পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, ড. ইউনূস নাকি মির্জা ফখরুল?

পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে নানা গুঞ্জন আছে। শনিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তথা দলের চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বাস্তবতা হলো, রাষ্ট্রপতি কে হবেন সেটি প্রধানমন্ত্রীর উপরেই নির্ভর করে। অতীতের অভিজ্ঞতা তা-ই বলে। প্রধানমন্ত্রী হয়তো দলের শীর্ষ নেতাদের পরামর্শ নিতে পারেন। কিন্তু কাকে রাষ্ট্রপতি বানালে সরকার ও দলের সুবিধা হবে এবং দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক অঙ্ক মেলাতে কাকে রাষ্ট্রপতি বানালে সব কূল রক্ষা করা যাবে—সেটিও দল, বিশেষ করে দলীয় প্রধানকে বিবেচনায় রাখতে হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন তা নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। নির্বাচনের আগে থেকে অবশ্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নামটিই সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয়েছিল। রাজনৈতিক পরিসরে এমন কথাও শোনা গিয়েছিল যে, বিএনপি সরকার গঠন করলে ড. ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি বানানো হবে—এমন শর্তেই ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হয়েছে। না হয় অন্তর্বর্তী সরকার নানা বাহানায় নির্বাচনটি পিছিয়ে দেয়া হতো। যদিও এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। ব

পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, ড. ইউনূস নাকি মির্জা ফখরুল?

পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে নানা গুঞ্জন আছে। শনিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তথা দলের চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

বাস্তবতা হলো, রাষ্ট্রপতি কে হবেন সেটি প্রধানমন্ত্রীর উপরেই নির্ভর করে। অতীতের অভিজ্ঞতা তা-ই বলে। প্রধানমন্ত্রী হয়তো দলের শীর্ষ নেতাদের পরামর্শ নিতে পারেন। কিন্তু কাকে রাষ্ট্রপতি বানালে সরকার ও দলের সুবিধা হবে এবং দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক অঙ্ক মেলাতে কাকে রাষ্ট্রপতি বানালে সব কূল রক্ষা করা যাবে—সেটিও দল, বিশেষ করে দলীয় প্রধানকে বিবেচনায় রাখতে হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন তা নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। নির্বাচনের আগে থেকে অবশ্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নামটিই সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয়েছিল। রাজনৈতিক পরিসরে এমন কথাও শোনা গিয়েছিল যে, বিএনপি সরকার গঠন করলে ড. ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি বানানো হবে—এমন শর্তেই ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হয়েছে। না হয় অন্তর্বর্তী সরকার নানা বাহানায় নির্বাচনটি পিছিয়ে দেয়া হতো। যদিও এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই।

বিএনপি সরকার গঠনের পরে ড. ইউনূসের নাম ছাপিয়ে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতার নাম বেশি উচ্চারিত হতে থাকে। তারা হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান এবং ড. মঈন খান। সম্প্রতি অবশ্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নামও সোশ্যাল মিডিয়ায় এসেছে। কিন্তু এটিকে বাস্তবসম্মত বলে মনে হয় না। সেইসাথে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব আইরিন খানেরও নাম এসেছে—যিনি আত্মীয়তার সূত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানের ঘনিষ্ঠ। বলা হচ্ছে, আইরিন খানকে রাষ্ট্রপতি বানানোর মধ্য দিয়ে বিএনপি দেশে প্রথম কাউকে নারী প্রেসিডিন্টে বানিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করতে চায়। যেমন ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়ে। কিন্তু আইরিন খান যেহেতু ওই অর্থে কখনো বাংলাদেশে দীর্ঘদিন বসবাস করেননি এবং তার আন্তর্জাতিক দুনিয়াতেই বিচরণ বেশি, ফলে তিনি নিজে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হতে চান কি না, সেটিও বড় প্রশ্ন।

স্মরণ করা যেতে পারে, বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে যখন রাষ্ট্রপতি করা হলো, তিনি কোনো আলোচনাতেই ছিলেন না। গণমাধ্যমে যেসব সংবাদ এসেছে, সেখানেও তার নাম ছিল না। কিন্তু শেষ মুহূর্তে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার নাম ঘোষণাটি ছিল বিরাট চমক। বিএনপিও সেরকম চমক দেখাবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে অভ্যুত্থানের পরে একটি দুর্বল ও ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং অস্থির রাজনৈতিক আবহের মধ্যে দায়িত্ব গ্রহণের ফলে বিএনপি যে ধরনের চ্যালেঞ্জের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে, তাতে মো. সাহাবুদ্দিনের মতো কোনো চমক দেখাবে বলে মনে হয় না। ররং তাদেরকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে এমন একজনকে বেছে নিতে হবে, দলমত নির্বিশেষে যার ব্যাপারে মানুষের শ্রদ্ধা ও সমীহ আছে; দলীয় আনুগত্যের পরীক্ষায় যিনি উত্তীর্ণ; যিনি রাষ্ট্রপতির মতো একটি গুরুভার বহনে সক্ষম; যার জ্ঞান ও বিচক্ষণতা নিয়ে প্রশ্ন নেই। এরকম লোক কি বিএনপিতে নেই? নিশ্চয়ই আছে। সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে যাদের নাম এসেছে, তাদের প্রত্যেকেরই এই গুণাবলি রয়েছে। কিন্তু তাদের মধ্য থেকে যদি একজনকে বেছে নিতে বলা হয়, তিনি কে হবেন বা বিএনপির সামনে এই মুহূর্তে ‘বেস্ট অপশন’ কী?

মো. সাহাবুদ্দীন রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার পরে সংবিধান অনুযায়ী এখন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিশ্চয়ই তিনিও যোগ্য এবং বিএনপি যদি তাকেই ভারমুক্ত করে রাষ্ট্রপতি বানিয়ে দেয়, সেটিও আশ্চর্যের কিছু হবে না। কিন্তু স্পিকার হিসেবে হাফিজ উদ্দিন আহমদের যে পারফরম্যান্স গত দুই অধিবেশনে দেখা গেছে, তাতে মনে হয়েছে, এই চেয়ারের জন্য তিনি অধিকতর যোগ্য।

বর্তমান সংসদের স্পিকারের চেয়ারে বসার মতো দ্বিতীয় কে আছেন, সেটি বড় প্রশ্ন। কারণ স্পিকারের চেয়ারটি খুবই টেকনিক্যাল। সংবিধান ও কার্যপ্রণালিবিধি ভালোমতো জানা ছাড়াও তার সহনশীলতা, রসবোধ এবং জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলারার সক্ষমতা থাকতে হয়। তাছাড়া স্পিকারের চেয়ারে এমন একজনকে বসতে হয় যার ‘ধার’ ও ‘ভার’ দুটিই আছে। বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির চেয়ারটি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আলঙ্করিক। ফলে এখানে ধারের চেয়ে ভারের লোক বেশি প্রয়োজন। সেই হিসেবে হাফিজ উদ্দিন আহমদকে রাষ্ট্রপতি বানানো হলে স্পিকার পদে তার বিকল্প কে হবেন—সেটি একটি বড় প্রশ্ন হিসেবে সামনে আসবে।  

এই সবকিছু বিবেচনায় কি তাহলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই ‘বেস্ট অপশন’? হয়তো তা-ই। কেননা রাষ্ট্রপতি হিসেবে একজন মোটামুটি সর্বজনগ্রাহ্য রাজনীতিবিদকেই বেছে নেয়া দরকার এবং সেটি ক্ষমতাসীন দল থেকেই। সেই অর্থে এই মুহূর্তে বিএনপির সবচেয়ে সজ্জন, পরিপাটি এবং গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিটির নাম নিঃসন্দেহে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি রাষ্ট্রপতি হলে সম্ভবত দলমত নির্বিশেষে দেশের সকল মানুষ খুশি হবে। এটি বিএনপির জন্যও সম্মানজনক হবে। যদিও দলীয় অভ্যন্তরীণ নানা হিসাব-নিকাশে মির্জা ফখরুল পিছিয়ে থাকবেন কি না, সেটি বলা মুশকিল। কিন্তু সব সময় দলীয় সংকীর্ণ রাজনীতি তথা দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির মারপ্যাঁচ হিসাব করা উচিত নয়। বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও মানুষের বৃহত্তর স্বার্থের কথা ভাবতে হয়। কোন সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতির চেয়ারে কে বসে আছেন, সেটি নানা কারণেই গুরুত্বপূর্ণ। যে কারণে এই চেয়ারে এমন কাউকে বসানো উচিত যিনি রাষ্ট্রের এক নম্বর ব্যক্তিত হিসেবে দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য; দলের প্রতি অনুগত এবং পরীক্ষিত। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পরে তিনি আর দলীয় লোক না হলেও তিনি এতদিন যে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন, সেই দল ক্ষমতায় থাকলে উভয়ের জন্য কাজ করতে সুবিধা হয়।

২০০১ সালের নির্বাচনে সরকার গঠনের পরে বিএনপি দলের সাবেক মহাসচিব ড. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি বানিয়েছিল। কিন্তু দলীয় আনুগত্য নেই—এমন অভিযোগে তাকে সরে যেতে হয়েছিল। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে সম্ভবত সেই পরিস্থিতির উদ্ভব হবে না।

একজন রাজনৈতিক নেতার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয় দলের দুঃসময়ে। আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনামলের শেষ কয়েক বছর বিএনপি যে ধরনের চাপের মধ্য দিয়ে গেছে এবং দলটিকে যেভাবে নির্মূল করার চেষ্টা হয়েছে; যখন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া হয় কারাগারে না হয় হাসপাতালে কিংবা বাড়িতে গৃহবন্দি এবং দলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা তারেক রহমান যখন লন্ডনে নির্বাসিত—সেই সময়ে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা এবং দৃঢ় নেতৃত্ব দিয়ে যেভাবে বিএনপিকে আগলে রেখেছেন; দলের সংকটকালে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা তথা ভাঙনের হাত থেকে বাঁচিয়ে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে তিনি যে কঠোর পরিশ্রম করেছেন—সেটি তুলনাহীন।

তাছাড়া এই সময়ের বাংলাদেশে এমন একজনকে রাষ্ট্রপতি বানানো উচিত হবে যিনি দলমত ও ধর্ম নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারবেন। অন্তর্বর্তী সরকার যে কাজে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে এবং দেশের মানুষের মধ্যে বিভাজন অনেক বেড়েছে।

প্রসঙ্গত, জুলাই অভ্যুত্থানের পরে দেশে ধর্মীয় উগ্রবাদী বিভিন্ন গোষ্ঠীর আস্ফালন দেখা গেছে। ধর্মের নামে দেশের মানুষকে বিভাজিত করে ক্ষমতা দখলের সুদূরপ্রসারী প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো দেড় বছর এই গোষ্ঠী নানাভাবে সরকারের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে। মাজারে হামলা ও ভাঙচুর, বাউলদের ওপর আক্রমণ, নারীদের হেনস্থাসহ নানা ধরনের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল। সেই গোষ্ঠী যে নির্মূল হয়েছে বা নিয়ন্ত্রিত হয়েছে, সেটি বলার কোনো সুযোগ নেই। বরং নির্বাচিত সরকারের আমলে তারা হয়তো কিছুটা চুপচাপ আছে। সময়-সুযোগমতো আবারও তাদরে স্বরূপে ফিরে আসার শঙ্কা প্রবল। এই বাস্তবতাটি সরকার তথা সরকারি দলেরে নেতাদের না জানার কোনো কারণ নেই। কিন্তু ধর্মীয় উগ্রবাদের বিরুদ্ধে এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি ও রাজনৈতিক সহনশীলার প্রশ্নে মির্জা ফখরুল ইসলাম যতটা জোরালো ভাষায় কথা বলেছেন এবং বলছেন, সেটি বিএনপির অন্য কোনো নেতার মধ্যে দেখা যায় না।

সবশেষ গত ৩১ জুলাই রাজধানীতে সম্মিলিত সনাতন পরিষদের আয়োজনে ‘সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় মির্জা ফখরুল বলেছেন, ‘বাংলাদেশে উগ্রবাদ-মৌলবাদের কোনো স্থান নেই। ধর্মের নামে বিভাজনের কোনো সুযোগ নেই। এ দেশ হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদার দেশ। ধর্মকে কেন্দ্র করে বিভেদ সৃষ্টির মাধ্যমে কেউ যেন সমাজে অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।’

এর আগে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশে একটা বড় বিভাজনের পথ তৈরি করার চেষ্টা চলছে। একটি গোষ্ঠী, একটা মহল ধর্মের নামে বাংলাদেশে বিভাজনের পথ সৃষ্টি করতে চায়। আমরা বাংলাদেশের মানুষ অবশ্যই ধর্মভীরু, অবশ্যই ধর্ম মেনে চলি। কিন্তু ধর্মকে নিয়ে রাষ্ট্রকে বিভাজন করা বা সমাজকে বিভাজন করায় বিশ্বাস করি না।’

পরিশেষে, রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপিকে এমন একজনকে বেছে নিতে হবে যার অধীনে আগামী চতুর্দশ জাতীয় নির্বাচন হবে এবং নির্বাচনের পরে যারাই সরকার গঠন করুক না কেন, অন্তত শুরুর দিনগুলোয় বিএনপির একজন নেতাই রাষ্ট্রপতির চেয়ারে থাকবেন। এটি দল হিসেবে বিএনপিকে কিছুটা বাড়তি সুবিধা দেবে। অর্থাৎ বিএনপি ছাড়া অন্য কোনো দলও যদি সরকার গঠন করে, তারপরও নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত রাষ্ট্রের শীর্ষ পদে তাদের দলের একজন পরীক্ষিত নেতা থাকবেন—এই সুযোগ বিএনপি হাতছাড়া করতে চাইবে না। সেই বিবেচনাতেও কোনো অরাজনৈতিক ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত করাটা সঠিক সিদ্ধান্ত হবে না। আর এরকম একটি সুদূরপ্রসারী চিন্তা মাথায় রেখে যদি বিএনপি পরবর্তী রাষ্ট্রপতির নাম ঠিক করে, সেখানে সম্ভবত এই মুহূর্তে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই ‘বেস্ট অপশন’।

আমীন আল রশীদ: সাংবাদিক ও লেখক।

এইচআর/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow