নিষিদ্ধ পলিথিনের স্বর্গরাজ্য চট্টগ্রাম, থামছে না সরবরাহ

বাংলাদেশে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে পাতলা পলিথিন ব্যাগের উৎপাদন, মজুত, পরিবহন, বিক্রি ও ব্যবহার আইনগতভাবে নিষিদ্ধ। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। চট্টগ্রাম নগরীতে নিষিদ্ধ এই পণ্যের অবাধ বাণিজ্য চলছে প্রকাশ্যেই।  চাকতাই, খাতুনগঞ্জের বাণিজ্যিক বলয়, রাজাখালী, বাকলিয়া, আছাদগঞ্জ, রিয়াজউদ্দিন বাজার, পাহাড়তলী, চকবাজারসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বিশাল সরবরাহ নেটওয়ার্ক। প্রতিদিন ট্রাকভর্তি পলিথিন এসব এলাকায় পৌঁছে, সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়ে নগরীর কাঁচাবাজার, মাছের আড়ত, মুদি দোকান এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলায়। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বৃহত্তর চট্টগ্রামের নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে ১০ থেকে ১২ জন ব্যবসায়ীর একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট। তাদের নিয়ন্ত্রণেই প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকার পলিথিন ব্যাগ নগরী ও আশপাশের জেলায় সরবরাহ হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ বাণিজ্য চললেও কার্যকরভাবে তা বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল থেকে নিয়মিত ট্রাকযোগে পলিথিন চট্টগ্রামে আসে। প্রতিটি ট্রাকে থাকে প্রায় ১৩০ থেকে ১৪০ ব

নিষিদ্ধ পলিথিনের স্বর্গরাজ্য চট্টগ্রাম, থামছে না সরবরাহ
বাংলাদেশে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে পাতলা পলিথিন ব্যাগের উৎপাদন, মজুত, পরিবহন, বিক্রি ও ব্যবহার আইনগতভাবে নিষিদ্ধ। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। চট্টগ্রাম নগরীতে নিষিদ্ধ এই পণ্যের অবাধ বাণিজ্য চলছে প্রকাশ্যেই।  চাকতাই, খাতুনগঞ্জের বাণিজ্যিক বলয়, রাজাখালী, বাকলিয়া, আছাদগঞ্জ, রিয়াজউদ্দিন বাজার, পাহাড়তলী, চকবাজারসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বিশাল সরবরাহ নেটওয়ার্ক। প্রতিদিন ট্রাকভর্তি পলিথিন এসব এলাকায় পৌঁছে, সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়ে নগরীর কাঁচাবাজার, মাছের আড়ত, মুদি দোকান এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলায়। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বৃহত্তর চট্টগ্রামের নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে ১০ থেকে ১২ জন ব্যবসায়ীর একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট। তাদের নিয়ন্ত্রণেই প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকার পলিথিন ব্যাগ নগরী ও আশপাশের জেলায় সরবরাহ হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ বাণিজ্য চললেও কার্যকরভাবে তা বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল থেকে নিয়মিত ট্রাকযোগে পলিথিন চট্টগ্রামে আসে। প্রতিটি ট্রাকে থাকে প্রায় ১৩০ থেকে ১৪০ বস্তা পলিথিন। প্রতিটি বস্তায় ২০ হাজার থেকে আড়াই লাখ পর্যন্ত পলিথিন ব্যাগ থাকে। এসব চালান প্রথমে নগরীর কয়েকটি নির্দিষ্ট গুদামে মজুত করা হয়। পরে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে তা নগরী ও জেলার বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ৪ সেপ্টেম্বর চকবাজার কাঁচাবাজারে পরিচালিত অভিযানে হাসান স্টোর থেকে প্রায় ৫০ কেজি পলিথিন জব্দ করে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এরপর ২০২৩ সালের ২ অক্টোবর ওসমানিয়া গলি ও রহমান অ্যান্ড ব্রাদার্সের গুদাম থেকে প্রায় ১ হাজার ৭০০ কেজি পলিথিন জব্দ এবং ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সময়ে নগরীর জেল রোড, আছাদগঞ্জ, রিয়াজউদ্দিন বাজার, চাকতাই ও বাকলিয়ার পৃথক অভিযানে আরও প্রায় ২ হাজার ৯৭৬ কেজি পলিথিন জব্দ এবং ৪৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এ সময় একাধিক গুদাম সিলগালা করা হয় এবং কয়েকটি গুদামের তালা ভেঙে অভিযান চালানো হয়। ২০২৪ সালের ৯ জুলাই জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে ফুলতলা এলাকায় বিসমিল্লাহ পলি ইন্ডাস্ট্রিজে অভিযান চালিয়ে আড়াই হাজার কেজির বেশি পলিথিন জব্দ, ৫৬৫ কেজি উদ্ধার এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর পাহাড়তলী বাজারে ৪০০ কেজি পলিথিন জব্দ করা হয় এবং দুইজনকে আটক করে জরিমানা করা হয়। ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট বাকলিয়া, রাজাখালী এলাকায় যৌথ অভিযানে চারটি প্রতিষ্ঠানকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। চলতি বছরের ৩০ জুন পাহাড়তলীর নিউ পনি পলিথিন বিতান থেকে ১৬৫ কেজি পলিথিন জব্দ এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই অভিযানে মনসুর ডাইং অ্যান্ড থ্রেড ফ্যাক্টরি ও মেসার্স ব্রাইট অ্যাক্সেসরিজের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। একের পর এক অভিযানে হাজার হাজার কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ হলেও নগরীজুড়ে গড়ে ওঠা সরবরাহ নেটওয়ার্ক ভাঙা যায়নি। অভিযানে সাধারণত কর্মচারী বা নিম্নস্তরের লোকজন গ্রেপ্তার হলেও মূল হোতারা অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। ফলে এসব দোকান বা কারখানা কিছুদিন বন্ধ থাকলেও পরে আবার চালু হয়ে যায়।  বিভিন্ন সময়ের অভিযানের পর্যালোচনায় দেখা যায়, নিষিদ্ধ পলিথিন সরবরাহ চক্রের কেন্দ্র হিসেবে বারবার উঠে এসেছে চাকতাই, রাজাখালী, ওসমানিয়া গলি ও মসজিদ গলিসহ আশপাশের এলাকা। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ১০-১২ জনের একটি সিন্ডিকেট রাজনৈতিক পরিচয়ে এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের পরিচালক সোনিয়া সুলতানা কালবেলাকে বলেন, ‘নিষিদ্ধ পলিথিনের বিরুদ্ধে আমাদের মোবাইল কোর্টের অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। শুধু অভিযান নয়, জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও আমরা কাজ করছি। বিশেষ করে সুপারশপগুলোতে পলিথিনের ব্যবহার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। এখন কাঁচাবাজারসহ অন্যান্য খাতে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘গত বছর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সম্প্রতি পাহাড়তলী এলাকায় পরিচালিত অভিযানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।’ সোনিয়া সুলতানা আরও বলেন, ‘পলিথিনের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ও পচনশীল বিকল্প পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে আমরা কাজ করছি। একসময় মানুষ পলিথিন ছাড়াই দৈনন্দিন কাজ করত, সেই অভ্যাসে ফিরে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। তবে এই সমস্যা মোকাবিলায় জনসচেতনতা এবং সবার সম্মিলিত উদ্যোগই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’ তবে বাজারে পলিথিনের বিকল্প ব্যাগের এখনো প্রবর্তন দেখা যায়নি। চট ও কাগজের ব্যাগের ব্যবহার চোখে পড়েনি। নগরের চকবাজার, রেয়াজউদ্দিন বাজার, অক্সিজেন, বকশিরহাট, কাজির দেউড়ি, বহদ্দারহাটসহ কাঁচাবাজারে বিক্রেতারা ক্রেতাদের পলিথিনে মাছ, মাংস ও সবজি সরবরাহ করছেন। নগরের চকবাজারে দেখা যায়, সবজি বিক্রেতা পলিথিনে সবজি দিচ্ছেন। নাম প্রকাশ না করে ওই সবজি বিক্রেতা বলেন, ‘পলিথিন না দেওয়ার জন্য আমাদের বলা হয়েছে। কিন্তু বিকল্প কোনো কিছু তো নেই। তাই বাধ্য হয়েই পলিথিন ব্যবহার করতে হচ্ছে।’ শামসুল আলম নামের এক দোকানদার বলেন, ‘পলিথিন ব্যবহার বন্ধ বলে প্রচার চলছে শুনেছি। কিন্তু আমাদের এদিকে কেউ আসেনি। তবে আমরা কম ব্যবহার করার চেষ্টা করছি। মুদিবাজারে কিছু কিছু কাগজের প্যাকেট বা পেপার দেওয়া যায়, কিন্তু অন্যগুলোর ক্ষেত্রে পলিথিন ব্যবহার করতেই হয়। কারণ বাজারে এখনো কার্যকর বিকল্প প্যাকেট নেই।’ নগরের রেয়াজউদ্দিন বাজার, কোরবানিগঞ্জ, জেল রোড, চাক্তাইসহ বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি হারে পলিথিন বিক্রি করা হয়। এসব দোকান বা কারখানায় বিভিন্ন সময় অভিযান চালানো হলেও পরে এগুলো পুনরায় চালু হয়ে যায়। এদিকে চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি প্রকাশিত পরিবেশবিষয়ক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এসডিওর এক সমীক্ষায় দেখা যায়, পলিথিন পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এবং এর ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এ তথ্য জানার পরও দেশের ৬৩ শতাংশ মানুষ পলিথিন ব্যবহার করেন। তবে সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য বিকল্প পাওয়া গেলে ৫৫ শতাংশ খুচরা বিক্রেতা পলিথিনের পরিবর্তে বিকল্প ব্যাগ ব্যবহারে আগ্রহী। সমীক্ষায় বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার ২৩ বছর পরও পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ না হওয়ার পেছনে সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতা, আইন প্রয়োগে দুর্বলতা, বিকল্প পরিবেশবান্ধব ব্যাগের অপ্রতুলতা এবং বড় উৎপাদকদের পরিবর্তে খুচরা পর্যায়ে বেশি অভিযান পরিচালনাকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চট্টগ্রাম নগরে পলিথিন ব্যবহারের মাত্রা এখন উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রায় ৭০ লাখ জনসংখ্যার এই নগরীতে প্রতিজন দৈনিক অন্তত একটি করে পলিথিন ব্যবহার করলে প্রতিদিন ব্যবহার হয় প্রায় ৭০ লাখ ব্যাগ। সে হিসাবে মাসে প্রায় ২১ কোটি এবং বছরে প্রায় ২৫০ কোটি পলিথিন ব্যাগ ব্যবহৃত হচ্ছে। নিষিদ্ধ পলিথিনের অবাধ ব্যবহারের প্রভাব স্পষ্ট কর্ণফুলী নদীতেও। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (বুয়েট)-এর এক গবেষণায় নদীর তলদেশে দুই থেকে সাত মিটার পর্যন্ত পলিথিনের স্তর জমে থাকার তথ্য উঠে আসে। এর আগে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ড্রেজিং কার্যক্রমেও পলিথিন বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ড্রেজারের কাটারের ব্লেডে পলিথিন জড়িয়ে কাজ ব্যাহত হওয়ায় বিশেষ ধরনের ড্রেজার ব্যবহার করতে হয়। এতে প্রকল্প ব্যয় ২৫৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৩০০ কোটি টাকারও বেশি হয়ে যায়। পরিবেশবিদ অধ্যাপক ইদ্রিস আলী জানান, ‘কর্ণফুলী নদীর সর্বনাশ ডেকে আনছে পলিথিন। নালা, নর্দমার মাধ্যমে এটি নদীতে গিয়ে জমছে এবং তলদেশে স্তূপ হয়ে গেছে। এতে নদীতে চলমান খনন কার্যক্রমও বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ২০২১ সালের বর্জ্যবিষয়ক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নগরের বিভিন্ন খাল হয়ে প্রতিদিন অন্তত ৭৮৫ টন বর্জ্য মিশছে কর্ণফুলীতে। এর মধ্যে বেশি থাকে প্লাস্টিক ও পলিথিন। এসব আবর্জনায় পানিদূষণ ও নদীর গভীরতা কমে আসছে। নগরীর প্রতিটি সড়ক ও অলিগলিতে ছড়িয়ে থাকা পলিথিন পরিবেশ দূষণকে আরও তীব্র করছে। হালিশহরসহ বিভিন্ন ময়লার ভাগাড়ে বিপুল পরিমাণ পলিথিন জমে দীর্ঘমেয়াদে মাটি ও পরিবেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্যের কারণে পরিবেশ দূষণ ও বিরূপ প্রভাব শীর্ষক চুয়েটের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতিদিন প্রায় ২৫০ টন প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য উৎপাদিত হয়, যার ১৪০ টন সংগ্রহ করা যায় না। এসব বর্জ্য নদীতে গিয়ে পড়ে। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) গবেষক স্বপন কুমার পালিত জানান, ‘নদীর তলদেশে ব্যাপকভাবে পলিথিন জমা হয়েছে। ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে উত্তোলিত মাটিতেও পলিথিন ও অন্যান্য প্লাস্টিক দ্রব্য পাওয়া যাচ্ছে, যা নদীর জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ না করলে নদী কখনোই পলিথিনমুক্ত করা সম্ভব নয়।’ নদীর তলদেশ পলিথিনে ভরে যাওয়াকে উদ্বেগজনক বলছেন পরিবেশবিদরা। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা তাদের। উল্লেখ্য, ৫৫ মাইক্রন পুরুত্বের নিচে পলিথিনের শপিংব্যাগ নিষিদ্ধ। এগুলো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ২০০২ সালের ১ মার্চ আইন করে বিষাক্ত পলিথিন উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশ। তবে দেশে পলিথিনের ব্যবহার কমেনি, বরং দুই দশকের বেশি সময় ধরে এটি বাড়তে দেখা গেছে। এরপর সরকার ২০১০ সালে আরেকটি আইন করে, কিন্তু এই আইনও বাস্তবে কার্যকর হয়নি।  

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow