নিষিদ্ধ হচ্ছে একদিনের মুরগির বাচ্চা আমদানি, ব্যবসায়ীদের আপত্তি

দেশে একদিন বয়সি মুরগির বাচ্চার আমদানি নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে সরকার। জাতীয় পোলট্রি উন্নয়ন নীতিমালার চূড়ান্ত খসড়ায় এ সিদ্ধান্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে প্রান্তিক খামারিরা বলছেন, এখন দেশের হাতে গোনা কয়েকটি করপোরেট প্রতিষ্ঠান মুরগির বাচ্চা উৎপাদনের প্রায় পুরোটা নিয়ন্ত্রণ করে। পাশাপাশি তারা মুরগি পালনও করে থাকে। ফলে একদিনের বাচ্চা আমদানি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর করলে এ খাত ওইসব কোম্পানির হাতে আরও জিম্মি হয়ে পড়বে। চূড়ান্ত খসড়ার নীতিমালা অনুযায়ী, বাণিজ্যিক পোলট্রি পালনের জন্য একদিন বয়সি বাচ্চা আমদানি করা যাবে না। কেবল একদিন বয়সি গ্র্যা প্যারেন্ট স্টক এবং বাচ্চার সংকট দেখা দিলে ক্ষেত্রবিশেষে প্যারেন্ট স্টক আমদানি করা যাবে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। তবে এ খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বাস্তবে দেশে একদিন বয়সি বাচ্চা উৎপাদন এখনো সীমিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো একটিতে বিপর্যয় দেখা দিলেও উৎপাদন কার্যক্রম হঠাৎ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে যে কোনো সময় বাচ্চার সংকট হবে। অস্বাভাবিক বেড়ে যাবে দাম। পরবর্তীতে ব্রয়লার ও লেয়ার উৎপাদন

নিষিদ্ধ হচ্ছে একদিনের মুরগির বাচ্চা আমদানি, ব্যবসায়ীদের আপত্তি

দেশে একদিন বয়সি মুরগির বাচ্চার আমদানি নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে সরকার। জাতীয় পোলট্রি উন্নয়ন নীতিমালার চূড়ান্ত খসড়ায় এ সিদ্ধান্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তবে প্রান্তিক খামারিরা বলছেন, এখন দেশের হাতে গোনা কয়েকটি করপোরেট প্রতিষ্ঠান মুরগির বাচ্চা উৎপাদনের প্রায় পুরোটা নিয়ন্ত্রণ করে। পাশাপাশি তারা মুরগি পালনও করে থাকে। ফলে একদিনের বাচ্চা আমদানি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর করলে এ খাত ওইসব কোম্পানির হাতে আরও জিম্মি হয়ে পড়বে।

চূড়ান্ত খসড়ার নীতিমালা অনুযায়ী, বাণিজ্যিক পোলট্রি পালনের জন্য একদিন বয়সি বাচ্চা আমদানি করা যাবে না। কেবল একদিন বয়সি গ্র্যা প্যারেন্ট স্টক এবং বাচ্চার সংকট দেখা দিলে ক্ষেত্রবিশেষে প্যারেন্ট স্টক আমদানি করা যাবে।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

তবে এ খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বাস্তবে দেশে একদিন বয়সি বাচ্চা উৎপাদন এখনো সীমিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো একটিতে বিপর্যয় দেখা দিলেও উৎপাদন কার্যক্রম হঠাৎ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে যে কোনো সময় বাচ্চার সংকট হবে। অস্বাভাবিক বেড়ে যাবে দাম। পরবর্তীতে ব্রয়লার ও লেয়ার উৎপাদন কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে আমদানির সুযোগ না থাকলে বাড়বে সিন্ডিকেট।

বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন বলছে, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও বিকল্প উৎপাদন সক্ষমতা নিশ্চিত না করে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হলে দেশে ডিম ও মুরগির মাংসের সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে, যা সরাসরি জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজার স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

জরুরি প্রয়োজনে বাচ্চা বা প্যারেন্ট স্টক আমদানির প্রয়োজন হলেও তা দীর্ঘ ও জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে করতে হয়। ফলে আকস্মিক বাচ্চার সংকট দেখা দিলে তাৎক্ষণিক আমদানির মাধ্যমে বাজার স্থিতিশীল রাখা কার্যকরভাবে সম্ভব হয় না। একদিন বয়সি বাচ্চা আমদানি পুরোপুরি বন্ধ করা হলে বাজারে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হওয়ার পাশাপাশি প্রান্তিক খামারিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিআইএ) সভাপতি মোশারফ হোসাইন চৌধুরী বলেন, এ শিল্প কেবল একটি ব্যবসায়িক খাত নয়, এটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক না কেন তা যেন প্রান্তিক খামারির পক্ষে যায় সেটা আগে ভাবতে হবে। খামারিরা যেন সঠিক সময়ে ন্যায্য দামে বাচ্চা পান সেটা আগে নিশ্চিত করতে হবে।

অন্যদিকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তার দাবি, নীতিমালায় একদিনের বাচ্চা আমদানি নিষিদ্ধের যে বিষয়টি সংযোজন করতে যাচ্ছে সেটি যথার্থ। কারণ, দেশে এখন বিশ্বমানের অসংখ্য ব্রিডার ফার্ম রয়েছে, যারা বাচ্চার চাহিদা পূরণ করে যাচ্ছে। এ অবস্থায় বাণিজ্যিকভাবে পালনের জন্য বিদেশ থেকে একদিনের বাচ্চা আমদানি না করা সমীচীন।

তিনি বলেন, যদি একদিনের মুরগির বাচ্চা আমদানি করা হয়, তাহলে স্থানীয় উৎপাদনকারীরা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বেন। তা ছাড়া দেশে পোলট্রি খাতে যত রোগ এসেছে সেটি আমদানির মাধ্যমে এসেছে।

এনএইচ/আরএইচ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow