নাটোরে বেড়েছে ডাকাতির ভয়াবহতা, আতঙ্কে জনজীবন
নাটোরের গুরুদাসপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। গত ২০ দিনের ব্যবধানে উপজেলায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো অন্তত সাতটি বড় ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব ঘটনায় জড়িত কাউকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান ও প্রশাসনের বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভাও অপরাধ দমনে কার্যকর হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে লুটপাটের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রাতে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
উপজেলার থানা কমপ্লেক্সের অদূরেই ঘটেছে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের পাঁচটি ঘটনা। সর্বশেষ গত শুক্রবার (২ মে) রাত তিনটার দিকে সরকারি কোয়ার্টারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামের বাসায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা তাকে বেঁধে ফেলে এবং তার স্ত্রীর গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়।
এর আগে ১৫ এপ্রিল থানার অদূরে সোনাউল্লার বাড়িতে একই কায়দায় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতি সংঘটিত হয়। ওই ঘটনায় প্রায় সাত ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ দুই লাখ ৭০ হাজার টাকা লুট করা হয়।
গত ২০ এপ্রিল পৌর শহরে
নাটোরের গুরুদাসপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। গত ২০ দিনের ব্যবধানে উপজেলায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো অন্তত সাতটি বড় ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব ঘটনায় জড়িত কাউকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান ও প্রশাসনের বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভাও অপরাধ দমনে কার্যকর হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে লুটপাটের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রাতে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
উপজেলার থানা কমপ্লেক্সের অদূরেই ঘটেছে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের পাঁচটি ঘটনা। সর্বশেষ গত শুক্রবার (২ মে) রাত তিনটার দিকে সরকারি কোয়ার্টারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামের বাসায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা তাকে বেঁধে ফেলে এবং তার স্ত্রীর গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়।
এর আগে ১৫ এপ্রিল থানার অদূরে সোনাউল্লার বাড়িতে একই কায়দায় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতি সংঘটিত হয়। ওই ঘটনায় প্রায় সাত ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ দুই লাখ ৭০ হাজার টাকা লুট করা হয়।
গত ২০ এপ্রিল পৌর শহরের আনন্দনগর গ্রামের রমজান হাজীর বাড়ি থেকেও চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের ছয়টি দুধেল গাভী ও একটি ষাঁড় নিয়ে যায়। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও একাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (৬ মে) ভোর চারটার দিকে গুরুদাসপুর পৌর শহরের বিলচলন শহীদ সামসুজ্জোহা কলেজের সামনের সড়কে প্রকাশ্যে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এ সময় ইমাম মাহফুজ আলম, ব্যবসায়ী আনছু ও জাহের শাহসহ অন্তত পাঁচজন ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
এদিকে বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের যোগেন্দ্রনগর এলাকায় বন্যা খাতুনের বাড়িতে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা নগদ টাকা, দুই ভরি স্বর্ণালঙ্কার, ফসল ও বাড়ির আসবাবপত্রসহ প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বন্যা খাতুন থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন, আব্দুর রাজ্জাক, রহমতসহ অন্তত ১৫ জন অভিযোগ করেন, এলাকায় মাদকের বিস্তার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা। বিশেষ করে থানার আশপাশে একের পর এক অপরাধ ঘটলেও কাউকে গ্রেপ্তার করা না হওয়ায় জনমনে আতঙ্ক আরও বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রতিদিন লেনদেনের টাকা নিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে ভয় পাচ্ছেন তারা। পুলিশের নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনজুরুল আলম বলেন, পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে। ইতোমধ্যে উপজেলা জুড়ে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ছয়জন মাদকসেবী ও মাদক বিক্রেতাকে জেল ও জরিমানা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বুধবার (৬ মে) রাতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ছয়জন মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীকে জেল-জরিমানা করা হলেও ডাকাত চক্র এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।