নামাজের আবেদন নষ্ট করে তিন কাজ

নামাজে উদাসীন থাকা : যেসব নামাজি উদাস মনে বা অলসতা করে নামাজ পড়ে তাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে কঠোর উক্তি করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘দুর্ভোগ ওই সব মুসল্লির জন্য, যারা তাদের নামাজ সম্পর্কে উদাসীন।’ (সুরা মাউন : ৪-৫)। এ আয়াতের ব্যাখ্যায় মুফাসসিররা লিখেছেন, এরা হলো সেইসব লোক, যারা নামাজ থেকে উদাসীন ও খেল-তামাশায় ব্যস্ত। উদাসীন লোকদের মধ্যে একদল এমন আছে, যারা রুকু-সেজদা, ওঠা-বসা যথাযথভাবে করে না। কেরাত, দোয়া ও তাসবিহ যথাযথভাবে পাঠ করে না। কোনো কিছুর অর্থ বোঝে না বা বোঝবার চেষ্টাও করে না। আজান শোনার পরও যারা অলসতাবশে এবং নামাজে দাঁড়িয়ে অমনোযোগী থাকে। নামাজে তাড়াহুড়ো করা: যারা দায়সারাভাবে নামাজ পড়ে এবং নামাজের বিধিবিধানগুলো যথাযথভাবে পালন করে না। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) মসজিদে প্রবেশ করেন। তখন জনৈক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করে নামাজ আদায় শেষে রাসুলুল্লাহকে (সা.) সালাম দিল। তিনি সালামের জবাব দিয়ে বলেন, তুমি যাও, ফের নামাজ আদায় করো। কেননা তুমি নামাজ আদায় করোনি। এভাবে লোকটি তিনবার নামাজ আদায় করল। রাসুল (সা.) তাকে তিনবারই ফিরিয়ে দিলেন। তখন লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসুল!

নামাজের আবেদন নষ্ট করে তিন কাজ

নামাজে উদাসীন থাকা : যেসব নামাজি উদাস মনে বা অলসতা করে নামাজ পড়ে তাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে কঠোর উক্তি করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘দুর্ভোগ ওই সব মুসল্লির জন্য, যারা তাদের নামাজ সম্পর্কে উদাসীন।’ (সুরা মাউন : ৪-৫)। এ আয়াতের ব্যাখ্যায় মুফাসসিররা লিখেছেন, এরা হলো সেইসব লোক, যারা নামাজ থেকে উদাসীন ও খেল-তামাশায় ব্যস্ত। উদাসীন লোকদের মধ্যে একদল এমন আছে, যারা রুকু-সেজদা, ওঠা-বসা যথাযথভাবে করে না। কেরাত, দোয়া ও তাসবিহ যথাযথভাবে পাঠ করে না। কোনো কিছুর অর্থ বোঝে না বা বোঝবার চেষ্টাও করে না। আজান শোনার পরও যারা অলসতাবশে এবং নামাজে দাঁড়িয়ে অমনোযোগী থাকে।

নামাজে তাড়াহুড়ো করা: যারা দায়সারাভাবে নামাজ পড়ে এবং নামাজের বিধিবিধানগুলো যথাযথভাবে পালন করে না। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) মসজিদে প্রবেশ করেন। তখন জনৈক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করে নামাজ আদায় শেষে রাসুলুল্লাহকে (সা.) সালাম দিল। তিনি সালামের জবাব দিয়ে বলেন, তুমি যাও, ফের নামাজ আদায় করো। কেননা তুমি নামাজ আদায় করোনি। এভাবে লোকটি তিনবার নামাজ আদায় করল। রাসুল (সা.) তাকে তিনবারই ফিরিয়ে দিলেন। তখন লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসুল! যিনি আপনাকে সত্য সহকারে প্রেরণ করেছেন, তার কসম করে বলছি, এর চাইতে সুন্দরভাবে আমি নামাজ আদায় করতে জানি না। অতএব আমাকে নামাজ শিখিয়ে দিন! অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যখন তুমি নামাজে দাঁড়াবে তখন তাকবির দেবে। তারপর কোরআন থেকে যা পাঠ করা তোমার কাছে সহজ মনে হয়, তা পাঠ করবে। তারপর ধীরস্থিরভাবে রুকু করবে। অতঃপর সোজা হয়ে দাঁড়াবে। তারপর ধীরস্থিরভাবে সিজদা করবে। অতঃপর মাথা উঠিয়ে সোজা হয়ে বসবে। আর প্রতি নামাজ এভাবে আদায় করবে।’ (বুখারি : ৭৫৭)। অন্য হাদিসে এসেছে, ‘মানুষের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বড় চোর ওই ব্যক্তি যে তার নামাজ চুরি করে। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! সে কীভাবে নামাজ চুরি করে? তিনি বলেন, সে নামাজে রুকু ও সিজদা পূর্ণ করে না।’ (মুসনাদে আহামাদ : ২২৬৯৫)।

নামাজে রিয়া অবলম্বন : যারা মানুষের প্রশংসা কুড়াবার জন্য নামাজে সৌন্দর্য ও বিনয় অবলম্বন করে তাদের রিয়া অবলম্বনকারী বলা হয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘...যারা লোক দেখানোর জন্য নামাজ পড়ে।’ (সুরা মাউন : ৬)। মুনাফেকরা মানুষকে দেখানোর জন্য নামাজ পড়ত। আল্লাহতায়ালা অন্য আয়াতে বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই মুনাফেকরা আল্লাহকে ধোঁকা দেয়, আর তিনিও তাদের ধোঁকায় ফেলেন। যখন ওরা নামাজে দাঁড়ায়, তখন অলসভাবে দাঁড়ায়, লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে। আর তারা আল্লাহকে অল্পই স্মরণ করে।’ (সুরা নিসা : ১৪২)। আল্লাহতায়ালা লোক-দেখানো ইবাদতকারীকে তার আমলসহ প্রত্যাখ্যান করেন। হাদিসে কুদসিতে এসেছে, আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আমি উপাসনায় অংশ নির্ধারণে সব অংশীদারের তুলনায় মুখাপেক্ষীহীন। যে ব্যক্তি কোনো আমল করে এবং তাতে অন্যকে আমার সঙ্গে শরিক করে, আমি তাকে ও তার আমলকে বর্জন করি।’ (মুসলিম : ২৯৮৫)। আল্লাহ সবাইকে নামাজে এসব দোষ-ত্রুটি থেকে বেঁচে থাকার এবং নামাজের মাধ্যমে আল্লাহতায়ালার নৈকট্য অবলম্বনের তওফিক দান করুন।

লেখক: মাদ্রাসা শিক্ষক

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow