ধান শুকাতে ব্যস্ত হাওরপাড়ের কৃষকরা

গত কয়েক দিন সূর্যের দেখা না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েন হাওরের কৃষকরা। অকাল বন্যা ও দুর্যোগে অনেক এলাকার বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার পর যেসব ধান কৃষকরা কষ্ট করে কেটে ঘরে তুলেছিলেন, সেগুলোও রোদ না থাকায় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। গতকাল শুক্রবার (৮ মে) থেকে আবহাওয়া অনুকূলে আসায় হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন খলায় ধান শুকাতে দেখা গেছে কৃষাণ-কৃষাণিদের। সকাল থেকেই তারা ধান মাড়াই ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কৃষকদের ভাষ্য, টানা বৃষ্টি থাকলে ধান শুকাতে বেশি সময় লাগে এবং শ্রমিক খরচও বেড়ে যায়। অন্যদিকে রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ায় দ্রুত ধান শুকানো সম্ভব হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি মিলছে। অষ্টগ্রাম উপজেলার কাস্তুল ইউনিয়নের মসজিদজাম এলাকার কৃষক মো. মুসু মিয়া বলেন, ‘পচা ধান কেটে নিয়া আইছি রোইদ্দডা যদি তাহে ধানডারে জাত করতে ফারমু। পোলাপানডিরে সারাবছর কিছুত খাওয়াতে হইবো।’ ইটনা উপজেলার মৃগা গ্রামের আইতুল মিয়া বলেন, ধান যা আনছি সব চারা গাছ উঠছে ধান শুকাইতে পারলে বিক্রি করে দিব, এখন ধানের দামও কম।  তিনি আরও জানান, পত্তন নিয়ে জমি চাষ করছেন, ঋণের টাকা দেওয়ার জন্য হলেও ধান বিক্রি করতে হবে। পাউবো সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায়

ধান শুকাতে ব্যস্ত হাওরপাড়ের কৃষকরা

গত কয়েক দিন সূর্যের দেখা না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েন হাওরের কৃষকরা। অকাল বন্যা ও দুর্যোগে অনেক এলাকার বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার পর যেসব ধান কৃষকরা কষ্ট করে কেটে ঘরে তুলেছিলেন, সেগুলোও রোদ না থাকায় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।

গতকাল শুক্রবার (৮ মে) থেকে আবহাওয়া অনুকূলে আসায় হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন খলায় ধান শুকাতে দেখা গেছে কৃষাণ-কৃষাণিদের। সকাল থেকেই তারা ধান মাড়াই ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কৃষকদের ভাষ্য, টানা বৃষ্টি থাকলে ধান শুকাতে বেশি সময় লাগে এবং শ্রমিক খরচও বেড়ে যায়। অন্যদিকে রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ায় দ্রুত ধান শুকানো সম্ভব হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি মিলছে।

অষ্টগ্রাম উপজেলার কাস্তুল ইউনিয়নের মসজিদজাম এলাকার কৃষক মো. মুসু মিয়া বলেন, ‘পচা ধান কেটে নিয়া আইছি রোইদ্দডা যদি তাহে ধানডারে জাত করতে ফারমু। পোলাপানডিরে সারাবছর কিছুত খাওয়াতে হইবো।’

ইটনা উপজেলার মৃগা গ্রামের আইতুল মিয়া বলেন, ধান যা আনছি সব চারা গাছ উঠছে ধান শুকাইতে পারলে বিক্রি করে দিব, এখন ধানের দামও কম। 
তিনি আরও জানান, পত্তন নিয়ে জমি চাষ করছেন, ঋণের টাকা দেওয়ার জন্য হলেও ধান বিক্রি করতে হবে।
পাউবো সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইটনা পয়েন্টে ধনু ও বৌলাই নদীর পানি ১০ সেন্টিমিটার, চামড়াঘাট পয়েন্টে মগরা নদীর পানি ৮ সেন্টিমিটার, অষ্টগ্রাম পয়েন্টে কালনী নদীর পানি ৭ সেন্টিমিটার এবং ভৈরবের মেঘনা নদীর পানি ৯ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়েছে।

নিকলী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের সিনিয়র অবজারভার আক্তার ফারুক জানান, শুক্রবার সকাল থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। তবে আগামী ২ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, হালকা বা মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

কৃষি বিভাগের বরাত দিয়ে জানা যায়, হাওরে এ পর্যন্ত প্রায় ৭৫ শতাংশ ও নন হাওরে ৫০ শতাংশ জমি কর্তন করা হয়েছে। প্রায় ৬০ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এই বোরো মৌসুমে ৫৮০টি হারভেস্টার মেশিন দ্বারা ধান কর্তন করেছেন কৃষকরা। 

এছাড়াও ৭ হাজার ৫০৯ শ্রমিক ময়মনসিংহ, জামালপুর, টাঙ্গাইল, নেত্রকোনা, সিরাজগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, কুড়িগ্রাম ও হবিগঞ্জ থেকে এসে ধান কর্তন করছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, আমি সরেজমিনে ঘুরে দেখেছি। পানি বাড়তে থাকায় ধান ৮০ ভাগ পাকলেই দ্রুত কেটে ফেলার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমির পাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে হাওরের প্রায় ৬০ হাজার কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

উল্লেখ্য, চলতি মৌসুমে কিশোরগঞ্জের ১৩টি উপজেলায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে শুধু হাওর এলাকার তিন উপজেলা ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামেই আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৮শ হেক্টর জমি। এ বছর জেলায় প্রায় ১২ লাখ টন বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow