়ক দল গঠন করা হয়। আন্দোলনের কর্মসূচি, কৌশল এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সমন্বয়ক দল কাজ করত বলে জানান মাসুদ রানা।
বঙ্গভবন অভিমুখে বিশাল মিছিল
১৩ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক এবং বাংলাদেশের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন। এরপর ১৪ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে বঙ্গভবন অভিমুখে একটি বিশাল মিছিল বের হয়, যা সে সময়কার অন্যতম বড় মিছিল হিসেবে উল্লেখ করেন মাসুদ রানা।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ওই কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং আন্দোলনের গতি আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
হলের তালা ভেঙে ছাত্রীরা আন্দোলনে যোগ দেন
জুমার নামাজের পর লক্ষ্মীবাজার এলাকায় পুলিশের গুলিতে প্রায় সাতজন নিহত হন। ওই দিনের ঘটনা পুরান ঢাকার মানুষের কাছে এখনো এক বিভীষিকাময় স্মৃতি হয়ে আছে। - সমন্বয়ক মাসুদ রানা
১৫ জুলাই দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের তালা ভেঙে ছাত্রীরা আন্দোলনে যোগ দেন। মাসুদ রানা বলেন, এটি ছিল আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়, কারণ নারী শিক্ষার্থীদের সরাসরি অংশগ্রহণ আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দেয়।
একই দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে জবি শিক্ষার্থীরা হামলার শিকার হন। এ সময় সমন্বয়ক নুরুন্নবীসহ অনেক শিক্ষার্থী আহত হন।
১৬ জুলাই প্রতিরোধ, গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থীরা
১৬ জুলাই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তবে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে আওয়ামী লীগ কর্মীদের গুলিতে নাসিমসহ অন্তত চারজন শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হন বলে জানান মাসুদ রানা।
তার দাবি, ওই দিনের ঘটনাই আন্দোলনের সবচেয়ে সহিংস অধ্যায়গুলোর একটি ছিল। ১৮ জুলাই পুলিশ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচজন শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করে। পরদিন ১৯ জুলাই ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকায় পুলিশের কঠোর অবস্থানের মধ্যেও শিক্ষার্থীরা মিছিল করার চেষ্টা করেন। এ সময় সমন্বয়ক নুরুন্নবীকে গ্রেফতার করা হয়।
মাসুদ রানা বলেন, জুমার নামাজের পর লক্ষ্মীবাজার এলাকায় পুলিশের গুলিতে প্রায় সাতজন নিহত হন। তার ভাষায়, ওই দিনের ঘটনা পুরান ঢাকার মানুষের কাছে এখনো এক বিভীষিকাময় স্মৃতি হয়ে আছে।
বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ, তবুও থামেনি আন্দোলন
জুলাইয়ের শেষ দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক হল বন্ধ ঘোষণা করা হলেও আন্দোলন থেমে থাকেনি। মাসুদ রানা বলেন, শিক্ষার্থীরা তখন শাহবাগ, শহীদ মিনার, হাইকোর্টসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে চলমান কর্মসূচিতে অংশ নিতে থাকেন।
৪ আগস্ট পুনরায় ক্যাম্পাসে কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করলে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের হামলার মুখে পড়তে হয়। তবে ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সাদা দল’ সমর্থিত শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।
৫ আগস্ট ‘ঢাকা চলো’ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে গণভবন অভিমুখে অংশ নেন।
পুরান ঢাকার দুর্গ গড়ে তুলেছিল
মাসুদ রানার ভাষ্য অনুযায়ী, আন্দোলনের শুরু থেকেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পুরান ঢাকার নয়াবাজার, তাঁতীবাজার, রায়সাহেব বাজার, সদরঘাট, বাবুবাজার ব্রিজসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোতে অবস্থান নেন।
তার দাবি, এসব এলাকায় অবস্থানের কারণে সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের চলাচলে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছিল।
তিনি বলেন, পুরান ঢাকার আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ‘তারা ফ্রন্টলাইন যোদ্ধার ভূমিকা পালন করেছেন। আমরা অপেক্ষা করতাম, কখন জবি থেকে বড় মিছিল আসবে’
মাসুদ রানা বলেন, সম্প্রতি এক আলোচনা সভায় সরকারের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, আন্দোলনের সময় তারা অপেক্ষা করতেন কখন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি বড় মিছিল আসবে।
তবে মাসুদ রানার মতে, এ প্রশংসা কেবল মৌখিক পর্যায়েই সীমাবদ্ধ।
‘ত্যাগে এগিয়ে, প্রাপ্তিতে শূন্য’
মাসুদ রানা বলেন, শহীদ ও আহতের সংখ্যার বিচারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকারকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি। কিন্তু সেই ত্যাগের তুলনায় বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রাপ্তি প্রায় শূন্য।
তার অভিযোগ, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান যথাযথ মূল্যায়ন করেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশীজনদের সঙ্গে কার্যকর কোনো সংলাপও হয়নি।
নাহিদ ইসলামের বক্তব্যকে ‘মায়া কান্না’ আখ্যা
নাহিদ ইসলাম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় বঞ্চিত হয় বলে মন্তব্য করলেও মাসুদ রানা সেটিকে ‘মায়া কান্না’ বলে অভিহিত করেন।
বর্তমান সরকারের কিছু উপদেষ্টার সম্পদের উৎস তদন্ত করা উচিত। তার ভাষায়, যারা একসময় নিঃস্ব ছিলেন, তারা এখন বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন- এ বিষয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
তার ভাষ্য, যিনি এখন সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন, তার পক্ষে শুধু সহানুভূতি প্রকাশ না করে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব ছিল।
দুর্নীতির অভিযোগ ও তদন্তের দাবি
মাসুদ রানা অভিযোগ করেন, অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা। কিন্তু বর্তমানে দুর্নীতি ও লুটপাটের অভিযোগ সামনে আসছে।
বর্তমান সরকারের কিছু উপদেষ্টার সম্পদের উৎস তদন্ত করা উচিত। তার ভাষায়, যারা একসময় নিঃস্ব ছিলেন, তারা এখন বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন- এ বিষয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। - জবির সাবেক সমন্বয়ক ও আহ্বায়ক মাসুদ রানা
দ্বিতীয় ক্যাম্পাস সেনাবাহিনীর হাতে দেওয়ার দাবি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে আবাসন সমস্যার কথা তুলে ধরে মাসুদ রানা বলেন, দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সেনাবাহিনীর হাতে দিতে হবে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে কাজ হলে আগামী দু-তিন বছরের মধ্যে শিক্ষার্থীরা নতুন ক্যাম্পাসে যেতে পারবেন।
অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি
তিনি বলেন, বর্তমান ক্যাম্পাসের অনেক ভবন ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ। প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র ৬০ থেকে ৭০ আসনের একটি ক্যান্টিন রয়েছে, যা অত্যন্ত অপ্রতুল। তাই আধুনিক ক্যান্টিন, পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল সেন্টার এবং নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
হামলার বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ
মাসুদ রানা অভিযোগ করেন, ১৬ জুলাই এবং পরবর্তীসময়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান বিচার হয়নি। একই সঙ্গে আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া শিক্ষক ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তার ভাষায়, যারা শিক্ষার্থীদের সন্ত্রাসী বলেছিলেন, তারা শিক্ষার্থীদের অভিভাবক হওয়ার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন।
শহীদদের স্মরণে নেই কোনো স্মৃতিস্তম্ভ
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ১৯ জুলাই লক্ষ্মীবাজার এলাকায় নিহতদের স্মরণে এখনো কোনো স্মৃতিস্তম্ভ বা ‘জুলাই স্তম্ভ’ নির্মাণ করা হয়নি। ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকায় শহীদদের স্মরণে একটি স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাসের আহ্বান
মাসুদ রানা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। সেই চেতনার প্রতিফলন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও থাকতে হবে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সব মত ও আদর্শের শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষক নিয়োগ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় উন্নয়ন, অবকাঠামো, আবাসন এবং সরকারি বরাদ্দসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছে। এ কারণেই জবি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতি রাষ্ট্রের আচরণকে ‘সৎমায়ের আচরণ’ হিসেবে উল্লেখ করার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। তার দাবি, সরকার পরিবর্তন হলেও সেই বৈষম্যের বাস্তব চিত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি।
মাসুদ রানা বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। তাই অতীতের সেই বৈষম্যমূলক মনোভাব থেকে বেরিয়ে এসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা, আধুনিক একাডেমিক ভবন, ক্যান্টিন ও মেডিকেল সেন্টার নির্মাণ, আন্দোলনে আহত ও শহীদদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টির দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটাতে হবে। তাহলেই গণঅভ্যুত্থানের বৈষম্যহীন বাংলাদেশের প্রত্যাশা বাস্তবে প্রতিফলিত হবে।
এমডিএএ/এমআরএম/ এমএফএ
What's Your Reaction?




