প্রশাসনিক জটে আটকে গেছে ইবির বার্ষিক ডায়েরি
প্রতিবছর ১ জানুয়ারি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বার্ষিক ডায়েরি উন্মোচনের সময় নির্ধারিত থাকলেও চলতি বছরে তা এখনো হয়নি। জানুয়ারি শেষ হলেও ডায়েরি প্রকাশ না হওয়ায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, নতুন বছরের জন্য গত ২৬ অক্টোবর উপাচার্য পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি মুদ্রণ কমিটি গঠন করেন। কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আলীনূর রহমান ও সদস্যসচিব করা হয় তথ্য, প্রকাশনা ও জনসংযোগ অফিসের উপ-পরিচালক মো. রাজিবুল ইসলামকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান, আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হাসান এবং তথ্য, প্রকাশনা ও জনসংযোগ অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. সাহেদ হাসান। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বছরের ১২ মাসের জন্য প্রস্তুতকৃত একটি ডায়েরি প্রকাশে দুই মাস সময় লাগা প্রশাসনিক গাফিলতিরই প্রতিফলন। এতে নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতে অ্যাকাডেমিক ও দাপ্তরিক কাজে ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। ক্ষোভ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরিফ হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে
প্রতিবছর ১ জানুয়ারি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বার্ষিক ডায়েরি উন্মোচনের সময় নির্ধারিত থাকলেও চলতি বছরে তা এখনো হয়নি। জানুয়ারি শেষ হলেও ডায়েরি প্রকাশ না হওয়ায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, নতুন বছরের জন্য গত ২৬ অক্টোবর উপাচার্য পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি মুদ্রণ কমিটি গঠন করেন। কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আলীনূর রহমান ও সদস্যসচিব করা হয় তথ্য, প্রকাশনা ও জনসংযোগ অফিসের উপ-পরিচালক মো. রাজিবুল ইসলামকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান, আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হাসান এবং তথ্য, প্রকাশনা ও জনসংযোগ অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. সাহেদ হাসান।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বছরের ১২ মাসের জন্য প্রস্তুতকৃত একটি ডায়েরি প্রকাশে দুই মাস সময় লাগা প্রশাসনিক গাফিলতিরই প্রতিফলন। এতে নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতে অ্যাকাডেমিক ও দাপ্তরিক কাজে ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।
ক্ষোভ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরিফ হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক ডায়েরি শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভান্ডার। সাধারণত ক্যাম্পাসে অগ্রণী ব্যাংকের শাখায় গিয়ে ডায়েরি কেনা হয়। এ বছর ব্যাংকে গিয়ে ডায়রি কিনতে চাইলেও তা পাওয়া যায়নি। দ্রুত ডায়রি সরবরাহ ও বিতরণের ব্যবস্থা নেওয়া হলে এই সমস্যার সমাধান হবে। প্রতি বছর ১ জানুয়ারি ডায়েরি প্রকাশের কথা থাকলেও এবার এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। প্রশাসনের উচিত ছিল বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, বার্ষিক ডায়েরি ছাড়া দাপ্তরিক অনেক কাজ ঠিকভাবে করা যাচ্ছে না। গুরুত্বপূর্ণ ফোন নম্বর, দপ্তরভিত্তিক তথ্য ও প্রশাসনিক হালনাগাদ না থাকায় প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। নতুন বছরের শুরুতে ডায়েরি না পাওয়াটা আমাদের কাজের গতি কমিয়ে দিয়েছে।
ডায়েরি প্রকাশে বিলম্বের বিষয়ে কমিটির সদস্য সচিব মো. রাজিবুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘ডায়েরি মুদ্রণের বাজেট অনুমোদনের জন্য ৮ নভেম্বর পাঠানো হয়। তবে চূড়ান্ত অনুমোদন আসতে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত সময় লাগে। এরপর শীতকালীন ছুটি শুরু হয়। এছাড়াও ডায়েরির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৩৮টি বিভাগ ও অফিস থেকে হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করতে হয়। অনেক বিভাগ সময়মতো তথ্য না পাঠানোয় পুরো প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়। বর্তমানে ডায়েরি প্রস্তুতের কাজ পুরোদমে চলছে ও একটি প্রেস নির্বাচন করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘কিছু প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে ডায়েরি প্রকাশে দেরি হয়েছে। প্রথম দফায় টেন্ডার আহ্বান করা হলেও মাত্র একটি প্রতিষ্ঠান আবেদন করায় নিয়ম অনুযায়ী পুনরায় টেন্ডার দিতে হয়। এর মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটি শুরু হয়ে যাওয়ায় কাজ আরও পিছিয়ে যায়। আশা করি দ্রুতই ডায়েরি প্রকাশ করা সম্ভব হবে।’
ইরফান উল্লাহ/এমএন/এমএস
What's Your Reaction?