দু’পক্ষের দ্বন্দ্বের জেরে বন্ধ বাস চলাচল, দুর্ভোগে যাত্রীরা

রাজশাহী ও নাটোরের মালিকদের দ্বন্দ্বের জেরে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে করে রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের বাস যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল থেকে রাজশাহীর সঙ্গে বিভিন্ন জেলার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। সবশেষ বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত বাস বন্ধ ছিল। নাটোরের বাস মালিকদের অভিযোগ, তাদের বাস রাজশাহী গেলে আটকে দেয়া হয়েছে। তবে সে অভিযোগ অস্বীকার করছেন রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা। এনিয়ে দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করছে। রাজশাহীর পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নাটোর বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের আন্দান পরিবহন নামের একটি বাস কোনো চেইন মানছে না। যখন-তখন বাসটি রংপুর-রাজশাহী রুটে চলাচল করছে। এনিয়ে বাসের শ্রমিকরা তাকে তাদের একাধিক বার নিষেধ করেছে। এ নিয়ে দুই জেলার মূলত বিরোধ দেখা দিয়েছে। তাহসিনা নামের এক যাত্রী বলেন, বাস স্ট্যান্ডে এসে শুনছি বাস চলাচল বন্ধ। এখন ঢাকায় যেতেই হবে, বিকল্প পথ হলো ট্রেন। কিন্তু ট্রেনের আবার টিকিট কাটা নাই। কি করব বুঝতে পারছি না। বাড়ি ফিরে যেতে হবে।  রাজিব নামের আরেক যাত্রী বলেন, বাস মালিক কিংবা শ্রমিকদের সমস্যার

দু’পক্ষের দ্বন্দ্বের জেরে বন্ধ বাস চলাচল, দুর্ভোগে যাত্রীরা
রাজশাহী ও নাটোরের মালিকদের দ্বন্দ্বের জেরে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে করে রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের বাস যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল থেকে রাজশাহীর সঙ্গে বিভিন্ন জেলার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। সবশেষ বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত বাস বন্ধ ছিল। নাটোরের বাস মালিকদের অভিযোগ, তাদের বাস রাজশাহী গেলে আটকে দেয়া হয়েছে। তবে সে অভিযোগ অস্বীকার করছেন রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা। এনিয়ে দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করছে। রাজশাহীর পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নাটোর বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের আন্দান পরিবহন নামের একটি বাস কোনো চেইন মানছে না। যখন-তখন বাসটি রংপুর-রাজশাহী রুটে চলাচল করছে। এনিয়ে বাসের শ্রমিকরা তাকে তাদের একাধিক বার নিষেধ করেছে। এ নিয়ে দুই জেলার মূলত বিরোধ দেখা দিয়েছে। তাহসিনা নামের এক যাত্রী বলেন, বাস স্ট্যান্ডে এসে শুনছি বাস চলাচল বন্ধ। এখন ঢাকায় যেতেই হবে, বিকল্প পথ হলো ট্রেন। কিন্তু ট্রেনের আবার টিকিট কাটা নাই। কি করব বুঝতে পারছি না। বাড়ি ফিরে যেতে হবে।  রাজিব নামের আরেক যাত্রী বলেন, বাস মালিক কিংবা শ্রমিকদের সমস্যার কারণে বাস চলাচল বন্ধ থাকে। এসব সমস্যাগুলো তাদের একান্তে ব্যক্তিগত। কিন্তু ভুক্তভোগী হতে হচ্ছে আমাদের মত সাধারণ যাত্রীদের।  রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পাখি বলেন, বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। নাটোরের বাস আন্দান পরিবহন কোনো চেইন মানছে না। তারা যখন তখন যাওয়া আসা করে। এনিয়ে মূলত সমস্যা। তারা সড়ক বন্ধ করে ব্যারিকেড দিয়ে বাস ঘুড়িয়ে দিচ্ছে। ঢাকাগামী বিভিন্ন বাসের কাউন্টারগুলোও নাটোরে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এ কারণে ঢাকার বাসও রাজশাহী থেকে যাচ্ছে না। রাজশাহী নগরের শিরোইলে ও ভদ্র আন্তঃনগর বাস স্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, স্ট্যান্ডে বাসগুলো থেমে রয়েছে। তবে কোন যাত্রী তোলা হচ্ছে না। জানানো হচ্ছে বাস বন্ধ। ফলে যাত্রীরা বাস না পেয়ে বিভিন্নভাবে গন্তব্যে ছুটছে।  এ বিষয়ে নাটোর জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি প্রশান্ত কুমার পোদ্দার (লক্ষন) বলেন, আমাদের নাটোর জেলা মালিক সমিতির একটা গাড়ি পঞ্চগড় ছেড়ে রংপুরে আসার পর রংপুর সমিতি সময় বেঁধে দেয়। ওই টাইমে আমরা চলাচল করি। কিন্তু এতে রাজশাহী সমিতি বিরোধ সৃষ্টি কর। তারা বলে এভাবে গাড়ি চালাতে দিবো না। এই নিয়ে সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকালে শ্রমিকদের মধ্যে হাতাহাতি হওয়ার পর আমরা মৌখিকভাবে একটা মিমাংসা করি।  তিনি বলেন, আজকে সকালবেলা রাজশাহী থেকে আমাদের নাটোর মালিক সমিতির দেশের বিভিন্ন রুটের ১০ থেকে ১২টা গাড়ি রাজশাহী মালিক শ্রমিক ইউনিয়নের লোকজন আটকে দেয়। পরে যখন নাটোরে খবর আসে যে নাটোরের গাড়ি রাজশাহী আটকে দিয়েছে, তখন নাটোরের শ্রমিকেরা উত্তেজিত হয়ে রাজশাহীর গাড়িগুলো ফেরত পাঠায়। রাজশাহীর গাড়ি বাদে বাংলাদেশের কোন প্রান্তের গাড়ি নাটোর থেকে কেউ ঘুরায় নাই। সমস্যা সমাধানে রাজশাহী সমিতি যদি আমাদের সাথে বসে আলোচনা করতে চায় আমরা করব। আমাদের আলোচনা করতে কোনো অসুবিধা নেই।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow