থাইল্যান্ডি জুয়ার মূল হোতাসহ নোয়াখালীতে গ্রেপ্তার ১০

নোয়াখালীর চাটখিল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে থাইল্যান্ডি জুয়ার মূল হোতাসহ ১০ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক পলাতক আসামি, জিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি, ধর্ষণের চেষ্টা মামলার আসামি এবং মাদক কারবারি রয়েছে।  মঙ্গলবার (৩০ জুন) চাটখিল থানার বিভিন্ন স্থান এবং ঢাকার বিমানবন্দর এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে চাটখিল থানা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।   মঙ্গলবার পুলিশের একটি দল চাটখিলের পরকোট ইউনিয়নের দশঘরিয়া বাজারের একটি চায়ের দোকানে অভিযান চালায়। চাটখিল-রামগঞ্জ সড়কের পাশে অবস্থিত একটি চায়ের দোকানের ভেতরে থাইল্যান্ডি জুয়া খেলা অবস্থায় আলামতসহ ৬ জুয়াড়িকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।  গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার রাজগঞ্জের মোঃ আব্দুস ছাত্তার (৩৬), চাটখিলের পশ্চিম পরকোট এলাকার মোঃ সোহেল হোসেন (৩৫), নুর নবী (৩৪), মোঃ কবির হোসেন (৪১), ইকবাল (৪৫) ও টিপু সুলতান (২৯)।  চাটখিল উপজেলার সাধারণ মানুষ এই জুয়ার সিন্ডিকেট গ্রেপ্তার হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। আবিদ রহমান নামের স্থানীয় একজন বলেন, ‘এই থাইল্যান্ডি জুয়া বা তিন গুটি-ছয় গুটির ডিজিটাল জুয়া খেলাটা

থাইল্যান্ডি জুয়ার মূল হোতাসহ নোয়াখালীতে গ্রেপ্তার ১০
নোয়াখালীর চাটখিল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে থাইল্যান্ডি জুয়ার মূল হোতাসহ ১০ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক পলাতক আসামি, জিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি, ধর্ষণের চেষ্টা মামলার আসামি এবং মাদক কারবারি রয়েছে।  মঙ্গলবার (৩০ জুন) চাটখিল থানার বিভিন্ন স্থান এবং ঢাকার বিমানবন্দর এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে চাটখিল থানা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।   মঙ্গলবার পুলিশের একটি দল চাটখিলের পরকোট ইউনিয়নের দশঘরিয়া বাজারের একটি চায়ের দোকানে অভিযান চালায়। চাটখিল-রামগঞ্জ সড়কের পাশে অবস্থিত একটি চায়ের দোকানের ভেতরে থাইল্যান্ডি জুয়া খেলা অবস্থায় আলামতসহ ৬ জুয়াড়িকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।  গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার রাজগঞ্জের মোঃ আব্দুস ছাত্তার (৩৬), চাটখিলের পশ্চিম পরকোট এলাকার মোঃ সোহেল হোসেন (৩৫), নুর নবী (৩৪), মোঃ কবির হোসেন (৪১), ইকবাল (৪৫) ও টিপু সুলতান (২৯)।  চাটখিল উপজেলার সাধারণ মানুষ এই জুয়ার সিন্ডিকেট গ্রেপ্তার হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। আবিদ রহমান নামের স্থানীয় একজন বলেন, ‘এই থাইল্যান্ডি জুয়া বা তিন গুটি-ছয় গুটির ডিজিটাল জুয়া খেলাটা আমাদের এলাকার তরুণ ও যুবসমাজকে একদম ধ্বংস করে দিচ্ছিল। দিনমজুর থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজের ছেলেরা পর্যন্ত চায়ের দোকানে বসে মোবাইলে আর গোপনে এই জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ছিল। অনেকে ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করে, ধার-দেনা করে সর্বস্বান্ত হয়েছে। জুয়ার টাকার জন্য এলাকায় চুরি-ছিনতাইও বাড়ছিল। পুলিশ যে আজ দোকানের ভেতর হাতেনাতে এদের মূল হোতাসহ ধরছে, এতে আমরা এলাকাবাসী অত্যন্ত খুশি। আমরা চাই এই জুয়াড়িরা যেন সহজে জামিন না পায় এবং পুরো চাটখিল থেকে এই জুয়া চিরতরে বন্ধ হোক।’  এদিকে, চাটখিল থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম ঢাকার বিমানবন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে জিআর মামলার ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আরমান হোসেন রাজুকে গ্রেপ্তার করেছে। রাজু চাটখিলের পুরুষোত্তমপুর গ্রামের মৃত মোঃ সেলিম হোসেনের ছেলে। সে দীর্ঘ দিন ধরে গ্রেপ্তার এড়াতে পলাতক ছিল।  পৃথক অভিযানে চাটখিল পৌরসভার চাটখিল গ্রাম থেকে ধর্ষণের চেষ্টা মামলার আসামি আনোয়ার হোসেন (৫০) এবং পশ্চিম ফতেহপুর গ্রাম থেকে জিআর মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি মোঃ ইব্রাহিম খলিল ওরফে ইমন (২২)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া খিলপাড়া ইউনিয়নের মল্লিকাদীঘির পাড়া এলাকা থেকে গাঁজাসহ ইয়াছিন আরাফাত সৌরভ (২২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   অভিযানে বিষয়ে চাটখিল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আব্দুল মোন্নাফ বলেন, ‘চাটখিল উপজেলাকে অপরাধমুক্ত ও শান্ত রাখতে আমরা কাজ করছি। থাইল্যান্ডি জুয়ার মতো সামাজিক ব্যাধি তরুণ সমাজ ও পরিবারগুলোকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা এই চক্রের মূল হোতাসহ কয়েকজনকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছি। একই সাথে ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিসহ অন্যান্য অপরাধীদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চাটখিলে জুয়া, মাদক, নারী নির্যাতন ও কোনো ধরণের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। জনস্বার্থে পুলিশের এই বিশেষ অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।’  পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত সকল আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow