পাইলসের অপারেশনের প্রস্তুতির সময় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে এক গ্রাম্য চিকিৎসকের ক্লিনিকে পাইলস অপারেশনের জন্য ইনজেকশন পুশ করার পরপরই আলমগীর হোসেন (৪৫) নামের এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর পরই মরদেহ ক্লিনিকে ফেলে গা ঢাকা দিয়েছেন চিকিৎসক। শনিবার (৮ আগস্ট) উপজেলার নূরনগর ইউনিয়নের দাসকাটি এলাকায় অবস্থিত জোবেদা ক্লিনিক নামে এক গ্রাম্য চিকিৎসকের চেম্বারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আলমগীর হোসেন নূরনগরের ভবানীপুর এলাকার মৃত মোবারক আলীর ছেলে। স্থানীয় সূত্র ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে দাসকাটি ব্রিজ সংলগ্ন জোবেদা ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবার নামে অবৈধভাবে পাইলসের অপারেশন করে আসছিলেন গ্রাম্য চিকিৎসক গোলাম মোস্তফা। সকালে আলমগীর হোসেন পাইলসের চিকিৎসার জন্য স্ত্রী ও জামাতাকে সঙ্গে নিয়ে ওই ক্লিনিকে যান। সেখানে চিকিৎসক মোস্তফা তাকে দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন এবং অপারেশনের প্রস্তুতি হিসেবে একটি ইনজেকশন পুশ করেন। ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই আলমগীরের শরীরে তীব্র খিঁচুনি শুরু হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। নিহতের ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন অভিযোগ করে বলেন, আমার ভাবি ও ভাইয়ের জামাই আলমগীরকে নিয়ে ক্লিনিকে গিয়েছিল। ভুয়

পাইলসের অপারেশনের প্রস্তুতির সময় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে এক গ্রাম্য চিকিৎসকের ক্লিনিকে পাইলস অপারেশনের জন্য ইনজেকশন পুশ করার পরপরই আলমগীর হোসেন (৪৫) নামের এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর পরই মরদেহ ক্লিনিকে ফেলে গা ঢাকা দিয়েছেন চিকিৎসক।

শনিবার (৮ আগস্ট) উপজেলার নূরনগর ইউনিয়নের দাসকাটি এলাকায় অবস্থিত জোবেদা ক্লিনিক নামে এক গ্রাম্য চিকিৎসকের চেম্বারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আলমগীর হোসেন নূরনগরের ভবানীপুর এলাকার মৃত মোবারক আলীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে দাসকাটি ব্রিজ সংলগ্ন জোবেদা ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবার নামে অবৈধভাবে পাইলসের অপারেশন করে আসছিলেন গ্রাম্য চিকিৎসক গোলাম মোস্তফা। সকালে আলমগীর হোসেন পাইলসের চিকিৎসার জন্য স্ত্রী ও জামাতাকে সঙ্গে নিয়ে ওই ক্লিনিকে যান। সেখানে চিকিৎসক মোস্তফা তাকে দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন এবং অপারেশনের প্রস্তুতি হিসেবে একটি ইনজেকশন পুশ করেন। ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই আলমগীরের শরীরে তীব্র খিঁচুনি শুরু হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

নিহতের ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন অভিযোগ করে বলেন, আমার ভাবি ও ভাইয়ের জামাই আলমগীরকে নিয়ে ক্লিনিকে গিয়েছিল। ভুয়া ডাক্তার মোস্তফা ইনজেকশন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভাইয়ের শরীর খিঁচুনি ওঠে এবং কয়েক মিনিটের মধ্যে সে মারা যায়। ভাই মারা যাওয়ার পরই ডাক্তার পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর অভিযুক্ত গ্রাম্য চিকিৎসক গোলাম মোস্তফার বক্তব্য নিতে তার ব্যক্তিগত নম্বরে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

অপ্রশিক্ষিত চিকিৎসকের হাতে রোগীর মৃত্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জিয়াউর রহমান জানান, ঘটনার কথা তিনি মৌখিকভাবে শুনেছেন। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত চিকিৎসক পলাতক রয়েছেন। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে মরদেহ ময়নাতদন্তসহ আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

আহসানুর রহমান রাজীব/এনএইচআর/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow