পানিতে ডুবে গেল ২০০ হেক্টর ধান

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে টানা বর্ষণে ২০০ হেক্টর বোরো ধানের বিস্তীর্ণ জমি পানিতে ডুবে গেছে। চোখের সামনে জমির ধান ডুবে যাওয়ায় দিশাহারা কৃষক। জানা গেছে, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ, খালে যত্রতত্র বাঁধ ও অপরিকল্পিত পুকুর-ফিশারি খননের কারণে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কোনাপাড়ার বালকি বিল, শাহবাজপুর, ইছুলিয়া বিল, শালীহর গ্রাম, মাওহা ইউনিয়নের বাউশালী ও কড়েহা বিল, মইলাকান্দা ইউনিয়নের ছাতুল বিল, ডৌহাখলা ইউনিয়নের একাধিক গ্রাম ও সিধলা ইউনিয়নের সিধলং বিল, অচিন্ত্যপুর ইউনিয়নের ডালিয়া বিল, মহিশ্বরণ ও কৃষ্ণপুর গ্রামের প্রায় ২০০ হেক্টর জমির বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পাকা-আধা পাকা এসব ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় হতাশ কৃষকরা। গৌরীপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই মৌসুমে বোরো আবাদের জন্য লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০ হাজার ৪১০ হেক্টর জমি, তবে ৮০ হেক্টর জমি বেশি আবাদ করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৩ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে উফশী জাত ও ৬ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড আবাদ করা হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৮ হাজার ৪৩০ টন ধান। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, কাঠার পর কাঠা বোরো ধানের জ

পানিতে ডুবে গেল ২০০ হেক্টর ধান
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে টানা বর্ষণে ২০০ হেক্টর বোরো ধানের বিস্তীর্ণ জমি পানিতে ডুবে গেছে। চোখের সামনে জমির ধান ডুবে যাওয়ায় দিশাহারা কৃষক। জানা গেছে, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ, খালে যত্রতত্র বাঁধ ও অপরিকল্পিত পুকুর-ফিশারি খননের কারণে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কোনাপাড়ার বালকি বিল, শাহবাজপুর, ইছুলিয়া বিল, শালীহর গ্রাম, মাওহা ইউনিয়নের বাউশালী ও কড়েহা বিল, মইলাকান্দা ইউনিয়নের ছাতুল বিল, ডৌহাখলা ইউনিয়নের একাধিক গ্রাম ও সিধলা ইউনিয়নের সিধলং বিল, অচিন্ত্যপুর ইউনিয়নের ডালিয়া বিল, মহিশ্বরণ ও কৃষ্ণপুর গ্রামের প্রায় ২০০ হেক্টর জমির বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পাকা-আধা পাকা এসব ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় হতাশ কৃষকরা। গৌরীপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই মৌসুমে বোরো আবাদের জন্য লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০ হাজার ৪১০ হেক্টর জমি, তবে ৮০ হেক্টর জমি বেশি আবাদ করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৩ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে উফশী জাত ও ৬ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড আবাদ করা হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৮ হাজার ৪৩০ টন ধান। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, কাঠার পর কাঠা বোরো ধানের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। নৌকা দিয়ে ধান কেটে পাড়ে আনা হচ্ছে। কেউ আবার কোমর পানি কিংবা গলা পানিতে নেমে ধান কেটে শুকনো স্থানে তুলে এনেছেন। কৃষকদের অভিযোগ, একদিকে যেমন ধান কাটার জন্য পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না, অন্যদিকে এই সুযোগে কম্বাইন্ড হারভেস্টার চালকরা ধান কাটার জন্য অতিরিক্ত টাকা দাবি করছে। ফলে দ্বিগুণ ক্ষতির মুখে পড়েছেন সাধারণ কৃষকেরা। মইলাকান্দা ইউনিয়নের কালিহর গ্রামের কামরুল ইসলাম বলেন, আমাদের ছাতুল বিলের চারপাশে পুকুর খনন করে ফিশারি করা হয়েছে। এখন বৃষ্টির পানিতে আমাদের সব ফসল তলিয়ে গেছে। কোনাপাড়া গ্রামের সাজেদা বেগম বলেন, বালকি বিলের পানিতে পাকা ধান তলিয়ে গেছে। শ্রমিক না পাওয়ায় নিজেই নৌকা নিয়ে বিলের পানির নিচ থেকে ধান কেটে পাড়ে তুলছি। পানির নিচে পচে যাওয়ায় এই ধান মনে হয় না কোনো কাজে আসবে। পাছারকান্দা গ্রামের শরীফুল ইসলাম বলেন, কয়েক বছর আগ থেকে একটি সুবিধাভোগী চক্র বিলের বিভিন্ন অংশে পাড় বাঁধাই করে মাছ চাষ শুরু করেছে। অপরিকল্পিত এসব ফিশারির কারণে এখন বৃষ্টির পানি জমে ৫০ হেক্টরের বেশি জমির ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সাহাবাজপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রউফ দুদু বলেন, আমাদের এলাকায় বড় বিলের পানি ও লংকা নদীর পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কৃষকদের ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন জলি বলেন, সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে প্রায় ২০০ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রণোদনা দেওয়া হবে। প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে অবৈধ বাঁধ অপসারণে উদ্যোগ নেওয়া হবে। গৌরীপুরের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাফরোজা সুলতানা বলেন, বিল ও জলাশয়ে পুকুর খননের ক্ষেত্রে আইনগত অনুমোদন প্রয়োজন হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা মানা হয় না। কেউ যদি পানির প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে এমন পুকুর বা ফিশারি নির্মাণ করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow