ত্রাণের টিন ফেরত দিলেন বিএনপি নেতাসহ ৪ ব্যক্তি

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে দুস্থদের জন্য বরাদ্দ সরকারি ত্রাণের ঢেউটিন ও নগদ অর্থ পেয়েছিলেন বিএনপির এক বিত্তশালী নেতাসহ চারজন সচ্ছল ব্যক্তি।  বিষয়টি নিয়ে গত মঙ্গলবার (৫ মে) দৈনিক কালবেলার অনলাইন সংস্করণে ‘দরিদ্রদের ত্রাণের টিনে ভাগ বসালেন বিত্তশালী বিএনপি নেতা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে প্রশাসনের নির্দেশে বিএনপি নেতাসহ ওই চারজন ত্রাণের টিন ও নগদ অনুদানের টাকা ফেরত দিয়েছেন। ত্রাণ ফেরত দেওয়া ব্যক্তিরা হলেন- আদিতমারীর ভাদাই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি দধি প্রসাদ বর্মন, একই উপজেলার শংকর কুমার রায়, শামসুল হক ও গোলাপী রানী। জানা গেছে, সম্প্রতি কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সরকারিভাবে এক বান্ডিল ঢেউটিন ও তিন হাজার টাকা করে নগদ অনুদান বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ সহায়তা পেতে লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলের কাছে লিখিত আবেদন করেন ক্ষতিগ্রস্তরা। পরে প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে বিএনপি নেতা দধি প্রসাদ বর্মনসহ ওই চারজনের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়। গত রোববার (৩ মে

ত্রাণের টিন ফেরত দিলেন বিএনপি নেতাসহ ৪ ব্যক্তি
লালমনিরহাটের আদিতমারীতে দুস্থদের জন্য বরাদ্দ সরকারি ত্রাণের ঢেউটিন ও নগদ অর্থ পেয়েছিলেন বিএনপির এক বিত্তশালী নেতাসহ চারজন সচ্ছল ব্যক্তি।  বিষয়টি নিয়ে গত মঙ্গলবার (৫ মে) দৈনিক কালবেলার অনলাইন সংস্করণে ‘দরিদ্রদের ত্রাণের টিনে ভাগ বসালেন বিত্তশালী বিএনপি নেতা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে প্রশাসনের নির্দেশে বিএনপি নেতাসহ ওই চারজন ত্রাণের টিন ও নগদ অনুদানের টাকা ফেরত দিয়েছেন। ত্রাণ ফেরত দেওয়া ব্যক্তিরা হলেন- আদিতমারীর ভাদাই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি দধি প্রসাদ বর্মন, একই উপজেলার শংকর কুমার রায়, শামসুল হক ও গোলাপী রানী। জানা গেছে, সম্প্রতি কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সরকারিভাবে এক বান্ডিল ঢেউটিন ও তিন হাজার টাকা করে নগদ অনুদান বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ সহায়তা পেতে লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলের কাছে লিখিত আবেদন করেন ক্ষতিগ্রস্তরা। পরে প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে বিএনপি নেতা দধি প্রসাদ বর্মনসহ ওই চারজনের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়। গত রোববার (৩ মে) তাদের প্রত্যেকের হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। তবে সচ্ছল ব্যক্তিদের সরকারি ত্রাণ পাওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসনের নজরে আসে। সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার (৭ মে) ওই চারজনই ঢেউটিন ও নগদ অর্থ ফেরত দেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএনপি নেতা দধি প্রসাদ বর্মনের এলাকায় ছাদপেটানো দালানবাড়ি রয়েছে। শংকর কুমার রায়ের রয়েছে টিনশেড আধাপাকা বাড়ি। অন্য দুজনও আর্থিকভাবে স্বচ্ছল পরিবারের সদস্য হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে দধি প্রসাদ বর্মন বলেন, দালানবাড়িটি তার ছেলের। তার নিজের টিনশেড ঘরটি শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তিনি আবেদন করেছিলেন। পরে সরকারের সম্পদ সরকারকে ফিরিয়ে দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। শংকর কুমার রায় বলেন, অন্যদের দেখে তিনিও আবেদন করেছিলেন। পরে প্রশাসন ফেরত দিতে বললে তা ফেরত দেন। গোলাপী রানীও প্রশাসনের নির্দেশে সহায়তা ফেরত দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিধান কান্তি হালদার বলেন, ‘ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে তালিকা চূড়ান্ত করার আগে আরও সতর্কভাবে যাচাই-বাছাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, ‘বিষয়টি সামনে আসার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তারা সহায়তা ফেরত দেওয়ায় আর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তবে সতর্ক করা হয়েছে।’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow