দুপক্ষের সংঘর্ষে যুবক নিহত, প্রতিপক্ষের বাড়িতে আগুন

শেরপুরের শ্রীবরদীতে কথাকাটাকাটিকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে আশরাফুল ইসলাম নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। সোমবার (১৮ মে) সকালে উপজেলার খড়িয়া কাজিরচর ইউনিয়নের মাদারপুর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত আশরাফুল ইসলাম (৩২) উপজেলার মাদারপুর এলাকার কালু মিয়ার ছেলে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন- মাহালম (৪৫), শরিফ (১৮), শামিম (২৮), নজরুল (১৮), আজিরন (৮০), হাজেরাসহ অন্তত ১৫ জন। তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার মাদারপুর এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনায় এক পথচারী আহত হন। এসময় আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী ও স্বজনরা আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে আশরাফুল তার স্ত্রীকে মারধর করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে খড়িয়া কাজিরচর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য নূরুল আমিন সেখানে গেলে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর একইদিন রাতে নূরুল আমিন ও তার সমর্থকরা আশরাফুলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে মারধর করেন এবং একটি ভ্যানগাড়িসহ বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেন। এ ঘটনার জেরে সোমবার সকালে আবারও আশরাফুল ও নূরুল আমিনের ছেলের মধ

দুপক্ষের সংঘর্ষে যুবক নিহত, প্রতিপক্ষের বাড়িতে আগুন

শেরপুরের শ্রীবরদীতে কথাকাটাকাটিকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে আশরাফুল ইসলাম নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। সোমবার (১৮ মে) সকালে উপজেলার খড়িয়া কাজিরচর ইউনিয়নের মাদারপুর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নিহত আশরাফুল ইসলাম (৩২) উপজেলার মাদারপুর এলাকার কালু মিয়ার ছেলে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন- মাহালম (৪৫), শরিফ (১৮), শামিম (২৮), নজরুল (১৮), আজিরন (৮০), হাজেরাসহ অন্তত ১৫ জন। তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার মাদারপুর এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনায় এক পথচারী আহত হন। এসময় আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী ও স্বজনরা আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে আশরাফুল তার স্ত্রীকে মারধর করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে খড়িয়া কাজিরচর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য নূরুল আমিন সেখানে গেলে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর একইদিন রাতে নূরুল আমিন ও তার সমর্থকরা আশরাফুলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে মারধর করেন এবং একটি ভ্যানগাড়িসহ বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেন।

এ ঘটনার জেরে সোমবার সকালে আবারও আশরাফুল ও নূরুল আমিনের ছেলের মধ্যে কথাকাটি শুরুর একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় আশরাফুল ইসলামকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে, আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী নূরুল আমিনের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে বাড়ির কয়েকটি কক্ষ ও আসবাবপত্র পুড়ে যায়।

এলাকাবাসী জানায়, ইউপি সদস্য নূরুল আমিন ও কালু মিয়ার পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক মোফাজ্জল হোসেন বিদ্যুৎ বলেন, সোমবার সকাল ১১টার দিকে মারামারির ঘটনায় বেশ কয়েকজন রোগী হাসপাতালে আসে। এর মধ্যে একজনকে আমরা মৃত অবস্থায় পাই। এছাড়া গুরুতর তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। আর দুজন সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাদের চিকিৎসা চলছে।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইতোমধ্যে জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার নারীসহ পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow