প্রথম গানে কত পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন খুরশীদ আলম

বরেণ্য সংগীতশিল্পী খুরশীদ আলম। দীর্ঘ ছয় দশকের সংগীতজীবনে অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দেওয়া এই শিল্পীর আজ (১ আগস্ট) জন্মদিন। তার গাওয়া অনেক গান এখনো মানুষের মুখে মুখে ফেরে। তবে এই শিল্পী জীবনের প্রথম গান গেয়ে পারশ্রমিক পেয়েছিলেন মাত্র ২০ টাকা সম্মানী। খুরশীদ আলম কখনোই জন্মদিনে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন পছন্দ করেন না। প্রতি বছরই দিনটি সাদামাটাভাবে কাটান। একুশে পদকপ্রাপ্ত এই শিল্পী জানান, ৮০ বছর বয়সেও তিনি সুস্থ আছেন। মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এখনো এলিফ্যান্ট রোডের বাসা থেকে কারওয়ান বাজার কিংবা গুলশান-বনানী পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারেন। খুরশীদ আলম জানান, ১৯৬৭ সালে বাংলাদেশ বেতারের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে প্রথম গান রেকর্ড করেন। সংগীত পরিচালক আজাদ রহমানের সুরে দুটি গান রেকর্ড হয়েছিল। একটি ছিল জেবুন্নেসা জামালের কথায় ‘চঞ্চল দু’নয়নে বলো না কী খুঁজছ’, অন্যটি কবি সিরাজুল ইসলামের লেখা ‘তোমার দুহাত ছুঁয়ে শপথ নিলাম’। আরও পড়ুন শাহরুখের ‘কিং’ নিয়ে ফাঁস হলো নতুন তথ্য তিনি বলেন, প্রথম গান রেকর্ডের জন্য সম্মানী হিসেবে পেয়েছিলেন মাত্র ২০ টাকা। কিন্তু সেই ২০ টাকাই ছিল তার শিল্পীজীবনের সবচেয়ে

প্রথম গানে কত পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন খুরশীদ আলম

বরেণ্য সংগীতশিল্পী খুরশীদ আলম। দীর্ঘ ছয় দশকের সংগীতজীবনে অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দেওয়া এই শিল্পীর আজ (১ আগস্ট) জন্মদিন। তার গাওয়া অনেক গান এখনো মানুষের মুখে মুখে ফেরে। তবে এই শিল্পী জীবনের প্রথম গান গেয়ে পারশ্রমিক পেয়েছিলেন মাত্র ২০ টাকা সম্মানী।

খুরশীদ আলম কখনোই জন্মদিনে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন পছন্দ করেন না। প্রতি বছরই দিনটি সাদামাটাভাবে কাটান।

একুশে পদকপ্রাপ্ত এই শিল্পী জানান, ৮০ বছর বয়সেও তিনি সুস্থ আছেন। মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এখনো এলিফ্যান্ট রোডের বাসা থেকে কারওয়ান বাজার কিংবা গুলশান-বনানী পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারেন।

খুরশীদ আলম জানান, ১৯৬৭ সালে বাংলাদেশ বেতারের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে প্রথম গান রেকর্ড করেন। সংগীত পরিচালক আজাদ রহমানের সুরে দুটি গান রেকর্ড হয়েছিল। একটি ছিল জেবুন্নেসা জামালের কথায় ‘চঞ্চল দু’নয়নে বলো না কী খুঁজছ’, অন্যটি কবি সিরাজুল ইসলামের লেখা ‘তোমার দুহাত ছুঁয়ে শপথ নিলাম’।


তিনি বলেন, প্রথম গান রেকর্ডের জন্য সম্মানী হিসেবে পেয়েছিলেন মাত্র ২০ টাকা। কিন্তু সেই ২০ টাকাই ছিল তার শিল্পীজীবনের সবচেয়ে মূল্যবান পারিশ্রমিক। কারণ, সেটিই ছিল তার সংগীতজীবনের প্রথম স্বীকৃতি।

খুরশীদ আলম আরও জানান, ‘তোমার দুহাত ছুঁয়ে শপথ নিলাম’ গানটি পরে এইচএমভি থেকে ডিস্ক আকারে প্রকাশিত হয় এবং তৎকালীন পাকিস্তানে বিক্রির দিক থেকে সপ্তম স্থান অর্জন করে। এই সাফল্যের পরই তার সংগীতজীবনের পথ আরও প্রসারিত হয়।

বেতারে সাফল্যের পর ১৯৬৯ সালে বাবুল চৌধুরী পরিচালিত ‘আগন্তুক’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক শুরু করেন তিনি। নায়ক রাজ্জাকের ঠোঁটে তার গাওয়া ‘বন্দী পাখির মতো মনটা কেঁদে মরে’ গানটি মুক্তির পর ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। তবে রেকর্ডিংয়ের আগে ছবির প্রযোজক তাকে দিয়ে গান গাওয়াতে আপত্তি জানিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত সংগীত পরিচালক আজাদ রহমানের দৃঢ় অবস্থানের কারণেই গানটি গাওয়ার সুযোগ পান খুরশীদ আলম।

গানটি প্রসঙ্গে খুরশীদ আলম আরও জানান, ওই গানের জন্যও একটি শর্ত ছিল। গানটি জনপ্রিয় হলে ১০০ টাকা পারিশ্রমিক দেওয়া হবে, আর ব্যর্থ হলে কোনো অর্থই মিলবে না। শেষ পর্যন্ত গানটি সুপারহিট হয় এবং তিনি ১০০ টাকা সম্মানী পান।


দীর্ঘ সংগীতজীবনে প্রায় ৪৫০টি চলচ্চিত্রে তিন হাজারের মতো গান গেয়েছেন খুরশীদ আলম। রাজ্জাক, ওয়াসিম, আলমগীর, জাফর ইকবাল, ইলিয়াস কাঞ্চন, বুলবুল আহমেদ, সোহেল রানাসহ প্রায় সব জনপ্রিয় নায়কের ঠোঁটে তার গান শোনা গেছে। ‘চুমকি চলেছে একা পথে’, ‘যদি বউ সাজো গো’, ‘মাগো তোর চরণতলে বেহেশত আমার’ এবং ‘মা গো মা আমারে বানাইলি তুই দিওয়ানা’সহ অসংখ্য গান আজও শ্রোতাদের মুখে মুখে।

খুরশীদ আলমের মতে, শিল্পীজীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি পুরস্কার বা অর্থ নয়, মানুষের ভালোবাসা। তার ভাষায়, অন্য কোনো পেশায় গেলে হয়তো অনেক অর্থ উপার্জন করতে পারতেন, কিন্তু শিল্পী হয়ে কোটি মানুষের যে ভালোবাসা পেয়েছেন, সেটিই তার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।


উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য একুশে পদকে ভূষিত হন খুরশীদ আলম। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে আজীবন সম্মাননাসহ অসংখ্য পুরস্কার ও স্বীকৃতি পেয়েছেন এই বরেণ্য শিল্পী। বয়স ৭৮ হলেও এখনো সংগীতচর্চা, মঞ্চে গান এবং শ্রোতাদের ভালোবাসার মধ্যেই কাটছে তার সময়।

এমএমএফ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow