ঈদের ছুটিতে পর্যটকের পদচারণায় মুখর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ মহামায়া ইকোপার্ক। ঈদের দিন দুপুরের পর থেকে এখানে ভ্রমণপিপাসুরা আসতে শুরু করেছেন। শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সী মানুষ বিনোদন পেতে ছুটছেন এই পার্কে। পর্যটকদের আনাগোনায় আগের ব্যস্ততা বেড়েছে ব্যবসায়ীদের।
ঈদের চলমান ছুটিতে পর্যটকদের এমন উপচে পড়া ভিড় সপ্তাহজুড়ে থাকবে বলে ধারণা করছেন পার্কের ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্য কাছে ডাকে পর্যটকদের। প্রতি বছর ঈদের ছুটিতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে হাজারও পর্যটক ছুটে আসেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মহামায়ার যাওয়ার সড়কে গাড়ির জটলা। ভাড়া ও ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে সবাই মহামায়ার দিকে ছুটছেন। টিকিট কেটে ভেতরে প্রবেশ করে আড্ডা দিচ্ছেন অনেকে। কেউ কেউ ছবি তুলছেন, কেউ নৌকায় করে লেকে ঘুরছেন। আবার কেউ কেউ কায়াকিং করছেন।
আরও পড়ুন:
পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা ইকবাল হোসেন মাহিন বলেন, সারা বছর ব্যস্ত থাকি। ঈদে এবার কয়েকদিন ছুটি পেয়েছি। তাই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এখানে ঘুরতে এলাম। আগেও কয়েকবার এসেছি। খুব ভালো লাগছে। বাচ্চারাও ভালো সময় কাটাচ্ছে।
এদিকে ঈদের দিনে মহামায়া বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কে পর্যটকের আগমন ছিল চোখে পড়ার মতো। এখানে পর্যটকদের জন্য রয়েছে উন্নত মানের হোটেল, থাকার জন্য রয়েছে থ্রি-স্টার মানের মহামায়া রিসোর্ট।
চট্টগ্রাম শহর থেকে ঘুরতে আসা ৮ বন্ধুর একজন সাদমান ইসলাম বলেন, মহামায়া আমাদের খুব পছন্দের জায়গা। আমরা বছরে কয়েকবার এখানে বেড়াতে আসি। এবার ঈদেও সব বন্ধু মিলে চলে এসেছি। লেকের স্বচ্ছ পানিতে গোসল করেছি। খুব ভালো লাগছে।
ঠাকুরদিঘী-মহামায়া রুটে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক নুরুল আবছার বলেন, পুরো রমজান মাসে তেমন পর্যটক ছিল না। ঈদের দিন থেকে লোকজন আসতে শুরু করেছেন। আমাদেরও অনেক আয় হচ্ছে।
টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ হানিফ বলেন, ঈদের দিন দুপুরের পর থেকে অনেক পর্যটক আসছেন। ঈদের দ্বিতীয় দিনও অনেক পর্যটক এসেছে। আশা করছি পুরো সপ্তাহে পর্যটকদের সমাগম থাকবে।
মহামায়া বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের ইজারাদার মোহাম্মদ শরিফ উদ্দিন বলেন, মহামায়া খুবই সুন্দর একটি পর্যটন কেন্দ্র। এখানে একই স্থানে রয়েছে লেক, পাহাড়, ঝর্ণা ও রাবার ড্যাম। পাহাড়ের কোলে লেকটির আঁকাবাঁকা অবয়ব অপরূপ সুন্দর। ছোট বড় অসংখ্য পাহাড়ের মাঝে অবস্থিত এই লেক। লেকের অন্যতম আকর্ষণ পাহাড়ি ঝর্ণা ও স্বচ্ছ পানি। মহামায়া লেকের নীল জলরাশিতে কায়াকিং করতে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসেন অনেকে।
তিনি আরও বলেন, পর্যটকদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে এখানে। থাকা-খাওয়ার জন্য রয়েছে উন্নত মানের রেস্টুরেন্ট ও রিসোর্ট। নিরাপত্তাব্যবস্থায় পুরো পার্ক সিসি ক্যামেরার আওতায় রয়েছে।
যেভাবে যাবেন মহামায়ায়:
দেশের যে কোনো স্থান থেকে গাড়িতে উঠে মিরসরাই উপজেলার ঠাকুরদিঘী নামতে হবে। সেখানে রাস্তার মুখে সিএনজিচালিত অটোরিকশা রয়েছে। একজন ১৫ টাকা ভাড়ায় মহামায়ার মূল গেটে যাওয়া যাবে।
এম মাঈন উদ্দিন/এমএন/এমএস