দিনে ৩ বেলা খাওয়া ভালো, নাকি ঘন ঘন অল্প করে খাওয়া ভালো?

বর্তমান ব্যস্ত জীবনে আমাদের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বের শেষ নেই। দীর্ঘকাল ধরে আমরা দিনে তিনবেলা ভারী খাবার খাওয়ার প্রথা মেনে আসছি। কিন্তু আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান ও ফিটনেস দুনিয়ায় এখন অন্য একটি ধারণাও বেশ জনপ্রিয়, তা হলো ‘মিল ফ্রিকোয়েন্সি’ বা সারা দিনে অল্প অল্প করে বারবার খাওয়া। কেউ ওজন কমাতে চাচ্ছেন, কেউ বা চাচ্ছেন দীর্ঘক্ষণ কর্মক্ষম থাকতে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, শরীর আর মেটাবলিজমের জন্য আসলে কোনটি বেশি কার্যকর? প্রচলিত তিনবেলার রুটিন, নাকি আধুনিক ছয় বেলার অভ্যাস? এই বিতর্কের সমাধান পেতে এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস বেছে নিতে আমাদের বুঝতে হবে শরীরের নিজস্ব প্রয়োজন ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি। পুষ্টিবিদদের মতে, সবার জন্য কার্যকর এমন কোনো নির্দিষ্ট ‘এক ছাঁচের’ নিয়ম নেই। আপনার প্রতিদিনের জীবনধারা, শারীরিক পরিশ্রমের মাত্রা, স্বাস্থ্যের লক্ষ্য এবং ক্ষুধার ধরনের ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারণ করতে হবে আপনার জন্য কোন পদ্ধতিটি সঠিক। মেটাবলিজম বা বিপাক হার নিয়ে ভুল ধারণা অনেকে বিশ্বাস করেন যে, ঘন ঘন খেলে মেটাবলিজম বা হজম প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। যদিও খাবার হজম করার সময় শরীর সাময়িকভাবে কিছু ক্যালরি পোড়ায় (যাকে ‘থার

দিনে ৩ বেলা খাওয়া ভালো, নাকি ঘন ঘন অল্প করে খাওয়া ভালো?

বর্তমান ব্যস্ত জীবনে আমাদের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বের শেষ নেই। দীর্ঘকাল ধরে আমরা দিনে তিনবেলা ভারী খাবার খাওয়ার প্রথা মেনে আসছি। কিন্তু আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান ও ফিটনেস দুনিয়ায় এখন অন্য একটি ধারণাও বেশ জনপ্রিয়, তা হলো ‘মিল ফ্রিকোয়েন্সি’ বা সারা দিনে অল্প অল্প করে বারবার খাওয়া। কেউ ওজন কমাতে চাচ্ছেন, কেউ বা চাচ্ছেন দীর্ঘক্ষণ কর্মক্ষম থাকতে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, শরীর আর মেটাবলিজমের জন্য আসলে কোনটি বেশি কার্যকর? প্রচলিত তিনবেলার রুটিন, নাকি আধুনিক ছয় বেলার অভ্যাস? এই বিতর্কের সমাধান পেতে এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস বেছে নিতে আমাদের বুঝতে হবে শরীরের নিজস্ব প্রয়োজন ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি।

পুষ্টিবিদদের মতে, সবার জন্য কার্যকর এমন কোনো নির্দিষ্ট ‘এক ছাঁচের’ নিয়ম নেই। আপনার প্রতিদিনের জীবনধারা, শারীরিক পরিশ্রমের মাত্রা, স্বাস্থ্যের লক্ষ্য এবং ক্ষুধার ধরনের ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারণ করতে হবে আপনার জন্য কোন পদ্ধতিটি সঠিক।

মেটাবলিজম বা বিপাক হার নিয়ে ভুল ধারণা

অনেকে বিশ্বাস করেন যে, ঘন ঘন খেলে মেটাবলিজম বা হজম প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। যদিও খাবার হজম করার সময় শরীর সাময়িকভাবে কিছু ক্যালরি পোড়ায় (যাকে ‘থার্মিক ইফেক্ট অফ ফুড’ বলা হয়), তবে এটি সারাদিনের মোট ক্যালরি ব্যয়ের ওপর খুব একটা প্রভাব ফেলে না।

গবেষণায় দেখা গেছে, আপনি যদি সারা দিনে ২,০০০ ক্যালরি গ্রহণ করেন, তবে তা তিনবারে খান বা ছয়বারে, মেটাবলিজমের ওপর তার প্রভাব প্রায় একই থাকে। শরীরের মেটাবলিজম মূলত নির্ভর করে আপনার বয়স, শারীরিক গঠন, হরমোন, ব্যায়াম এবং ঘুমের মানের ওপর।

ওজন কমানোর রহস্য

ওজন কমানোর ক্ষেত্রে খাবারের সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো মোট ক্যালরি গ্রহণ ও ব্যয়ের ভারসাম্য। আপনি যে পদ্ধতিই বেছে নিন না কেন, ওজন কমাতে হলে শরীর যে পরিমাণ ক্যালরি খরচ করে, তার চেয়ে কম পরিমাণ ক্যালরি গ্রহণ করতে হবে। কম ক্যালরি গ্রহণ করে এবং নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন কমানো সম্ভব।

ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ ও খাবারের গুণগত মান

ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করতে কোন পদ্ধতিটি ভালো, তা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অনুভূতির ওপর নির্ভর করে। তবে এক্ষেত্রে খাবারের সংখ্যার চেয়ে খাবারের উপাদান বা ‘কন্টেন্ট’ বেশি গুরুত্ব বহন করে।

প্রোটিন, ফ্যাট ও ফাইবার: এই উপাদান সমৃদ্ধ ভারসাম্যপূর্ণ খাবার ধীরে হজম হয়, যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে।

চিনি ও রিফাইনড কার্বোহাইড্রেট: চিনিযুক্ত খাবার বা ময়দা জাতীয় খাবার খুব দ্রুত হজম হয়ে যায়। ফলে এগুলো খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই আবার ক্ষুধা লাগে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

বিশেষ স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও রক্তে শর্করা

সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে খাবারের সংখ্যা রক্তে শর্করার ওপর বড় কোনো প্রভাব ফেলে না। তবে যারা ডায়াবেটিস বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সে ভুগছেন, তাদের জন্য ঘন ঘন অল্প করে খাওয়া বেশি উপকারী হতে পারে। এতে একবারে রক্তে শর্করার মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে এবং দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার ফলে শর্করা কমে যাওয়ার ঝুঁকিও এড়ানো যায়।

আপনি কোন পদ্ধতি বেছে নেবেন?

তিনবেলা খাবার তাদের জন্য ভালো যারা নির্দিষ্ট ও সাধারণ রুটিন পছন্দ করেন, একবারে পেট ভরে খেলে বেশি সন্তুষ্ট বোধ করেন, অপ্রয়োজনীয় স্ন্যাকিং বা বারবার খাওয়ার অভ্যাস কমাতে চান, খুবই ব্যস্ত সময়সূচি মেনে চলেন এবং বারবার খাবারের ব্যবস্থা করা কঠিন হয়।

ঘন ঘন অল্প খাওয়া তাদের জন্য ভালো যারা খাবারের মাঝখানের দীর্ঘ বিরতিতে খুব বেশি ক্ষুধার্ত অনুভব করেন, সারাদিন কাজের জন্য নিরবচ্ছিন্ন শক্তির প্রয়োজন বোধ করেন, অত্যধিক পরিশ্রমী জীবনযাপন করেন, যাদের বেশি ক্যালরির প্রয়োজন, হজমজনিত সমস্যায় ভুগছেন এবং একবারে বেশি খেলে অস্বস্তি অনুভব করেন।

তথ্যসূত্র: ভেরিওয়েল হেলথ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow