দেশে না এসে কেন দুবাই থেকে ফিরে গিয়েছিলেন, জানালেন সাকিব

২০২৪ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মিরপুরে নিজের ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট খেলতে দেশি ফেরার একদম শেষ প্রান্তে ছিলেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু দুবাই পৌঁছানোর পর হুট করেই সিদ্ধান্ত বদলাতে হয় তাকে। কেন বিমানে উঠেও শেষ পর্যন্ত দেশে ফেরা হয়নি, সেই ঘটনার আদ্যোপান্ত এবার নিজেই পরিষ্কার করলেন দেশসেরা এই অলরাউন্ডার। সম্প্রতি ভারতের মুম্বাই থেকে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব জানান, কোনো লুকোচুরি নয়, বরং সরকারের সবুজ সংকেত নিয়েই তিনি দেশের পথে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু মাঝপথে সবকিছু নাটকীয়ভাবে বদলে যায়।  সাকিব আল হাসান বলেন, সবকিছু ঠিকঠাক আছে জেনেই প্লেনে উঠেছিলাম। তখন যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের সঙ্গে কথা বলেই দেশে যাচ্ছিলাম। কিন্তু দুবাইয়ে নামার পরে দেখলাম ফোনে মিসড কল। আমি কল ব্যাক করলাম। ওখান থেকে বলা হলো- ‘একটু সমস্যা হয়ে গেছে, আপনি না এলে ভালো হয়।’ হুট করে কেন সিদ্ধান্ত বদলাল, এমন প্রশ্নের জবাবে সাকিব বলেন, আমি তখন বললাম, ঠিক আছে, তাহলে আর কী করার! দুবাইয়ে একদিন থেকে ফেরত গেলাম।  সাকিবের দেশে ফেরা ঠেকাতে তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা এবং মিরপুর স্টেডিয়ামের সামনে কিছু মানুষ বিক্ষোভ

দেশে না এসে কেন দুবাই থেকে ফিরে গিয়েছিলেন, জানালেন সাকিব
২০২৪ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মিরপুরে নিজের ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট খেলতে দেশি ফেরার একদম শেষ প্রান্তে ছিলেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু দুবাই পৌঁছানোর পর হুট করেই সিদ্ধান্ত বদলাতে হয় তাকে। কেন বিমানে উঠেও শেষ পর্যন্ত দেশে ফেরা হয়নি, সেই ঘটনার আদ্যোপান্ত এবার নিজেই পরিষ্কার করলেন দেশসেরা এই অলরাউন্ডার। সম্প্রতি ভারতের মুম্বাই থেকে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব জানান, কোনো লুকোচুরি নয়, বরং সরকারের সবুজ সংকেত নিয়েই তিনি দেশের পথে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু মাঝপথে সবকিছু নাটকীয়ভাবে বদলে যায়।  সাকিব আল হাসান বলেন, সবকিছু ঠিকঠাক আছে জেনেই প্লেনে উঠেছিলাম। তখন যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের সঙ্গে কথা বলেই দেশে যাচ্ছিলাম। কিন্তু দুবাইয়ে নামার পরে দেখলাম ফোনে মিসড কল। আমি কল ব্যাক করলাম। ওখান থেকে বলা হলো- ‘একটু সমস্যা হয়ে গেছে, আপনি না এলে ভালো হয়।’ হুট করে কেন সিদ্ধান্ত বদলাল, এমন প্রশ্নের জবাবে সাকিব বলেন, আমি তখন বললাম, ঠিক আছে, তাহলে আর কী করার! দুবাইয়ে একদিন থেকে ফেরত গেলাম।  সাকিবের দেশে ফেরা ঠেকাতে তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা এবং মিরপুর স্টেডিয়ামের সামনে কিছু মানুষ বিক্ষোভ করেছিল। সেই বিক্ষোভের গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সাকিব বলেন, নিউজে দেখলাম মিরপুর স্টেডিয়ামের সামনে ২০/২৫ জন বা সর্বোচ্চ ৫০ জন হতে পারে, প্রোটেস্ট করেছে। সবাই আমাকে বলছে এটা ছিল সাজানো নাটক। যদিও আমি তা বিশ্বাস করতে চাই না, কিন্তু পরিস্থিতি সেদিকেই ইঙ্গিত দেয়। সাকিব আরও বলেন, আমার ক্ষেত্রে তাদের সিদ্ধান্ত অনেকবার পরিবর্তন হয়েছে। যারা আমাকে অনুমতি দিয়েছিলেন, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তারাই আবার কেন না করলেন, তা আজও আমার কাছে অস্পষ্ট।  ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশ না নেওয়াকে সরকারের বড় ভুল বা ব্লান্ডার হিসেবে দেখছেন সাকিব। তার মতে, এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করেছে। তিনি বলেন, মুস্তাফিজের আইপিএল ইস্যু বা বিসিসিআইয়ের সাথে দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে আইসিসির সাথে যুদ্ধ লাগিয়ে দেওয়া ঠিক হয়নি। মানুষের আবেগকে পুঁজি করে পলিটিক্যাল গেম খেলা হয়েছে। এর জন্য তৎকালীন বোর্ড কর্মকর্তাদেরও দায়ী করেন তিনি। এদিকে জুলাই আন্দোলন চলাকালে নিজের নীরবতা এবং বিতর্কিত ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে সাকিব বলেন, দেশের পুরো উল্টো পিঠে (যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা) থাকায় আমি ঘটনার গভীরতা শুরুতে বুঝতে পারিনি। ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় আমি আপ-টু-ডেট ছিলাম না। সবাই ফেসবুক স্ট্যাটাস চেয়েছে, কিন্তু ওসবে কি খুব বড় পার্থক্য হতো? আন্দোলনের সময় নিহত সবার প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি জীবনের মূল্য সমান। আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে সাকিব বলেন, আমি যে দলের প্রতি নাম লিখিয়েছি, তার প্রতি সবসময় অনুগত। আমার পল্টিবাজি করার অভ্যাস নেই। আজীবন কেউ কাউকে নিষিদ্ধ করে রাখতে পারে না। ৫ আগস্টের পর নিজের দেশে ফেরা আটকে যাওয়াকে ‘সাজানো মব’ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। তথ্যসূত্র : বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম  

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow