অষ্টম এনটিআরসিএর প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান পদে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষা দ্রুত গ্রহণ এবং চূড়ান্ত নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করার দাবি জানিয়েছেন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা। তারা বলেছেন, ‘লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এখনো ভাইভা পরীক্ষার কোনো সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি। ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের হাজারো যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থী চরম অনিশ্চয়তা, মানসিক উদ্বেগ ও পেশাগত অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।’
শনিবার (০১ জুলাই) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচিতে এ দাবি জানান অষ্টম এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহপ্রধান ভাইভাপ্রত্যাশী শিক্ষক সমাজ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘গত ১৮ এপ্রিল এমসিকিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং ২২ এপ্রিল ফলাফল প্রকাশ করা হয়। পরীক্ষায় প্রায় ৩১ শতাংশ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হন। পরীক্ষা গ্রহণ ও ফলাফল প্রকাশ প্রক্রিয়া ছিল স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য, যা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীও সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।’
তারা বলেন, ‘গত ২৮ জুলাই দেশের সব জেলা থেকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং শিক্ষা উপদেষ্টা বরাবর দ্রুত ভাইভা গ্রহণের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।’
বক্তারা আরও বলেন, ‘বর্তমানে দেশের ১২ হাজার ৯৫১টি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহপ্রধানের বিপুলসংখ্যক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এসব পদে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি ফিরবে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’
এদিকে, দেশের বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধানের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রম, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এমন বাস্তবতায় দ্রুত ভাইভা সম্পন্ন করে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া এখন সময়ের দাবি বলে মনে করেন আন্দোলনরত নিয়োগ প্রত্যাশী প্রার্থীরা।
মানববন্ধনে প্রার্থীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত ভাইভার সময়সূচি ঘোষণা, মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন এবং নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থার স্বার্থে দীর্ঘসূত্রিতা পরিহার করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ড. মো. এমদাদুল ইসলাম, মো. তারিকুল ইসলাম, মল্লিক আছাদুর রহমান, মোল্লা শহিদুল ইসলাম, ড. মো. শহিদুল ইসলাম, ড. মো. আলমগীর হোসেন, মো. রুহুল আমীন, মো. নজরুল ইসলাম, ফৌজিয়া খানম অশ্রু, মো. হুমায়ুন কবির, মো. কামরুল আহসান, মো. নওশাদ আলম, মো. আমজাদ হোসেন, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. শাহজাহান আলী, মো. ফখরুল ইসলাম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা ও পরিচালনা করেন মো. রেজাউল করিম।