‘পর্যাপ্ত মজুত’ সত্ত্বেও এম আর ফিলিং স্টেশনে মিলছে না তেল

কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়নে অবস্থিত এম আর ফিলিং স্টেশন। ‘পর্যাপ্ত মজুত’ থাকা সত্ত্বেও এই পাম্পটি নিয়মমাফিক তেল সরবরাহ করছে না বলে চালকদের অভিযোগ। তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই এ অবস্থা চলে আসছে। প্রতিদিনই গাড়ি বা মোটরসাইকেলের চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাচ্ছেন না, পেলেও তা যৎসামান্য। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া গত শুক্রবার সন্ধ্যায় নিজ এলাকা নাঙ্গলকোট যাওয়ার পথে পাম্পটি বন্ধ দেখতে পান। তার সঙ্গে থাকা লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলেন তিনি। পরেও ওসি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) বিষয়টি জানালে তারা রাতেই পাম্পটি পরিদর্শন করেন। তাতেও অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি।  সোমবার (২৭ এপ্রিল) সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া কালবেলাকে বলেন, ‘অ্যাকশন না হওয়ার বিষয়টি আমি সংসদের হুইপ, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে জানিয়েছি। রোববার ইউএনওর সঙ্গে সভা থেকেও একই অভিযোগ জানিয়েছি। ইউএনও জানিয়েছেন, মজুতসীমা নিচে নেমে যাওয়ায় তেল বিক্রি করতে না পেরে তারা পাম্প বন্ধ রেখেছেন। পরে আমি সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসারের কাছে থাকা মজুতের

‘পর্যাপ্ত মজুত’ সত্ত্বেও এম আর ফিলিং স্টেশনে মিলছে না তেল

কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়নে অবস্থিত এম আর ফিলিং স্টেশন। ‘পর্যাপ্ত মজুত’ থাকা সত্ত্বেও এই পাম্পটি নিয়মমাফিক তেল সরবরাহ করছে না বলে চালকদের অভিযোগ। তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই এ অবস্থা চলে আসছে। প্রতিদিনই গাড়ি বা মোটরসাইকেলের চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাচ্ছেন না, পেলেও তা যৎসামান্য।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া গত শুক্রবার সন্ধ্যায় নিজ এলাকা নাঙ্গলকোট যাওয়ার পথে পাম্পটি বন্ধ দেখতে পান। তার সঙ্গে থাকা লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলেন তিনি। পরেও ওসি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) বিষয়টি জানালে তারা রাতেই পাম্পটি পরিদর্শন করেন। তাতেও অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। 

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া কালবেলাকে বলেন, ‘অ্যাকশন না হওয়ার বিষয়টি আমি সংসদের হুইপ, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে জানিয়েছি। রোববার ইউএনওর সঙ্গে সভা থেকেও একই অভিযোগ জানিয়েছি। ইউএনও জানিয়েছেন, মজুতসীমা নিচে নেমে যাওয়ায় তেল বিক্রি করতে না পেরে তারা পাম্প বন্ধ রেখেছেন। পরে আমি সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসারের কাছে থাকা মজুতের হিসাব পাই। তাতে দেখা যায়, ওই দিন ডিজেল মজুত ছিল ৫ হাজার ৪০০ লিটারের মতো। তারপর পাম্প কতৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তারা আমাকে বলেছে, তাদের জিরো ব্যালেন্স, তাই পাম্প বন্ধ রাখতে হয়েছে।’

সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসার মিন্টু চন্দ্র মজুমদার কালবেলাকে বলেন, ‘প্রতিদিন বিকেল ৪টায় তারা আমাকে মজুতের সর্বশেষ রিপোর্ট জানায়। এমপি এই পথে যাওয়ার সময় সন্ধ্যার দিকে দেখেন পাম্পটি বন্ধ। পরে ওসি আমাকে বিষয়টি জানান। ইউএনওসহ আমি রাতেই ওই পাম্পে যাই। মালিকপক্ষ জানায়, মজুত একটা স্তরে নেমে যাওয়ার পর তেল সরবরাহ করা যায় না। এতে ময়লা ও ‘হাওয়া’ ধরে যায়। তাছাড়া প্রতি গাড়িতে সরবরাহের সময় তাদের কিছু সিস্টেম লস হয়। প্রতিবারই সামান্য তেল উড়ে যায়।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘অকটেন ও ডিজেলের ক্ষেত্রে এক হাজার লিটার এবং পেট্রোলের ক্ষেত্রে দুই হাজার লিটারের নিচে মজুত নেমে এলে আর তেল সরবরাহ করা যায় না ময়লা ও হাওয়ার কারণে- একথা মালিকপক্ষ থেকে আমাদের জানানো হয়েছে। এমপি যেদিন পাম্পের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, সেদিনও তাই ঘটেছিল।’

এদিকে আবদুর রহিম নামে এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, ‘এখানে কখনো ১০০ টাকার বেশি তেল দেয় না। প্রয়োজন অনুযায়ী তেল পাওয়া যায় না। ফলে আমাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।’

লক্ষ্মীপুরগামী একটি ট্রাকের চালক মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, ‘ডিজেলের জন্য প্রায় চার ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাইনি। এতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।’

স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন পাম্পটিতে শত শত মোটরসাইকেল ও যানবাহনের সারি দেখা যায়। অধিকাংশ চালকই তেল না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন। অনেকের অভিযোগ, প্রশাসনকে প্রভাবিত করে স্টেশন কর্তৃপক্ষ খোলা বাজারে বেশি দামে তেল বিক্রি করছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক অমূল্য সাহা বলেন, ‘আমরা যতটুকু বরাদ্দ পাই, তা নিয়ম অনুযায়ী সব গ্রাহকের মাঝে বণ্টন করে থাকি। কাউকে বঞ্চিত করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।’

জানতে চাইলে ইউএনও উম্মে তাহমিনা মিতু বলেন, ‘শুক্রবার  অভিযোগ পেয়ে আমি পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। ডিজেল মজুত দুই হাজার লিটারের নিচে নেমে গেলে তেল দেওয়া যায় না বলে তারা আমাকে জানিয়েছে। তখন নাকি ‘হাওয়া ধরে যায়’। এই সমস্যা থাকতে পারে। এর বাইরে অন্য কোন অভিযোগ আমার জানা নেই।’

জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, ‘আমি জেনেছি, দেখছি।’ এর বেশি তিনি বলতে রাজি হননি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow