দেশে এফডিআই বাড়বে, তবে প্রভাব দেখা দিতে সময় লাগবে: রবি

  বাংলাদেশে ব্যবসার পরিবেশ আগের তুলনায় উন্নত হচ্ছে। বিভিন্ন নীতিগত বাধা ধীরে ধীরে দূর হওয়ায় দেশে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটায় চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার মো. সাহেদ আলম। তবে বিদেশি বিনিয়োগের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যের কারণে এর ইতিবাচক প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একইসঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (এআই) আগামীতে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে সাহেদ আলম এসব কথা বলেন। দেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে রবি আজিয়াটা পিএলসি এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রবি আজিয়াটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াদ সাতারা, চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) রুহুল আমিন ও চিফ কমার্শিয়াল অফিসার (সিসিও) শিহাব আহমাদ। মো. সাহেদ আলম বলেন, ‘আমরা দেখছি যে বিজনেসের যেসব অবস্ট্যাকলগুলো ছিল আগে, সেগুলো যেভাবে রিমুভ হচ্ছে, আমরা খুবই আশাবা

দেশে এফডিআই বাড়বে, তবে প্রভাব দেখা দিতে সময় লাগবে: রবি

 

বাংলাদেশে ব্যবসার পরিবেশ আগের তুলনায় উন্নত হচ্ছে। বিভিন্ন নীতিগত বাধা ধীরে ধীরে দূর হওয়ায় দেশে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটায় চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার মো. সাহেদ আলম।

তবে বিদেশি বিনিয়োগের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যের কারণে এর ইতিবাচক প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একইসঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (এআই) আগামীতে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে সাহেদ আলম এসব কথা বলেন। দেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে রবি আজিয়াটা পিএলসি এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রবি আজিয়াটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াদ সাতারা, চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) রুহুল আমিন ও চিফ কমার্শিয়াল অফিসার (সিসিও) শিহাব আহমাদ।

মো. সাহেদ আলম বলেন, ‘আমরা দেখছি যে বিজনেসের যেসব অবস্ট্যাকলগুলো ছিল আগে, সেগুলো যেভাবে রিমুভ হচ্ছে, আমরা খুবই আশাবাদী যে বাংলাদেশে এফডিআই ইনফ্লোটা বাড়বে। এখানে একটা জিনিস বলে রাখা ভালো যে, যখন আমাদের মতো ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্টগুলো বাংলাদেশে বিজনেস করে, আমরা কী পরিমাণ অবস্ট্যাকলস পাচ্ছি, বিজনেস করতে গিয়ে কী ধরনের সমস্যা আছে, এগুলো কিন্তু যারা ফরেন ইনভেস্টর তাদের কাছে অনেক বেশি রিফ্লেকটেড হয়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছি, ডুয়িং বিজনেসের যেসব বাধাগুলো আমাদের ছিল, যেগুলো আস্তে আস্তে আমরা কাটিয়ে উঠতে পারছি। আমরা অ্যাপ্রুভাল প্রসেসের থেকে যদি দেখি, অ্যাপ্রুভাল প্রসেস অনেক বেশি ফাস্টার হয়েছে। আমরা আশাবাদী যে ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্টে আরও অনেক বেশি বিনিয়োগ আসবে। তবে একটা জিনিস বলে রাখা ভালো, ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্টের ক্ষেত্রে যেকোনো বিদেশি বিনিয়োগ কিন্তু একটু স্লো-ই হয়। হয়তো এটার রিফ্লেকশনটা আমরা ইমিডিয়েটলি দেখতে পাব না, কিন্তু আমরা আশা করছি সুদূর ভবিষ্যতে পুরোপুরি রিফ্লেকশনটা পাব।’

ইন্টারনেটের গতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সাহেদ আলম বলেন, দেশের ইন্টারনেটের গতি কোনো একটি অপারেটর বা নির্দিষ্ট অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করে না। বরং নীতিগত সীমাবদ্ধতা, ফাইবার নেটওয়ার্কের বিস্তার, সাইট ডেনসিটি এবং পর্যাপ্ত স্পেকট্রামের মতো বিষয়গুলো এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সরকার ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সঙ্গে সমন্বয় করে ফাইবার অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করার কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

সাহেদ আলম বলেন, ‘সরকারের সঙ্গে আমরা এবং আমাদের টেলিকম রেগুলেটর বিটিআরসির সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি যাতে ফাইবার নেটওয়ার্কটা আরও বেশি স্ট্রেন্থেন করা যায়। সরকার ফাইবার ব্যাংক করার একটা উদ্যোগ নিয়েছে যাতে ইনফো সরকারের যেই ফাইবারগুলো আছে, সেগুলো যাতে আমরা পেতে পারি। এবং সরকার আরও বেশ কয়েকটা লাইসেন্সও দিয়েছে যারা ফাইবার নেটওয়ার্কে বিল্ড করতে পারবে।’

‘তো ফাইবার নেটওয়ার্কটা যদি মোটামুটি বিল্ড হয়ে যায়, আপনি তখন দেখবেন যে আস্তে আস্তে কিন্তু আমরা একটা ভালো প্রগ্রেশনের দিকে যাচ্ছি। আপনি এখনই আমাদের প্রেজেন্টেশনে দেখেছেন, একটা সময় যখন আমরা ৪ এমবিপিএসে কথা বলতাম, এখন কিন্তু আপনি এভারেজ ১৪ এমবিপিএস কিন্তু পাচ্ছেন এবং আমি যদি আমাদের ঢাকা, চট্টগ্রাম ও মেইন শহরগুলো বলি, সেখানে কিন্তু আপনি অনেক ক্ষেত্রেই ২০ এমবিপিএসের ওপরে কিন্তু আপনি এখন সেবাটা পাচ্ছেন। আপনি ঢাকা শহরের এখন অনেক জায়গাতেই কিন্তু আপনি ৫জি পাবেন, আপনার যদি ৫জি ফোন থাকে। সো, এই ফোন হ্যান্ডসেটটাও একটা বড় ব্যাপার। কারণ এই স্পিডের ক্ষেত্রে বা দেশগুলোর যে আপনার র‍্যাংকিং যেটা নির্ধারণ করে, সে র‍্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে তারা যে আপনার যে সলিউশনগুলো ইউজ করে, সেগুলোর ক্ষেত্রে ওভারঅল ডিভাইস, ফাইবার, ডেনসিটি এবং স্পেকট্রাম হোল্ডিং—আপনি দেখেছেন আমরা মাত্র গত ৫ বছরেই আমরা আমাদের স্পেকট্রাম হোল্ডিং বাড়িয়েছি প্রায় সাড়ে তিন পারসেন্ট বা সাড়ে তিন টাইমস অথবা প্রায় চার গুণ প্রায় কাছাকাছি। বাট আমরা কিন্তু ক্রমাগতভাবে বলে রাখছি আমাদের আরও বেশি স্পেকট্রাম দরকার।’

রবির চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা আশা করছি সরকার অল্প কিছুদিনের মধ্যে ৯০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম দেবে। আগামী বছর বা এর পরের বছর হয়তো ৩.৫ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম অ্যালোকেট করবে সরকার। আমরা এই আশা করছি, যত বেশি স্পেকট্রাম দেওয়া হবে, আমরা দেখব যে আমাদের র‍্যাংকিংটা আরও ভালো দিকে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, আমরা কয়েকদিন আগেই যেটা আমাদের ফিকির একটা প্রোগ্রামে বলেছি, বাংলাদেশ ইজ এ গুড ডেস্টিনেশন, এখানে লটস অব অপারচুনিটিজ আছে এবং যে পলিসি চেঞ্জগুলো হচ্ছে, সে পলিসি চেঞ্জগুলো হচ্ছে অনেক বিজনেস ফ্রেন্ডলি। আমরা সেই প্রোগ্রামে বলেছি, এমনকি আমরা আমাদের প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারের কাছে সরাসরি যেটা বলেছি যে, আরও কিছু পরিবর্তন খুব দ্রুত সময়ের জন্য দরকার। এই পরিবর্তনগুলো হলে আমরা দেখব যে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই কিন্তু আরও বেশি এফডিআই বাংলাদেশে আসবে। এই কনফিডেন্স বিল্ডিংয়ে একটু সময় লাগে, এই কনফিডেন্স বিল্ড হলেই কিন্তু আমরা সেই জায়গায় পৌঁছাতে পারব।’

দেশে এফডিআই বাড়বে, তবে প্রভাব দেখা দিতে সময় লাগবে: রবি

অনুষ্ঠানে রবি জানায়, ২০২০ সালে তালিকাভুক্তির পর থেকে রবির নেটওয়ার্কে ৭৬ লাখ ৭০ হাজার নতুন গ্রাহক যুক্ত হয়েছে। একই সময়ে ১ কোটি ১০ লাখ নতুন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এবং ২ কোটি ৫৫ লাখ নতুন ফোরজি ব্যবহারকারী যুক্ত হয়েছে। ২০২০ সালের শেষ থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বাজারে সর্বোচ্চ সংখ্যক সক্রিয় গ্রাহক যুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে রবি। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রতি বছরই রাজস্ব এবং কর-পরবর্তী মুনাফায় ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।

২০২৬ সালের প্রথমার্ধেও রবি তার এই শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রেখেছে, ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় কর-পরবর্তী মুনাফা ২৯ শতাংশ বেড়েছে।
২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষে রবির সক্রিয় গ্রাহকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৮৬ লাখ। এর মধ্যে ৭৮ দশমিক ৯ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এবং ৭২ শতাংশ ফোরজি ব্যবহারকারী, যা উভয় ক্ষেত্রে দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে সর্বোচ্চ। রবিতে প্রতি ডেটা ব্যবহারকারীর মাসিক গড় ডেটা ব্যবহার ১০ জিবিরও বেশি, এটিও এ খাতে সর্বোচ্চ।

এসব অর্জনের ফলে ডিজিটাল সেবায় রবি টেলিযোগাযোগ খাতে নেতৃস্থানীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পর থেকে প্রতি বছরই কোম্পানির কর-পরবর্তী মুনাফা (পিএটি) বেড়েছে। ২০২১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত রবি মোট ২ হাজার ৮১৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা কর-পরবর্তী মুনাফা অর্জন করেছে এবং শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে ২ হাজার ৮৫৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকার লভ্যাংশ বিতরণ করেছে। কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে লভ্যাংশও ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।

২০২০ সালে রবির সুদ, কর, অবচয় ও অ্যামর্টাইজেশন-পূর্ব মুনাফার (ইবিআইটিডিএ) মার্জিন ছিল ১১.৬ শতাংশ, যা ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বেড়ে ৫৪.২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির সময় ২০২০ সালে রবির পরিচালন মুনাফার মার্জিন ছিল ১৪.১ শতাংশ, যা ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে এসে হয়েছে ২৩.১ শতাংশ।

২০২০ সালে রবির মোট রাজস্বের ৩৬ শতাংশ এসেছিল ডেটা সেবা থেকে। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে তা বেড়ে ৪৪.৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ভয়েস আয়ের প্রায় সমান। এটি এ খাতে সর্বোচ্চ এবং ডিজিটাল সেবায় রবির নেতৃত্বের আরেকটি প্রমাণ।

২০২১ সাল থেকে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধ পর্যন্ত স্পেকট্রামের মূল্য বাদ দিয়ে নেটওয়ার্কে রবি ৯ হাজার ৩৩১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছে। ২০২০ সালের শেষে যেখানে রবির ফোরজি সাইট ছিল ১৩ হাজার ১৭৩টি, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৬৪৬টিতে। একই সঙ্গে রবি তার স্পেকট্রাম ধারণক্ষমতা ৩.৪ গুণ বাড়িয়ে ১২৪ মেগাহার্টজে উন্নীত করেছে।

২০২০ সালে মোট ব্যয়ের ৫৭ শতাংশ স্থানীয় ভেন্ডরদের মাধ্যমে হয়েছিল। এ হার ২০২৫ সালে বেড়ে ৭৮ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছেছে, যা দেশের সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

ইএইচটি/এমএমএআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow