নানি-দাদিদের সময়ের রূপচর্চার ঘরোয়া পদ্ধতিতে ফিরবে ত্বকের উজ্জ্বলতা
একসময় রূপচর্চা মানেই ছিল রান্নাঘরের সহজলভ্য উপকরণ। বেসন, ডাল বাটা, নিম, কাঁচা হলুদ কিংবা গোলাপজল দিয়েই ত্বকের যত্ন নিতেন মা-দাদিরা। তখন এত ধরনের কেমিক্যালসমৃদ্ধ ক্রিম, সিরাম বা ফেস মাস্ক ছিল না। তবুও তাদের ত্বক থাকত পরিষ্কার, কোমল ও উজ্জ্বল। আধুনিক গবেষণাতেও দেখা গেছে, কিছু প্রাকৃতিক উপাদানে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও ময়েশ্চারাইজিং উপাদান ত্বকের যত্নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তাই নিয়মিত যত্নে আজও ঘরোয়া উপাদানগুলো সমান জনপ্রিয়। ব্রণের জন্য নিম ও কাঁচা হলুদের প্যাক বর্ষাকালে আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে ত্বকে ব্রণ, র্যাশ কিংবা ফাঙ্গাল সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এই সময়ে নিম ও কাঁচা হলুদের প্যাক হতে পারে কার্যকর একটি ঘরোয়া সমাধান। ১মুঠ তাজা নিমপাতা এবং ছোট ১ টুকরো কাঁচা হলুদ একসঙ্গে বেটে মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। এরপর এটি মুখে বা আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নিমে থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান ত্বক পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে কাঁচা হলুদ প্রদাহ কমাতে এবং ব্রণের দাগ হালকা করতে সহায়ক হতে পারে। সপ্তাহে ২ দিন এই প্য
একসময় রূপচর্চা মানেই ছিল রান্নাঘরের সহজলভ্য উপকরণ। বেসন, ডাল বাটা, নিম, কাঁচা হলুদ কিংবা গোলাপজল দিয়েই ত্বকের যত্ন নিতেন মা-দাদিরা। তখন এত ধরনের কেমিক্যালসমৃদ্ধ ক্রিম, সিরাম বা ফেস মাস্ক ছিল না। তবুও তাদের ত্বক থাকত পরিষ্কার, কোমল ও উজ্জ্বল।
আধুনিক গবেষণাতেও দেখা গেছে, কিছু প্রাকৃতিক উপাদানে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও ময়েশ্চারাইজিং উপাদান ত্বকের যত্নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তাই নিয়মিত যত্নে আজও ঘরোয়া উপাদানগুলো সমান জনপ্রিয়।
ব্রণের জন্য নিম ও কাঁচা হলুদের প্যাক
বর্ষাকালে আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে ত্বকে ব্রণ, র্যাশ কিংবা ফাঙ্গাল সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এই সময়ে নিম ও কাঁচা হলুদের প্যাক হতে পারে কার্যকর একটি ঘরোয়া সমাধান।
১মুঠ তাজা নিমপাতা এবং ছোট ১ টুকরো কাঁচা হলুদ একসঙ্গে বেটে মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। এরপর এটি মুখে বা আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নিমে থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান ত্বক পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে কাঁচা হলুদ প্রদাহ কমাতে এবং ব্রণের দাগ হালকা করতে সহায়ক হতে পারে। সপ্তাহে ২ দিন এই প্যাক ব্যবহার করলে ত্বক সতেজ রাখবে।
নিয়মিত পরিচর্যায় ত্বকে ফিরতে পারে সতেজ ভাব
গোলাপজল ও গ্লিসারিন, শুষ্ক ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা
বৃষ্টি কিংবা এসির কারণে অনেকের ত্বক শুষ্ক ও প্রাণহীন হয়ে পড়ে। এই সমস্যা দূর করতে গোলাপজল ও গ্লিসারিনের মিশ্রণ দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয়। সমপরিমাণ গোলাপজল ও গ্লিসারিন মিশিয়ে একটি ছোট বোতলে সংরক্ষণ করুন। রাতে মুখ পরিষ্কার করে কয়েক ফোঁটা মিশ্রণ আলতোভাবে ত্বকে লাগিয়ে রেখে দিন।
গোলাপজল ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং ত্বককে সতেজ অনুভূতি দেয়। গ্লিসারিন ত্বকের ভেতরে আর্দ্রতা ধরে রেখে শুষ্কতা কমাতে সহায়তা করে। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক আরও কোমল ও উজ্জ্বল দেখাতে পারে।
গাজর ও বেসনের ফেসপ্যাকে ট্যান দূর করবে
রোদে বের হলে ত্বকে ট্যান বা কালচে ভাব দেখা দেওয়া খুবই সাধারণ বিষয়। এই সমস্যা কমাতে গাজর ও বেসনের প্যাক ব্যবহার করতে পারেন।
১টি মাঝারি আকারের গাজরের পেস্টের সঙ্গে ১ চা চামচ বেসন এবং প্রয়োজনমতো কাঁচা দুধ মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। এরপর মুখ, গলা কিংবা হাত-পায়ে লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে হালকা হাতে ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। গাজরে থাকা বিটা-ক্যারোটিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের যত্নে সহায়ক। অন্যদিকে বেসন অতিরিক্ত তেল ও ময়লা পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক পরিষ্কার ও সতেজ দেখাতে পারে।
ব্যবহারের আগে সতর্ক থাকা
যদিও এসব উপাদান প্রাকৃতিক, তবুও সবার ত্বক একরকম নয়। তাই নতুন কোনো প্যাক ব্যবহারের আগে হাতে বা কানের পেছনে অল্প লাগিয়ে প্যাচ টেস্ট করে নেওয়া ভালো। ত্বকে জ্বালাপোড়া, অ্যালার্জি বা সংক্রমণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার না করাই নিরাপদ।
নিয়মিত যত্নই সৌন্দর্যের চাবিকাঠি
একদিন বা দুইদিন ব্যবহার করেই বিশাল পরিবর্তনের আশা করা ঠিক নয়। যেকোনো প্রাকৃতিক উপাদানই নিয়মিত ব্যবহার করলে ধীরে ধীরে এর সুফল পাওয়া যায়। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাদ্য গ্রহণ, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহারও ত্বক ভালো রাখার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
প্রাকৃতিক উপাদানের সুবিধা হলো এগুলো সহজলভ্য, সাশ্রয়ী এবং সঠিকভাবে ব্যবহার করলে ত্বকের নিয়মিত যত্নে সহায়ক হতে পারে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, ফেমিনা ও অন্যান্য
এসএকেওয়াই
What's Your Reaction?

