রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ছাত্রত্বধারীদের অংশগ্রহণসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, এই বিশেষ রাকসু নির্বাচনে সব শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে প্রাণবন্ত নির্বাচন সম্ভব নয়।
বৃহস্পতিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় উপ-উপাচার্য ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দেন তারা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সম্মুখ সারিতে নেতৃত্বদানকারী এবং রাকসু নির্বাচনের দাবিতে প্রথম আওয়াজ তোলা অনেক শিক্ষার্থী এবার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। কারণ, নির্বাচনের আশ্বাস দেওয়ার পরও তা অনুষ্ঠিত হতে বিলম্ব হওয়ায় তাদের ছাত্রত্ব শেষ হয়ে গেছে। ফলে তারা নির্বাচনের বাইরে থেকে গেছেন।
এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল পাঁচ মাসের মধ্যে রাকসু নির্বাচন হবে। কিন্তু তা হতে সময় লেগেছে প্রায় ১১ মাস। ততদিনে অনেকের মাস্টার্সের ফল প্রকাশ হয়ে গেছে। অথচ রাকসুর দাবিতে যেসব শিক্ষার্থী আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন, তারাই নির্বাচনের বাইরে চলে গেছেন।
আরও অভিযোগ রয়েছে, কিছু বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থীরা ভোটার হলেও অন্য কিছু বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থীরা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এটিকে শিক্ষার্থীরা ‘স্পষ্ট বৈষম্য’ বলে উল্লেখ করেছেন।
তাদের মতে, ডাকসু ও চাকসু নির্বাচনে দ্বিতীয় মাস্টার্স, এমফিল কিংবা পিএইচডি শিক্ষার্থীদের অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও রাকসু নির্বাচনে তা রাখা হয়নি। এতে দীর্ঘদিন সংগ্রামে থাকা অনেক শিক্ষার্থী প্রক্রিয়াগত কারণে বাদ পড়ে যাচ্ছেন। এর ফলে প্রতীক্ষিত এ রাকসু নির্বাচন নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহ ও উল্লাস কম দেখা যাচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি হলো—
১. ৫ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত ছাত্রত্ব আছে এমন সবাইকে রাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে অথবা দ্বিতীয় মাস্টার্সে ভর্তি হওয়ার সুযোগ দিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে;
২. কিছু বিভাগের শিক্ষার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারলেও অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা বাদ পড়ছেন। এ বৈষম্য দূরীকরণে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে; এবং
৩. নারী প্রার্থীরা যাতে অনলাইন-অফলাইনে বুলিং ও হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য কার্যকরী উদ্যোগ নিতে হবে এবং একটি মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ফ্যাসিবাদের ভ্যানগার্ড হিসেবে পরিচিত ছাত্রলীগ এবং তাদের সহযোগী কোনো সংগঠন ছাড়া অন্যান্য সব অংশীজনের এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত ছিল।
তিনি বলেন, কিছু ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী যারা ১৭ বছর এই ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেননি। ফলে তাদের ছাত্রত্ব নেই। কিন্তু সেসব ছাত্রনেতারা তাদের জীবন বিপন্ন করেও বিগত ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। তাদের অনেকের নামে একাধিক মামলাও ছিল। সেসব ছাত্রনেতাদের এই নির্বাচনের বাইরে রাখা মোটেও সমীচীন হবে না।
মনির হোসেন মাহিন/এসআর