নদীভাঙনের শিকার জেলে পরিবারের বসতভিটা দখল চেষ্টার অভিযোগ

নদীগর্ভে বসতভিটা বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় দীর্ঘদিনের সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে জমি কিনেছিলেন এক জেলে। প্রায় ২১ বছর ধরে সেখানে বসবাসও করছেন পরিবার নিয়ে। তবে সম্প্রতি সেই জমি নিজেদের দাবি করে রাতের আঁধারে দোকানঘর বসানোর অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কে দিন কাটছে পিরোজপুরের জিয়ানগরের একটি জেলে পরিবারের। ঘটনাটি উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বালিপাড়া গ্রামের। ভুক্তভোগী মোসাম্মৎ হিরন বেগম (৫৫)। তার স্বামী আশ্রাফ আলী সরদার (৬২) পেশায় একজন জেলে। তাদের বাড়ি পার্শ্ববর্তী চন্ডিপুর গ্রামের নদীতীরবর্তী এলাকায়। নদীভাঙনের কারণে বসতভিটা বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে পরিবারের সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে ২০০৫ সালসহ বিভিন্ন সময়ে বাবার বাড়ির পাশেই প্রায় ২৯ শতাংশ জমি কেনেন হিরন বেগম। বর্তমানে স্বামী-সন্তানসহ সেখানেই বসবাস করছেন। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, সম্প্রতি পশ্চিম বালিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. সিদ্দিক বয়াতী (৬০) ও মো. মোতালেব শেখ (৫৮) জমিটি নিজেদের দাবি করতে শুরু করেন। এ নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে তারা পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আদালতে দুটি মামলাও করেন। পরিবারটির দাবি, বিরোধের বিষ

নদীভাঙনের শিকার জেলে পরিবারের বসতভিটা দখল চেষ্টার অভিযোগ

নদীগর্ভে বসতভিটা বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় দীর্ঘদিনের সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে জমি কিনেছিলেন এক জেলে। প্রায় ২১ বছর ধরে সেখানে বসবাসও করছেন পরিবার নিয়ে। তবে সম্প্রতি সেই জমি নিজেদের দাবি করে রাতের আঁধারে দোকানঘর বসানোর অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কে দিন কাটছে পিরোজপুরের জিয়ানগরের একটি জেলে পরিবারের।

ঘটনাটি উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বালিপাড়া গ্রামের। ভুক্তভোগী মোসাম্মৎ হিরন বেগম (৫৫)। তার স্বামী আশ্রাফ আলী সরদার (৬২) পেশায় একজন জেলে। তাদের বাড়ি পার্শ্ববর্তী চন্ডিপুর গ্রামের নদীতীরবর্তী এলাকায়। নদীভাঙনের কারণে বসতভিটা বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে পরিবারের সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে ২০০৫ সালসহ বিভিন্ন সময়ে বাবার বাড়ির পাশেই প্রায় ২৯ শতাংশ জমি কেনেন হিরন বেগম। বর্তমানে স্বামী-সন্তানসহ সেখানেই বসবাস করছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, সম্প্রতি পশ্চিম বালিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. সিদ্দিক বয়াতী (৬০) ও মো. মোতালেব শেখ (৫৮) জমিটি নিজেদের দাবি করতে শুরু করেন। এ নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে তারা পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আদালতে দুটি মামলাও করেন।

পরিবারটির দাবি, বিরোধের বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পর পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা একাধিকবার সমঝোতার চেষ্টা করলেও অভিযুক্তরা তাতে রাজি হননি। পরে গত ২৮ জুলাই রাতে সিদ্দিক বয়াতী, মোতালেব শেখসহ ১০ থেকে ১৫ জন তাদের জমির বেড়া ভেঙে সেখানে একটি পুরোনো দোকানঘর এনে বসিয়ে দেন। বাধা দিতে গেলে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ধাওয়া করা হয় বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগী হিরন বেগম বলেন, ‘নদীতে ঘরবাড়ি সব ভাইঙ্গা যাইতেছে। মুই ৬-৭ ডা মাইয়া পোলা লোইয়া থাহি মেলা কষ্টে। মেলা কষ্ট কইরা কিছু টাহা জোমাইয়া এই জাগাডু কিন্না কোন রহমের এক‌খান ঘর বানাইয়া থাহা শুরু হরছিলাম কিন্তু ম্যালা বছর পর এহন মোগো বাধা দেয়, মোরা কিছু কোইলে মোগো মারতে আয়। আম্মেগো কাছে বিচার দিলাম, মোরে এট্টু থাহার জায়গা কইরা দেন।’

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হাই জমাদ্দার বলেন, ‘এই জেলে পরিবারের দেওয়া বেড়া ভেঙে ফেলা হয়েছে। পরে রাতে একটি পুরোনো দোকানঘর এনে জমিতে বসানো হয়েছে। আমরা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ চাই।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মো. সিদ্দিক বয়াতী ও মো. মোতালেব শেখ। তারা বলেন, ‘আমরা কোনো বেড়া ভাঙিনি। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে। জমির ওপর আমাদেরও দাবি রয়েছে। তাই সেখানে দোকানঘর রাখা হয়েছে।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য রিয়াজুল ইসলাম বয়াতী বলেন, ‘আমার জানা মতে, একই অংশীদারের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে একাধিক ব্যক্তি জমি কিনেছেন। সিদ্দিক বয়াতীও ওই জমির দাবি করছেন। তবে রাতের আঁধারে দোকান এনে বসানো ঠিক হয়নি। জমিটি হিরন বেগমের দখলেই ছিল। বিষয়টির সমাধান হওয়া প্রয়োজন।’

বালিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে জেনেছি। দুই পক্ষকে ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করা হবে।’

ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহব্বত খান বলেন, ‘জমিজমা-সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মো. তরিকুল ইসলাম/এসজেডএইচ/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow