নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে স্কুলছাত্রী (১৩) ও তরুণকে গাছের সঙ্গে বেঁধে প্রকাশ্যে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে লজ্জায় ভুক্তভোগী ছাত্রী আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে তার পরিবারের দাবি। শুক্রবার (৩০ জুলাই) রাতে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে গত ২৮ জুলাই দুপুরে উপজেলার একটি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জুলাই ওই ছাত্রীকে বিদ্যালয়ের বাইরে থেকে এবং তরুণকে তার বাড়ি থেকে ডেকে বিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। আগের দিন তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পেয়েছিলেন বলে কয়েকজনের দাবি। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি গাছের সঙ্গে গামছা দিয়ে তাদের একসঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। এ সময় উপস্থিত কয়েকজন ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় নয়ন বাড়ৈ, জয় শিকদার, মিশন রায়সহ আরও কয়েকজন জড়িত বলে অভিযোগ। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নয়ন বাড়ৈ জানায়, ‘আপত্তিকর অবস্থায় ধরার পর এলাকার কয়েক
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে স্কুলছাত্রী (১৩) ও তরুণকে গাছের সঙ্গে বেঁধে প্রকাশ্যে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে লজ্জায় ভুক্তভোগী ছাত্রী আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে তার পরিবারের দাবি।
শুক্রবার (৩০ জুলাই) রাতে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে গত ২৮ জুলাই দুপুরে উপজেলার একটি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জুলাই ওই ছাত্রীকে বিদ্যালয়ের বাইরে থেকে এবং তরুণকে তার বাড়ি থেকে ডেকে বিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। আগের দিন তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পেয়েছিলেন বলে কয়েকজনের দাবি। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি গাছের সঙ্গে গামছা দিয়ে তাদের একসঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়।
এ সময় উপস্থিত কয়েকজন ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় নয়ন বাড়ৈ, জয় শিকদার, মিশন রায়সহ আরও কয়েকজন জড়িত বলে অভিযোগ। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নয়ন বাড়ৈ জানায়, ‘আপত্তিকর অবস্থায় ধরার পর এলাকার কয়েক যুবক আমার বাড়ির ওপর দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। আমি তাদের বিদ্যালয়ে নিয়ে অভিভাবকদের হাতে তুলে দিই। তবে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের বিষয়টি আমার জানা নেই।’
স্থানীয় লোকজনের দাবি, নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়া, অপমান ও মানসিক যন্ত্রণার কারণে ওই ছাত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে তাকে স্থানীয় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখান থেকে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠান।
দাবি করা হয় ২০ হাজার টাকা দিতে। পরবর্তীতে তাৎক্ষণিক পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে তাদেরকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায় তার পরিবার।
নির্যাতনের শিকার তরুণের মা কালবেলাকে বলেন, আমার ছেলেকে কিছু পোলাপান বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে স্কুলের গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করে ২০ হাজার টাকা দাবি করে। পরে ছেলেকে বাঁচাতে প্রাথমিক পর্যায়ে ৫ হাজার টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে আনা হয়।
তিনি আরও বলেন, আমার ছেলের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত মেয়ের পরিবার বা স্কুল কর্তৃপক্ষের কোনো অভিযোগ নেই। অকারণে কোনো অপরাধ ছাড়া আমার ছেলেকে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে। এতকিছুর পরও আমার বিচার চাওয়ার সাহস নেই। বর্তমানে আমার ছেলে ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে, আমার চাওয়া ছেলেটা আমার সুস্থ থাকুক।
অন্যদিকে ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা কালবেলাকে বলেন, আমরা বকেছি তাই সে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। সে কারোর নাম বলছে না ভয়ে। বলতে গেলেই দুচোখ বেয়ে শুধু পানি পড়ে।
ভুক্তভোগী ছাত্রী কালবেলাকে বলেন, স্থানীয় নয়নের নেতৃত্বে জয় ও মিশন আমাকে ধরে নিয়ে আসে। এ ছাড়া ওই ছেলেকে তার বাড়ি থেকে নিয়ে এসে দুজনকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর ও মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে। আরও অনেকে ছিল। আমি আর কাউকে চিনি না। স্কুল খোলা ছিল। সবাই দেখেছে, স্যাররাও কিছু বলেনি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে বহিরাগতদের এমন ন্যক্কারজনক আচরণের পদক্ষেপ জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিৎ সরকার কালবেলাকে বলেন, আমি শুনেছি, তবে বিদ্যালয়ে তখন উপস্থিত ছিলাম না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও জানাননি বলে জানান তিনি।
কাশিয়ানী থানার ওসি মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, কোনো অভিযোগ পাইনি, তবে অপরাধীদের আটক করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহিন মিয়া কালবেলাকে বলেন, ঘটনাটি আমার নজরে আসেনি। তবে এমন ঘটনা ঘটলে এবং অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবিবউল্লাহ বলেন, পুলিশের অভিযান চলছে। দ্রুত অপরাধীদের আটক করা হবে।
What's Your Reaction?