দীর্ঘতম দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক আছে কোন দেশগুলোর?

4 days ago 6

ট্রেনে ভ্রমণ আরামদায়ক, এটা আমরা সবাই জানি। কিন্তু এতদিন এর প্রধান সমস্যা ছিল ধীর গতি, যা এর সুবিধার চেয়েও বেশি চোখে পড়তো। তবে দ্রুতগতির রেল আসার পর ভ্রমণের ধারণাই বদলে গেছে। ঘণ্টায় ৩০০ কিমি বা তার বেশি গতিতে চলা এই ঝকঝকে ট্রেনগুলো যাত্রাকে আরও দ্রুত, পরিবেশবান্ধব এবং আরামদায়ক করে তুলেছে। কিন্তু দ্রুতগতির রেলের ট্র্যাকের দৈর্ঘ্যের দিক থেকে কোন দেশ সবার উপরে? যদি আপনি ভাবেন জাপান বা ভারত এগিয়ে আছে, তাহলে জেনে রাখুন, সবার থেকে এগিয়ে আছে চীন। তবে এর পরের স্থানগুলোতে থাকা দেশগুলোর গল্পও বেশ আকর্ষণীয়।

চীন: ৬৪ হাজার ৭৭৫ কিলোমিটার

দ্রুতগতির রেলের ক্ষেত্রে চীন শুধু এগিয়েই নেই, তাদের কোনো প্রতিযোগীই নেই। ৬৪ হাজার কিলোমিটারের বেশি দ্রুতগতির রেলপথ এবং ৪০ হাজার কিলোমিটারের বেশি সচল রেলপথ নিয়ে চীনের নেটওয়ার্ক বিশ্বের বাকি সব দেশের মিলিত দৈর্ঘ্যের চেয়েও বড়। এছাড়াও, ১৩ হাজার কিলোমিটারের বেশি রেলপথ এখন নির্মাণাধীন আছে এবং ভবিষ্যতে আরও ১১ হাজার কিলোমিটার রেলপথ তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। বেইজিং-সাংহাই করিডরটি এই নেটওয়ার্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা প্রতি বছর শত শত মিলিয়ন যাত্রী পরিবহন করে। ফুশিং ট্রেনগুলো ঘণ্টায় ৩৫০ কিমি পর্যন্ত গতিতে চলতে পারে, যা দুটি বড় শহরকে রেকর্ড সময়ে যুক্ত করে।

স্পেন: পাঁচ হাজার ৫৭৯ কিলোমিটার

আশ্চর্য হলেও সত্যি ইউরোপের এই দেশটি দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্কের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে আছে। যদিও ভারত প্রায় ৮ হাজার কিলিমিটার দ্রুতগতির রেলপথ তৈরির পরিকল্পনা করেছে, তাই অদূর ভবিষ্যতে হয়তো ভারত এই স্থানটি দখল করে নেবে।

জাপান: তিন হাজার ৬৭৭ কিলোমিটার

দ্রুতগতির রেল বা শিনকানসেন আবিষ্কারের জন্য পরিচিত জাপান এখনও বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত নেটওয়ার্কগুলোর মধ্যে একটি। ৩ হাজার ৬০০ কিলোমিটারের বেশি রেলপথ এবং ৩ হাজার ৮১ কিলোমিটারের সচল রেলপথ নিয়ে জাপানের শিনকানসেন ১৯৬৪ সাল থেকে চলছে। ট্রেনগুলো এতটাই সময় মেনে চলে যে, ৩০ সেকেন্ড দেরি হলেও তা দেশের শিরোনামে আসে। পর্যটকদের জন্য, শিনকানসেন শুধু একটি পরিবহন ব্যবস্থা নয় এটি জাপানে গেলে অবশ্যই উপভোগ করার মতো একটি অভিজ্ঞতা।

ফ্রান্স: চার হাজার ৪৬০ কিলোমিটার

ফ্রান্সের টিজিভি আধুনিক দ্রুতগতির রেলের পথিকৃৎ ছিল এবং এটি এখনো বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় একটি ব্যবস্থা। চার হাজার ৪০০ কিলোমিটারের বেশি রেলপথ এবং দুই হাজার ৭৩৫ কিলোমিটারের সচল রেলপথ নিয়ে এটি চতুর্থ স্থানে আছে।

জার্মানি: দুই হাজার নয় কিলোমিটার

দুই হাজার কিলোমিটারের বেশি দ্রুতগতির রেলপথ নিয়ে শীর্ষ পাঁচে জায়গা করে নিয়েছে জার্মানির। বার্লিন, মিউনিখ, ফ্রাঙ্কফুর্ট এবং কোলোনের মতো প্রধান শহরগুলোকে এ নেটওয়ার্কে সংযুক্ত করা হয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

এমএসএম

Read Entire Article