দাঁতের ফাঁকে খাবার আটকে গেলে নিরাপদে যেসব উপায়ে বের করবেন
দুপুরে মাংস, মাছ বা সবজি খাওয়ার পর কিংবা রাতে প্রিয় কোনো খাবার খাওয়ার পর অনেক সময় দাঁতের ফাঁকে ছোট ছোট খাবারের টুকরো বা আঁশ আটকে যায়। শুরুতে বিষয়টি তেমন গুরুত্ব না পেলেও কিছুক্ষণ পরই অস্বস্তি, ব্যথা কিংবা মাড়িতে চাপ লাগার অনুভূতি তৈরি হতে পারে। তখন অনেকেই হাতের কাছে যা পান, তাই দিয়ে দাঁত খোঁচাতে শুরু করেন। কারো হাতে থাকে টুথপিক, কেউ ব্যবহার করেন দেশলাই কাঠি, আবার কেউ সেফটিপিন বা অন্য কোনো ধারালো ধাতব জিনিস দিয়ে আটকে থাকা খাবার বের করার চেষ্টা করেন। কিন্তু দন্ত বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস দাঁত ও মাড়ির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। ধারালো বা শক্ত বস্তু দিয়ে দাঁত খোঁচালে মাড়ি কেটে রক্তপাত হতে পারে, মাড়ির কোমল টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমনকি দাঁতের বাইরের সুরক্ষামূলক স্তর বা এনামেলও ক্ষয়ে যেতে পারে। এতে দাঁতে সংবেদনশীলতা, সংক্রমণ এবং দীর্ঘমেয়াদে নানা ধরনের মুখগহ্বরের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই দাঁতের ফাঁকে খাবার আটকে গেলে আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ উপায়ে সেটি বের করার চেষ্টা করাই সবচেয়ে ভালো। ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করুন চিকিৎসকদের মতে, দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার করার সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো ডেন্টাল ফ্লস। এটি
দুপুরে মাংস, মাছ বা সবজি খাওয়ার পর কিংবা রাতে প্রিয় কোনো খাবার খাওয়ার পর অনেক সময় দাঁতের ফাঁকে ছোট ছোট খাবারের টুকরো বা আঁশ আটকে যায়। শুরুতে বিষয়টি তেমন গুরুত্ব না পেলেও কিছুক্ষণ পরই অস্বস্তি, ব্যথা কিংবা মাড়িতে চাপ লাগার অনুভূতি তৈরি হতে পারে। তখন অনেকেই হাতের কাছে যা পান, তাই দিয়ে দাঁত খোঁচাতে শুরু করেন।
কারো হাতে থাকে টুথপিক, কেউ ব্যবহার করেন দেশলাই কাঠি, আবার কেউ সেফটিপিন বা অন্য কোনো ধারালো ধাতব জিনিস দিয়ে আটকে থাকা খাবার বের করার চেষ্টা করেন।
কিন্তু দন্ত বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস দাঁত ও মাড়ির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। ধারালো বা শক্ত বস্তু দিয়ে দাঁত খোঁচালে মাড়ি কেটে রক্তপাত হতে পারে, মাড়ির কোমল টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমনকি দাঁতের বাইরের সুরক্ষামূলক স্তর বা এনামেলও ক্ষয়ে যেতে পারে। এতে দাঁতে সংবেদনশীলতা, সংক্রমণ এবং দীর্ঘমেয়াদে নানা ধরনের মুখগহ্বরের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তাই দাঁতের ফাঁকে খাবার আটকে গেলে আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ উপায়ে সেটি বের করার চেষ্টা করাই সবচেয়ে ভালো।
ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করুন
চিকিৎসকদের মতে, দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার করার সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো ডেন্টাল ফ্লস। এটি এক ধরনের বিশেষ সুতা, যা দাঁতের মাঝখানে আটকে থাকা খাবারের কণা সহজেই বের করে আনতে পারে। বর্তমানে প্রায় সব ফার্মেসি ও সুপারশপেই ডেন্টাল ফ্লস পাওয়া যায়। ব্যবহারের জন্য প্রথমে ১৫ থেকে ১৮ ইঞ্চি লম্বা একটি ফ্লস কেটে নিন। এরপর দুই হাতের আঙুলে সুতোটি পেঁচিয়ে আলতোভাবে দাঁতের ফাঁকে ঢুকান। খুব ধীরে ওপর-নিচে এবং পাশ ঘেঁষে নড়াচড়া করুন। এতে আটকে থাকা খাবার সহজেই বেরিয়ে আসবে। খেয়াল রাখবেন, ফ্লস যেন জোর করে মাড়ির ভেতরে ঢুকিয়ে না দেওয়া হয়।
লবণ-গরম পানিতে কুলকুচি
যদি খাবারটি খুব গভীরে আটকে না থাকে, তাহলে লবণ মেশানো হালকা গরম পানিতে কুলকুচি করেও অনেক সময় সমস্যা দূর করা যায়।
এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে আধা চা-চামচ লবণ মিশিয়ে নিন। এরপর সেই পানি মুখে নিয়ে অন্তত ৩০ থেকে ৪০ সেকেন্ড ভালোভাবে কুলকুচি করুন। পানির প্রবাহে দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা ছোট খাবারের কণা অনেক সময় নিজে থেকেই আলগা হয়ে বেরিয়ে আসে।
এছাড়া লবণ-পানি মুখের ভেতরের কিছু ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি কমাতে সাহায্য করে এবং মাড়িতে হালকা ফোলা বা অস্বস্তি থাকলে সেটিও কিছুটা কমাতে পারে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
যদি খাবার কোনোভাবেই বের না হয়, দাঁতে তীব্র ব্যথা শুরু হয়, মাড়ি থেকে রক্তপাত বন্ধ না হয় বা ফোলা দেখা দেয়, তাহলে ঘরোয়া উপায়ে বারবার চেষ্টা না করে দ্রুত একজন দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। জোর করে খাবার বের করতে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

সকালে দুধ পান করছেন? আগে জেনে নিন
অভ্যাস বদলানো
খাবার খাওয়ার পর নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করা, প্রতিদিন অন্তত একবার ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করা এবং ছয় মাস অন্তর দন্ত চিকিৎসকের কাছে দাঁত পরীক্ষা করানো মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখার সহজ উপায়।

মাছের কাঁটা খেলে শরীরে কী ঘটে
মনে রাখবেন, দাঁতের ফাঁকে খাবার আটকে যাওয়া সাধারণ ঘটনা হলেও সেটি বের করার পদ্ধতি অবশ্যই নিরাপদ হওয়া উচিত। টুথপিক বা ধারালো বস্তু নয়, সঠিক পদ্ধতি ব্যবহার করলে দাঁত ও মাড়ি দীর্ঘদিন সুস্থ থাকবে।
সূত্র: হেলথলাইন, উইকিহাউ
এসএকেওয়াই
What's Your Reaction?