প্রবাসীর ঘামে সমৃদ্ধ মাতৃভূমির অর্থনীতি

লন্ডনের হাউন্সলোর বায়ুমণ্ডলে মিশে আছে প্রবাসের মানুষের ঘাম আর অদম্য প্রচেষ্টা, যা নীরব অথচ দৃঢ়ভাবে সমৃদ্ধ করে চলেছে আমাদের মাতৃভূমির অর্থনীতিতে। এই প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বা আয় বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি গ্রামীণ ও শহর অঞ্চলের লাখো পরিবারের জীবনমান বদলে দিচ্ছে। লন্ডনের হাউন্সলো এলাকায় বসবাসরত বাঙালি সম্প্রদায় দক্ষিণ ত্রীয় সংস্কৃতির একটি মিশ্র ধারার অংশ, যেখানে প্রধানত ভারতীয় ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূতদের পাশাপাশি বাঙালিরাও বসবাস করেন। পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটসের মতো বড় বাঙালি পাড়া না হলেও হাউন্সলোতে বাঙালিরা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। লন্ডনের হাউন্সলো এলাকায় বসবাসকারী বাংলাদেশিরা মূলত স্থানীয় ছোট ব্যবসা, চাকরি, এবং পরিবহন বা হিথ্রো বিমানবন্দর কেন্দ্রিক নানা পেশার মাধ্যমে নিজেদের অর্থনীতি গড়ে তুলেছেন। পূর্ব লন্ডনের মতো এখানে বড় কোনো কেন্দ্রীভূত বাঙালি বাণিজ্যিক এলাকা না থাকলেও, হাউন্সলোর বাঙালিরা ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও শ্রমের মাধ্যমে স্থানীয় ও জাতীয় অর্থনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।  অন্যদিকে লন্ডনের হাউন্সলোতে প্রবাসী বা

প্রবাসীর ঘামে সমৃদ্ধ মাতৃভূমির অর্থনীতি

লন্ডনের হাউন্সলোর বায়ুমণ্ডলে মিশে আছে প্রবাসের মানুষের ঘাম আর অদম্য প্রচেষ্টা, যা নীরব অথচ দৃঢ়ভাবে সমৃদ্ধ করে চলেছে আমাদের মাতৃভূমির অর্থনীতিতে। এই প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বা আয় বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি গ্রামীণ ও শহর অঞ্চলের লাখো পরিবারের জীবনমান বদলে দিচ্ছে।

লন্ডনের হাউন্সলো এলাকায় বসবাসরত বাঙালি সম্প্রদায় দক্ষিণ ত্রীয় সংস্কৃতির একটি মিশ্র ধারার অংশ, যেখানে প্রধানত ভারতীয় ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূতদের পাশাপাশি বাঙালিরাও বসবাস করেন। পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটসের মতো বড় বাঙালি পাড়া না হলেও হাউন্সলোতে বাঙালিরা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।

লন্ডনের হাউন্সলো এলাকায় বসবাসকারী বাংলাদেশিরা মূলত স্থানীয় ছোট ব্যবসা, চাকরি, এবং পরিবহন বা হিথ্রো বিমানবন্দর কেন্দ্রিক নানা পেশার মাধ্যমে নিজেদের অর্থনীতি গড়ে তুলেছেন। পূর্ব লন্ডনের মতো এখানে বড় কোনো কেন্দ্রীভূত বাঙালি বাণিজ্যিক এলাকা না থাকলেও, হাউন্সলোর বাঙালিরা ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও শ্রমের মাধ্যমে স্থানীয় ও জাতীয় অর্থনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। 

অন্যদিকে লন্ডনের হাউন্সলোতে প্রবাসী বাঙালিদের আড্ডার জন্য নির্দিষ্ট কোনো বড় বা আনুষ্ঠানিক স্থায়ী ক্লাব না থাকলেও, স্থানীয় বাঙালিরা সাধারণত স্থানীয় ক্যাফে, পার্ক এবং কমিউনিটি স্পেসগুলোতে একত্রিত হন। বিভিন্ন ছুটির দিনে বাঙালিদের আড্ডায় মিলনমেলায় পরিণত হয়। যেন একখণ্ড সম্প্রীতির বাংলাদেশ। বহু বছর ধরেই বসবাস করে আসছে বাঙালিরা। কেউ কেউ ১৫-৩০ বছর ধরেই স্ব স্ব পরিবারে রয়েছেন এই এলাকায়। 

প্রবাসি ব্যবসায়ি জসিম উদ্দিন বলেন, প্রায় ১৫ বছরের বেশি সময় ধরেই রয়েছি। প্রথম দিকে চাকরি এরপর ছোট পরিসরে ব্যবসা শুরু করেছি। এখন আমি এবং অনেকেই পরিবার নিয়ে এখানে স্ব স্ব বসবাস করছে। এই দেশের ইনকাম থেকে দেশে রেমিট্যান্সও পাঠাচ্ছের সবাই। 

তিনি বলেন, প্রবাসীদের আয়ে দেশের অর্থনীতির অনেক উন্নতিও হচ্ছে। এই এলাকায় রয়েছে দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের বসবাসের পাশাপাশি প্রায় ৭৪ পরিবারের একখণ্ড চট্টগ্রামও রয়েছে। তবে সবার শ্রমে দেশের অর্থনীতির চাকা আরও শক্তিশালী হোক সেই প্রত্যাশা করি আমরা প্রবাসীরা।

পশ্চিম লন্ডনে বাঙালি সংস্কৃতিচর্চা ও বাংলা ভাষা ধরে রাখতে বিভিন্ন উদ্যোগ কাজ করছে, যেমন দীর্ঘকাল ধরে চলা Darpan এর মতো সাংস্কৃতিক ও বাংলা ভাষা শিক্ষাকেন্দ্র। নতুন প্রজন্মকে বাংলা ভাষা, গান ও নাটকের সঙ্গে পরিচিত করতে বিভিন্ন কর্মশালা ও অনুষ্ঠান পরিচালিত হয়।
 
হিথ্রো বিমানবন্দরের কাছাকাছি হওয়ায় অনেক প্রবাসী বাঙালি বিমানবন্দরভিত্তিক চাকরি, এভিয়েশন সার্ভিস এবং ক্যাব বা ট্যাক্সি চালনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

হাউন্সলোর হাই স্ট্রিট এবং আশপাশের জনবহুল এলাকায় বাঙালিরা বিভিন্ন গ্রোসারি দোকান, হালাল মিটের দোকান, রেস্তোরাঁ ও ছোট পরিসরের খুচরা ব্যবসা পরিচালনা করেন।

নতুন প্রজন্মের অনেক বাংলাদেশি লন্ডনের মূলধারার আর্থিক প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা (NHS), শিক্ষা এবং বিভিন্ন করপোরেট অফিসে চাকরি করে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা অর্জন করছেন।

অনেকেই স্থানীয় বাজারে গ্রোসারি শপ, কনভেনিয়েন্স স্টোর বা দেশীয় পণ্যের ব্যবসা পরিচালনা করেন। ঐতিহ্যবাহী ব্রিটিশ-বাঙালি ক্যাটারিং ও হালাল ফুড রেস্তোরাঁ ব্যবসায় হাউন্সলোর অনেক বাঙালি রয়েছে।

হিথ্রো বিমানবন্দরের কাছাকাছি হওয়ায় হাউন্সলো এলাকার অনেকে এভিয়েশন, লজিস্টিকস এবং এয়ারপোর্ট সাপ্লাই চেইনে চাকরি করেন।

ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসে (NHS) নার্স, কেয়ারার বা মেডিকেল টেকনিশিয়ান হিসেবে অনেকে কাজ করছেন।

স্থানীয় ব্রিটিশ কারিকুলামের স্কুল ও কাউন্টির কলেজগুলোতে বাঙালি ছেলে-মেয়েরা নিয়মিত লেখাপড়া করছে। লন্ডনের বিভিন্ন নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে হাউন্সলোর তরুণরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন।

পশ্চিম লন্ডনে বাঙালিদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ও ভাষাভিত্তিক কার্যক্রম চালু রয়েছে, যা নতুন প্রজন্মের পড়াশোনা ও শেকড়ের সাথে যোগাযোগ রাখতে সাহায্য করে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow