নবজাতকের জন্য নবীজি (সা.) যেভাবে দোয়া করতেন

একটি নবজাতকের আগমন শুধু একটি পরিবারের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি নয়; বরং এটি আল্লাহতাআলার পক্ষ থেকে অমূল্য এক নেয়ামত, অফুরন্ত রহমত এবং এক মহৎ আমানতের সূচনা। সন্তানের জন্মে পরিবারে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনের ধারা শুরু হয়। কিন্তু একজন মুসলিমের আনন্দ কেবল আবেগে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং সে আনন্দকে সুন্নাহর আলোই উদযাপন করে। তাই ইসলাম নবজাতকের জীবনের শুরু থেকেই তাকে আল্লাহর রহমত, বরকত ও হেফাজতের ছায়ায় সোপর্দ করার শিক্ষা দিয়েছে।  রাসুল (সা.) নবজাতকের জন্য দোয়া করতেন, তাহনিক করতেন, সুন্দর নাম রাখতেন এবং তার কল্যাণ ও বরকত কামনা করতেন। অথচ আমাদের সমাজে সন্তানের জন্ম উপলক্ষে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক আয়োজনের প্রতি যতটা গুরুত্ব দেয়া হয়, সুন্নাহ অনুযায়ী তার জন্য দোয়া ও বরকত কামনার বিষয়টি অনেক সময় ততটা গুরুত্ব পায় না। তাই একজন মুসলিমের উচিত, নবজাতকের আগমনের আনন্দকে সুন্নাহর অনুসরণের মাধ্যমে পূর্ণতা দেওয়া। আল্লাহ তাআলা সন্তানকে মানুষের জন্য এক মহামূল্যবান নেয়ামত ও আমানত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন, ধনসম্পদ ও সন্তান-সন্ততি পার্থিব জীবনের শোভা। (সুরা আল কাহাফ: ৪৬) রাসু

নবজাতকের জন্য নবীজি (সা.) যেভাবে দোয়া করতেন

একটি নবজাতকের আগমন শুধু একটি পরিবারের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি নয়; বরং এটি আল্লাহতাআলার পক্ষ থেকে অমূল্য এক নেয়ামত, অফুরন্ত রহমত এবং এক মহৎ আমানতের সূচনা। সন্তানের জন্মে পরিবারে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনের ধারা শুরু হয়। কিন্তু একজন মুসলিমের আনন্দ কেবল আবেগে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং সে আনন্দকে সুন্নাহর আলোই উদযাপন করে। তাই ইসলাম নবজাতকের জীবনের শুরু থেকেই তাকে আল্লাহর রহমত, বরকত ও হেফাজতের ছায়ায় সোপর্দ করার শিক্ষা দিয়েছে। 

রাসুল (সা.) নবজাতকের জন্য দোয়া করতেন, তাহনিক করতেন, সুন্দর নাম রাখতেন এবং তার কল্যাণ ও বরকত কামনা করতেন। অথচ আমাদের সমাজে সন্তানের জন্ম উপলক্ষে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক আয়োজনের প্রতি যতটা গুরুত্ব দেয়া হয়, সুন্নাহ অনুযায়ী তার জন্য দোয়া ও বরকত কামনার বিষয়টি অনেক সময় ততটা গুরুত্ব পায় না। তাই একজন মুসলিমের উচিত, নবজাতকের আগমনের আনন্দকে সুন্নাহর অনুসরণের মাধ্যমে পূর্ণতা দেওয়া। আল্লাহ তাআলা সন্তানকে মানুষের জন্য এক মহামূল্যবান নেয়ামত ও আমানত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন, ধনসম্পদ ও সন্তান-সন্ততি পার্থিব জীবনের শোভা। (সুরা আল কাহাফ: ৪৬)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনে আমরা দেখতে পাই, কোনো নজাতককে তার কাছে আনা হলে তিনি স্নেহ ভরে কোলে নিতেন, তাহনিক কারতেন এবং তার জন্য বরকতের দোয়া করতেন না।

নবজাতকের জন্য বরকতের দোয়া

এক্ষেত্রে রাসুল (সা.) এর সুন্নাহর বিবরণ দিতে গিয়ে বিখ্যাত সাহাবি আবু মুসা আল আশআরি (রা.) বলেন, আমার একটা ছেলে জন্মগ্রহণ করলে আমি তাকে নবীর কাছে নিয়ে যাই। তিনি তার নাম ইবরাহিম রাখলেন। তাকে একটা খেজুর দিয়ে তাহানিক করলেন। তার জন্য বরকতের দোয়া করলেন। অতঃপর তাকে আমার কাছে ফিরিয়ে দিলেন। (বোখারি: ৫৪৬৭)

এ হাদিসে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লক্ষণীয় তা হলো, রাসুল (সা.) যে বরকতের দোয়া করেছিলেন, তার নির্দিষ্ট শব্দ সাহাবিগণ সংরক্ষণ করেননি; বরং শুধু বলেছেন, তিনি তার জন্য বরকতের দোয়া করলেন। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, নবজাতকের জন্য বরকত, ইমান, তাকওয়া, সুস্বাস্থ্য হওয়ার যেকোনো দোয়া করা সুন্নাহ উদ্দেশ্যের অন্তর্ভুক্ত। 

আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের (রা.) এর ক্ষেত্রেও একই আমল হয়েছে। আসমা বিনতে আবু বকর (রা.) তার সন্তান জন্মের পর তাকে রাসুল (সা.) এর কাছে নিয়ে গেলে। তিনি খেজুর দিয়ে তাহানিক করেন এবং তার জন্য বরকতের দোয়া করেন। (বোখারি: ৩৯০৯)

এ দুটি হাদিস প্রমাণ করে, নবজাতকের জন্য বরকতের দোয়া করা ছিল রাসুল (সা.)-এর নিয়মিত সুন্নাহ।

নবজাতকের জন্য সাধারণভাবে দোয়া করা 

হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, শিশুদের রাসুল (সা.) এর কাছে আনা হতো। আর তিনি তাদের জন্য দোয়া করতেন। (বোখারি: ৬৩৭৭)

এ হাদিস শিশুদের জন্য দোয়া করার সুন্নাহকে আরো সুদৃঢ়ওভাবে প্রতিষ্ঠিত করে। সহিহ হাদিসে নির্দিষ্ট শব্দে দোয়া বর্ণিত না হলেও তাবেঈ ইমাম হাসান আল-বাসরি (রহ.) নবজাতকের জন্য একটি দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন, সেটি হলো, 
بَارَكَ اللَّهُ لَكَ فِي الْمَوْهُوبِ لَكَ، وَشَكَرْتَ الْوَاهِبَ، وَبَلَغَ أَشُدَّهُ، وَرُزِقْتَ بِرَّ.

বাংলা ‍উচ্চারণ: বারাকাল্লাহু লাকা ফিল মাওহূবি লাকা, ওয়া শাকারতাল ওয়াহিবা, ওয়া বালাগা আশুদ্দাহু, ওয়া রুযিকতা বির্রাহ।

অর্থ: আল্লাহ আপনাকে দানকৃত এই সন্তানকে বরকতময় করুন। আপনি যেন দানকারী আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে পারেন। সন্তান যেন পূর্ণ শক্তি ও পরিণত বয়সে পৌঁছে এবং আপনি যেন তার নেক ব্যবহার লাভ করেন। (আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ: ৬২৩)

দোয়ার জবাবে সন্তানের বাবা বলবেন, بَارَكَ اللَّهُ لَكَ، وَبَارَكَ عَلَيْكَ، وَجَزَاكَ اللَّهُ خَيْرًا، وَرَزَقَكَ اللَّهُ مِثْلَهُ، وَأَجْزَلَ ثَوَابَكَ.

বাংলা উচ্চারণ: বারাকাল্লাহু লাকা, ওয়া বারাকা আলাইকা, ওয়া জাযাকাল্লাহু খাইরান, ওয়া রাযাকাকাল্লাহু মিছলাহু, ওয়া আজযালা ছাওয়াবাকা।

অর্থ: আল্লাহ আপনাকেও বরকত দান করুন। আপনার উপর বরকত নাযিল করুন। আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন। আপনাকেও অনুরূপ নেয়ামত দান করুন এবং আপনার সওয়াব বৃদ্ধি করুন।

ইমাম নববিও (রহ.) তার বিখ্যাত গ্রন্থে এ দোয়াটি উল্লেখ করে নবজাতকের জন্য এভাবে দোয়া করাকে উত্তম বলেছেন। (আল আযকার: পৃ.৪৮৯) 

এ ছাড়া হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানিও এই দোয়া উল্লেখ করে বলেছেন, যেহেতু সহিহ হাদিসের নির্দিষ্ট শব্দ সংরক্ষিত হয়নি, তাই সন্তানের জন্য বরকত, হিদায়াত, ঈমান ও নেককার হওয়ার জন্য দোয়া করাই সুন্নাহর মূল্য উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। (ফাতহুল বারি: ৫৪৬৭ হাদিসের ব্যাখ্যায়)

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে নবজাতকের জন্য বরকতের, সুস্থতার, নেক হায়াতের, তাকওয়ার দোয়া করার তাওফিক দান করুন।

লেখক: শরিয়াহ কনসালট্যান্ট

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow