নতুন চুল গজাতে রোজমেরি যেভাবে ব্যবহার করবেন
ঘন ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল সবাই পছন্দ করেন। কিন্তু বর্তমান সময়ে বায়ুদূষণ, অনিয়মিত জীবনযাপন, মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে চুল পড়ার সমস্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। অনেকেই চুল ঝরে পাতলা হয়ে যাওয়া কিংবা টাকের সমস্যায় ভুগছেন। এ অবস্থায় প্রাকৃতিক উপায়ে চুলের যত্ন নিতে রোজমেরি ওয়াটারের ওপরে অনেকেই ভরসা করছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চুলের যত্নে রোজমেরি ওয়াটারের জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, রোজমেরি চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে, যা চুলের ফলিকলকে সক্রিয় রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সঠিক নিয়মে ব্যবহার করলেই মিলবে কাঙ্ক্ষিত ফল। যেভাবে তৈরি করবেন রোজমেরি ওয়াটার বাড়িতেই রোজমেরি ওয়াটার খুব সহজে তৈরি করা যায়। এর জন্য প্রয়োজন হবে তাজা অথবা শুকনো রোজমেরি পাতা এবং পানি। প্রথমে একটি পাত্রে পর্যাপ্ত পানি নিয়ে তাতে রোজমেরি পাতা দিন। এরপর মাঝারি আঁচে ফুটতে দিন। পানি যখন প্রায় অর্ধেক হয়ে আসবে এবং এর রং হালকা লালচে-বাদামি হবে, তখন চুলা থেকে নামিয়ে ঠান্ডা করুন। এরপর ছেঁকে একটি পরিষ্কার স্প্রে বোতলে ভরে সংরক্ষণ করুন। আরও পড়ুন দামি কন্ডিশনার নয়
ঘন ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল সবাই পছন্দ করেন। কিন্তু বর্তমান সময়ে বায়ুদূষণ, অনিয়মিত জীবনযাপন, মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে চুল পড়ার সমস্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। অনেকেই চুল ঝরে পাতলা হয়ে যাওয়া কিংবা টাকের সমস্যায় ভুগছেন। এ অবস্থায় প্রাকৃতিক উপায়ে চুলের যত্ন নিতে রোজমেরি ওয়াটারের ওপরে অনেকেই ভরসা করছেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চুলের যত্নে রোজমেরি ওয়াটারের জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, রোজমেরি চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে, যা চুলের ফলিকলকে সক্রিয় রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সঠিক নিয়মে ব্যবহার করলেই মিলবে কাঙ্ক্ষিত ফল।
যেভাবে তৈরি করবেন রোজমেরি ওয়াটার
বাড়িতেই রোজমেরি ওয়াটার খুব সহজে তৈরি করা যায়। এর জন্য প্রয়োজন হবে তাজা অথবা শুকনো রোজমেরি পাতা এবং পানি।
প্রথমে একটি পাত্রে পর্যাপ্ত পানি নিয়ে তাতে রোজমেরি পাতা দিন। এরপর মাঝারি আঁচে ফুটতে দিন। পানি যখন প্রায় অর্ধেক হয়ে আসবে এবং এর রং হালকা লালচে-বাদামি হবে, তখন চুলা থেকে নামিয়ে ঠান্ডা করুন। এরপর ছেঁকে একটি পরিষ্কার স্প্রে বোতলে ভরে সংরক্ষণ করুন।
চুলের গোড়ায় ব্যবহার করাই সবচেয়ে জরুরি
অনেকেই পুরো চুলে রোজমেরি ওয়াটার স্প্রে করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এর সবচেয়ে কার্যকর ব্যবহার হলো সরাসরি মাথার ত্বকে প্রয়োগ করা।
চুল কয়েক ভাগে ভাগ করে স্ক্যাল্পে স্প্রে করুন। এতে রোজমেরি ওয়াটার সরাসরি চুলের গোড়ায় পৌঁছাবে এবং ফলিকলকে সক্রিয় করতে সাহায্য করবে। শুধু চুলের দৈর্ঘ্যে ব্যবহার করলে বেশি উপকার পাওয়া কঠিন।
ম্যাসাজ করলে বাড়ে কার্যকারিতা
রোজমেরি ওয়াটার স্প্রে করার পর হালকা হাতে মাথার ত্বক ম্যাসাজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আঙুলের ডগা ব্যবহার করে ৫ থেকে ১০ মিনিট ধীরে ধীরে গোলাকারভাবে ম্যাসাজ করুন। নখ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। এই ম্যাসাজ মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং চুলের ফলিকলে পুষ্টি পৌঁছাতে সাহায্য করে। ফলে নতুন চুল গজানোর পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
পরিষ্কার স্ক্যাল্পে ব্যবহার করুন
মাথার ত্বকে যদি অতিরিক্ত তেল, ধুলাবালি বা ময়লা জমে থাকে, তাহলে রোজমেরি ওয়াটার ত্বকে পৌঁছাতে বাধা পায়।
তাই শ্যাম্পু করার পর পরিষ্কার স্ক্যাল্পে এটি ব্যবহার করলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়। পরিষ্কার মাথার ত্বক উপাদানগুলো সহজে শোষণ করতে পারে, ফলে কার্যকারিতাও বাড়ে।

গরমে কত দিন পরপর শ্যাম্পু করবেন?
ধুয়ে ফেলার প্রয়োজন নেই
রোজমেরি ওয়াটারের একটি বড় সুবিধা হলো এটি ব্যবহার করার পর চুল আঠালো বা চটচটে হয় না। এ কারণে এটি স্প্রে করার পর আলাদা করে ধুয়ে ফেলার প্রয়োজন পড়ে না। এটি প্রাকৃতিক ‘লিভ-ইন টোনার’ হিসেবে কাজ করে। স্প্রে করার পর স্বাভাবিকভাবে শুকিয়ে যেতে দিন।
নিয়মিত ব্যবহার করুন
অনেকেই কয়েকদিন ব্যবহার করেই ফল না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন। কিন্তু চুলের যত্নে ধৈর্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রোজমেরি ওয়াটার সপ্তাহে অন্তত ৩ থেকে ৪ দিন নিয়মিত ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়। সাধারণত ৩ থেকে ৪ মাস নিয়মিত ব্যবহারের পর ধীরে ধীরে পরিবর্তন চোখে পড়তে শুরু করে। তাই রাতারাতি ফল পাওয়ার আশা না করে নিয়মিত ব্যবহার চালিয়ে যেতে হবে।
সংরক্ষণ ও সতর্কতা
বাড়িতে তৈরি রোজমেরি ওয়াটারে কোনো প্রিজারভেটিভ থাকে না। তাই একবারে বেশি পরিমাণ তৈরি না করে অল্প অল্প করে বানানো ভালো। স্প্রে বোতল বা ড্রপারে ভরে ফ্রিজে সংরক্ষণ করলে সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত ভালো থাকে। এরপর নতুন করে তৈরি করা উচিত।
এছাড়া প্রথমবার ব্যবহার করার আগে একটি প্যাচ টেস্ট করা জরুরি। কানের পেছনে বা হাতের ত্বকের ছোট অংশে সামান্য স্প্রে করে দেখে নিন কোনো অ্যালার্জি, চুলকানি বা র্যাশ হচ্ছে কি না। কোনো সমস্যা দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
সঠিক নিয়মে এবং নিয়মিত ব্যবহারে রোজমেরি ওয়াটার চুলের যত্নে একটি কার্যকর প্রাকৃতিক উপাদান হতে পারে। তবে চুল পড়ার সমস্যা যদি দীর্ঘদিনের বা গুরুতর হয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সূত্র: হেলথশটস, বি বিউটিফুল, হিন্দুস্তান টাইমস ও অন্যান্য
এসএকেওয়াই
What's Your Reaction?

