বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, সংস্কার বিষয়ক কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি, প্রতিশ্রুত জুলাই সনদ প্রণয়ন এবং স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের বিচারের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি ছাড়াই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করা আসলে জনগণের সঙ্গে প্রতারণার কৌশল। এতে মনে হচ্ছে যেন নির্বাচনই একমাত্র জরুরি বিষয়; জনগণের প্রত্যাশা কিংবা আকাঙ্ক্ষা গৌণ। জুলাই-আগস্টের আত্মত্যাগ শুধু একটি নির্বাচনের জন্য ছিল না; বরং সংস্কার, বিচার এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের ভিত্তি প্রতিষ্ঠার জন্যই ছিল।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা জালালুদ্দীন বলেন, নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার মাধ্যমে সংস্কার, বিচার এবং জুলাই সনদের গুরুত্বকে অগ্রাহ্য করা হয়েছে, যা জনগণের প্রত্যাশার পরিপন্থি। আমরা মনে করি— এটি জনগণের রক্তের সঙ্গে করা এক প্রকার প্রতারণা। নির্বাচন অবশ্যই হতে হবে, তবে কোনোভাবেই সেই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য নয় যা জনগণের অংশগ্রহণবিহীন হবে বা জনগণের আগ্রহ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হবে। আর কোনোভাবেই এমন নির্বাচন আয়োজন করা চলবে না, যা আবারও শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী নির্বাচনের নকশাকে সামনে নিয়ে আসে।
তিনি আরও বলেন, দেশের জনগণ এমন নির্বাচন চায় না যা কেবল আনুষ্ঠানিকতার জন্য হয়। জনগণ চায় প্রকৃত সংস্কার-ভিত্তিক এবং জুলাই সনদের ওপর দাঁড়ানো একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কার ও বিচারের রোডম্যাপ এবং জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নির্ধারণ করে জনগণকে আস্থায় নিন, তারপর নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যান। অন্যথায়, নির্বাচন প্রহসনে রূপ নেবে এবং এর দায়ভার সম্পূর্ণভাবে সরকারের ওপর বর্তাবে।