প্রকৌশলী থেকে বিলিয়নিয়ার, নেতৃত্ব দিচ্ছেন থ্রিডি ভিশন সেন্সর তৈরিতে

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে গত আগস্টে অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বের প্রথম ওয়ার্ল্ড হিউম্যানয়েড রোবট গেমস। এতে ১৬টি দেশের প্রায় ৫০০ মানবাকৃতির রোবট অংশ নেয়। দৌড়, ফুটবল, নাচ, মার্শাল আর্টসহ ২৬টি ভিন্ন ইভেন্টে প্রতিযোগিতা হয়। এই প্রতিযোগিতায় বড় সাফল্য পায় চীনের রাষ্ট্রীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান এক্স-হিউম্যানয়েড। তারা মোট ১০টি পদক জেতে, যার মধ্যে দুটি স্বর্ণ। তাদের তৈরি ১.৮ মিটার লম্বা দ্বিপদী রোবট ‘তিয়ান কুং আল্ট্রা’ ১০০ মিটার দৌড়ে জয়ী হয়। আর চাকার ওপর চলা রোবট ‘তিয়ান ই’ কারখানাভিত্তিক কাজের অনুকরণমূলক প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে। এই সাফল্যের পেছনে ছিল অত্যাধুনিক একটি প্রযুক্তি—রোবটের চোখ। এই থ্রিডি ভিশন সেন্সর তৈরি করেছে শেনঝেনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অরবেক। এসব সেন্সরের মাধ্যমে রোবট মানুষের মতো গভীরতা বুঝতে পারে এবং আশপাশের পরিবেশের সঙ্গে সহজে কাজ করতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ৪৬ বছর বয়সী হওয়ার্ড হুয়াং বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো রোবটকে মানুষের চেয়েও উন্নত দৃষ্টিশক্তি দেওয়া। ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত অরবেক শুরুতে থ্রিডি স্ক্যানিং ও বায়োমেট্রিক কাজে ব্যবহৃত সেন্সর তৈরি করতো। বর্তমান

প্রকৌশলী থেকে বিলিয়নিয়ার, নেতৃত্ব দিচ্ছেন থ্রিডি ভিশন সেন্সর তৈরিতে

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে গত আগস্টে অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বের প্রথম ওয়ার্ল্ড হিউম্যানয়েড রোবট গেমস। এতে ১৬টি দেশের প্রায় ৫০০ মানবাকৃতির রোবট অংশ নেয়। দৌড়, ফুটবল, নাচ, মার্শাল আর্টসহ ২৬টি ভিন্ন ইভেন্টে প্রতিযোগিতা হয়।

এই প্রতিযোগিতায় বড় সাফল্য পায় চীনের রাষ্ট্রীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান এক্স-হিউম্যানয়েড। তারা মোট ১০টি পদক জেতে, যার মধ্যে দুটি স্বর্ণ। তাদের তৈরি ১.৮ মিটার লম্বা দ্বিপদী রোবট ‘তিয়ান কুং আল্ট্রা’ ১০০ মিটার দৌড়ে জয়ী হয়। আর চাকার ওপর চলা রোবট ‘তিয়ান ই’ কারখানাভিত্তিক কাজের অনুকরণমূলক প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে।

এই সাফল্যের পেছনে ছিল অত্যাধুনিক একটি প্রযুক্তি—রোবটের চোখ। এই থ্রিডি ভিশন সেন্সর তৈরি করেছে শেনঝেনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অরবেক। এসব সেন্সরের মাধ্যমে রোবট মানুষের মতো গভীরতা বুঝতে পারে এবং আশপাশের পরিবেশের সঙ্গে সহজে কাজ করতে পারে।

প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ৪৬ বছর বয়সী হওয়ার্ড হুয়াং বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো রোবটকে মানুষের চেয়েও উন্নত দৃষ্টিশক্তি দেওয়া।

২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত অরবেক শুরুতে থ্রিডি স্ক্যানিং ও বায়োমেট্রিক কাজে ব্যবহৃত সেন্সর তৈরি করতো। বর্তমানে তারা এমন ক্যামেরা বানায় যা রঙ ও গভীরতা একসঙ্গে ধারণ করতে পারে। এসব সেন্সর মুখ শনাক্তকরণ, বস্তু চেনা, স্বচালিত গাড়ি, ড্রোন, শিল্পকারখানার রোবট ও মানবাকৃতির রোবটে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক রোবট বাজার দ্রুত সম্প্রসারণের পথে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসার্চ অ্যান্ড মার্কেট জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ৫৩ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০৩৩ সালে এই বাজার বেড়ে ১৭৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

বিনিয়োগ ব্যাংক মরগ্যান স্ট্যানলি বলছে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় রোবট বাজার এখন চীন। বিশেষ করে থ্রিডি ভিশন ও সেন্সরের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।

২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে অরবেকের নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৬৯ মিলিয়ন ইউয়ান, যেখানে আগের বছর লোকসান ছিল ১০২ মিলিয়ন ইউয়ান। তাদের শেয়ারমূল্য গত এক বছরে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠাতা হাওয়ার্ড হুয়াং প্রথমবারের মতো বিলিয়নিয়ার হন। তার মোট সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ১.৬ বিলিয়ন ডলার।

অরবেকের বড় গ্রাহকদের মধ্যে রয়েছে চীনের ফিনটেক জায়ান্ট অ্যান্ড গ্রুপের ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম আলিপে। এছাড়া তারা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রোবট প্রস্তুতকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সেন্সর সরবরাহ করে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ভবিষ্যতে মানবাকৃতির রোবটই হবে সবচেয়ে বড় খাত। ব্যাংক অব আমেরিকা জানিয়েছে, আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরে এসব রোবট তৈরির খরচ প্রায় অর্ধেকে নেমে আসতে পারে।

সব মিলিয়ে, রোবটের চোখ তৈরির প্রযুক্তি এক চীনা প্রকৌশলীকে শুধু প্রযুক্তি জগতের অগ্রদূতই নয়, বিশ্বসেরা ধনীদের তালিকায়ও জায়গা করে দিয়েছে।

সূত্র: ফোর্বস

এমএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow