পাহাড় বা ভূমিধস থেকে বাঁচার দোয়া
বাংলাদেশে বর্ষা এলেই পাহাড়ি অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধস ও ভূমিধসের আশঙ্কা বেড়ে যায়। টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড় কাটা ও অন্যান্য পরিবেশগত কারণে প্রায় প্রতি বছরই প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়া, প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলার পাশাপাশি একজন মুমিনের কর্তব্য হলো, মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য, নিরাপত্তা ও হেফাজত কামনা করা। যদিও পাহাড় বা ভূমিধস থেকে রক্ষার জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো দোয়া বর্ণিত হয়নি, তবে কোরআনুল কারিম ও সহিহ হাদিসে এমন কিছু দোয়া রয়েছে, যা যেকোনো বিপদ, দুর্যোগ, ভয়-ভীতি ও সংকটের সময় পাঠ করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। এসব দোয়ার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর রহমত, সুরক্ষা ও বিপদমুক্তির আবেদন জানাতে পারেন। নিচে কালবেলার পাঠকদের জন্য কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত এমন গুরুত্বপূর্ণ তিনটি দোয়া তুলে ধরা হলো। ১. দোয়ায়ে ইউনুস এটি সেই দোয়া, যা আল্লাহর নবী ইউনুস (আ.) ঘোর বিপদে মাছের পেটে একবার ঢুকে পড়েছিলেন এবং আল্লাহ তাকে সেই মহাবিপদ থেকে মুক্ত করেছিলেন। পাহাড়ধস বা
বাংলাদেশে বর্ষা এলেই পাহাড়ি অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধস ও ভূমিধসের আশঙ্কা বেড়ে যায়। টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড় কাটা ও অন্যান্য পরিবেশগত কারণে প্রায় প্রতি বছরই প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়া, প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলার পাশাপাশি একজন মুমিনের কর্তব্য হলো, মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য, নিরাপত্তা ও হেফাজত কামনা করা।
যদিও পাহাড় বা ভূমিধস থেকে রক্ষার জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো দোয়া বর্ণিত হয়নি, তবে কোরআনুল কারিম ও সহিহ হাদিসে এমন কিছু দোয়া রয়েছে, যা যেকোনো বিপদ, দুর্যোগ, ভয়-ভীতি ও সংকটের সময় পাঠ করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। এসব দোয়ার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর রহমত, সুরক্ষা ও বিপদমুক্তির আবেদন জানাতে পারেন।
নিচে কালবেলার পাঠকদের জন্য কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত এমন গুরুত্বপূর্ণ তিনটি দোয়া তুলে ধরা হলো।
১. দোয়ায়ে ইউনুস
এটি সেই দোয়া, যা আল্লাহর নবী ইউনুস (আ.) ঘোর বিপদে মাছের পেটে একবার ঢুকে পড়েছিলেন এবং আল্লাহ তাকে সেই মহাবিপদ থেকে মুক্ত করেছিলেন। পাহাড়ধস বা ভূমিধসসহ যেকোনো গুরুতর সঙ্কটে এ দোয়াটি পড়া অত্যন্ত কার্যকর:
বাংলা উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমিন।
অর্থ: ‘তুমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তুমি পবিত্র সুমহান; আমি জালিমদের দলভুক্ত।’ (সুরা আম্বিয়া: ৮৭)
২. বিপদ থেকে সার্বক্ষণিক সুরক্ষার দোয়া (দৈনিক আমল)
উসমান বিন আফফান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার এই দোয়া পড়বে, আল্লাহ তাআলা তাকে সব ধরনের বিপদাপদ থেকে রক্ষা করবেন। অন্য বর্ণনায় আছে, আল্লাহ তাআলা তাকে সব ধরনের রোগব্যাধি থেকে হেফাজত করবেন (তিরমিজি: ৩৩৮৮)। তাই এটি নিয়মিত পাঠ করলে পাহাড় ধস বা ভূমিকম্পসহ যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ থেকে সুরক্ষা পাওয়া যেতে পারে:
বাংলা উচ্চারণ: বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মাআসমিহি শাইয়ুন ফিল আরদি, ওয়ালা ফিস সামায়ি ওয়া হুয়াস সামিউল আলিম।
অর্থ: ‘আল্লাহ তাআলার নামে, যার নামের বরকতে আকাশ ও মাটির কোনো কিছুই কোনো অনিষ্টতা করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।’
৩. রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দোয়ার মাধ্যমে জীবনের নানা অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন, যা যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় পড়া যেতে পারে।
বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল হাদমি ওয়া-আউযুবিকা মিনাত তারাদ্দি, ওয়া-আউযুবিকা মিনাল গারাকি ওয়াল-হারাকি ওয়াল-হারাম, ওয়া-আউযুবিকা আন-ইয়াতাখব্বাতানিশ শাইতনু ইনদাল মাওতি, ওয়া-আউযুবিকা আন আমুতা ফি সাবিলিকা মুদবিরান ওয়া-আউযুবিকা আন-আমুতা লাদি-গান।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে চাপা পড়ে বা গহ্বরে পতিত হয়ে মৃত্যুবরণ করা থেকে আশ্রয় চাই, পানিতে ডুবে ও আগুনে পুড়ে মৃত্যুবরণ করা থেকে আশ্রয় চাই। আমি আপনার কাছে শয়তানের প্ররোচনায় মৃত্যু থেকে আশ্রয় চাই এবং আপনার পথে পৃষ্ঠপ্রদর্শনকারী হয়ে মৃত্যুবরণ করা থেকে আশ্রয় চাই এবং আমার যেন শেষ বয়সেও (বৃদ্ধাবস্থায়) মৃত্যু না হয়, সে বিষয়েও আশ্রয় চাই। এই দোয়াটি বিভিন্ন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু ও কঠিন পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পঠিত হয়। (আবু দাউদ: ১৫৫২)
What's Your Reaction?