পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে পর্যটক ও স্থানীয়দের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠেছে চায়ের রাজ্য মৌলভীবাজার। চা বাগানসহ দর্শনীয় স্থানগুলোতে ভিড় করছেন তারা। হোটেল-রিসোর্ট মালিকরা জানিয়েছেন, বেশিরভাগ হোটেল-রিসোর্টই ঈদের টতুর্থ দিন পরিপূর্ণ হয়ে আছে।
জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, পদ্মকন্যা নয়নাভিরাম মাধবপুর লেক, ঝরনা ধারা হামহাম জলপ্রপাত, ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী ধলই চা বাগানে অবস্থিত মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-ঐতিহ্যের বাহক বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ, বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য রাজকান্দি বন, শমসেরনগর বিমানবন্দর, প্রাচীন ঐতিহ্যের বাহক লক্ষ্মীনারায়ণ দিঘি, ২০০ বছরের প্রাচীন ছয়চিরী দিঘি, শমসেরনগর বাঘীছড়া লেক, আলিনগর পদ্মলেক, মাগুরছড়া পরিত্যক্ত গ্যাসফিল্ড, ডবলছড়া খাসিয়া পুঞ্জি, মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জি, অপরূপ শোভামণ্ডিত উঁচু নিচু পাহাড়বেষ্টিত সারিবদ্ধ পদ্মছড়া চা বাগান, শিল্পকলাসমৃদ্ধ মনিপুরী, প্রকৃতির পূজারী খাসিয়া, গারো, সাঁওতাল, মুসলিম মনিপুরী, টিপরা ও গারোসহ ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জীবন ধারা এবং সংস্কৃতিসহ প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এই জনপদ পর্যটকদের মন ও দৃষ্টি কেড়ে নেয় সহজেই।
শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন চা বাগান, পর্যটন এলাকা ও হোটেল রিসোর্ট ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন বয়সের লোকজন পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বধ্যভূমি একাত্তর, চা কন্যার ভাস্কর্য, ভাড়াউড়া চা বাগান, বিটিআরআই রাধানগর, সাত রঙের চায়ের দোকান, মনিপুরী পাড়ায় ভিড় করেছেন পর্যটকরা।
লাউয়াছড়ায় জাতীয় উদ্যানে ঘুরতে এসেছেন চট্টগ্রামের বাসিন্দা হাবিব ও পায়েল। তারাবলেন, শনিবার রাতে ঢাকা থেকে কমলগঞ্জের একটা রিসোর্টে উঠেছি। দুপুরে বের হয়ে লাউয়াছড়া, মাধবপুর লেক ও কিছু চা বাগান এলাকা ঘুরে দেখলাম। খুব ভালো লেগেছে। আরও পাঁচদিন থাকবো। মৌলভীবাজার জেলার সবগুলো পর্যটনস্পট ঘুরে দেখার ইচ্ছা আছে।
সিলেট থেকে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধে ঘুরতে আসা নাসরিন, মনি ও শায়লা বলেন, ‘পরিবারের সবাইকে নিয়ে এসেছি। খুবই ভালো লাগছে। শুধু এই দুই জায়গা না, চা বাগানসহ মনিপুরীপাড়া দেখেছি। খুব ভালো লেগেছে।’
শ্রীমঙ্গলে ঘুরতে এসেছেন সামিয়া। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘চা বাগানে এসে ছবি তুললাম। এই প্রথম চা বাগানে আসা। যেদিকে যাচ্ছি ভালো লাগছে। এখানে এসে ভালো সময় কাটলো।’
শ্রীমঙ্গল ট্যুর অপারেটর অ্যান্ড ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রাসেল আলম বলেন, ঈদের চতুর্থ দিন শহরের কিছু হোটেল ছাড়া ছোট-বড় সব রিসোর্টই হাউজফুল। প্রচুর পর্যটক এসেছেন। বিদেশি পর্যটকরাও রয়েছেন।
কথা হয় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের লাউয়াছড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা নাজমুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বিগত ঈদের তুলনায় এবার পর্যটকের সমাগম বেশি ঘটেছে। এটা আরও কিছু দিন চলমান থাকবে বলে আশা করি।
ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল জোনের পরিদর্শক নাজমুল আলম বলেন, এবার ঈদের ছুটি বেশ লম্বা থাকায় প্রচুর পর্যটক সমাগম হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় প্রতিটি দর্শনীয় স্থানে নজরদারি করা হচ্ছে। আমরা এ বিষয়ে সজাগ রয়েছি।
ওমর ফারুক নাঈম/এসআর/জেআইএম