প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে ভারতের নতুন আইনে কী রয়েছে?
ভারতে সরকারি নিয়োগ ও অন্যান্য পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে বিদ্যমান আইন আরও কঠোর করতে ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) (সংশোধনী) বিল, ২০২৬’ লোকসভায় উত্থাপন করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। গত সোমবার (২৭ জুলাই) লোকসভায় বিলটি উপস্থাপন করেন কেন্দ্রীয় কর্মী, জনঅভিযোগ ও পেনশন প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর খবরে বলা হয়, দুই বছর আগে প্রণীত বিদ্যমান আইন সংশোধনের লক্ষ্যে আনা এই বিলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলন এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পরপরই বিলটি সংসদে আনা হলো। বিলে বলা হয়েছে, অসাধু উপায়ে পাবলিক পরীক্ষার পবিত্রতা নষ্ট করা, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, সংঘবদ্ধ চক্র ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিকার এই আইনের উদ্দেশ্য। সংশোধনী বিলে এককভাবে অপরাধে দোষী সাব্যস্তদের সর্বোচ্চ কারাদণ্ড ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া জরিমানার পরিমাণ ১০ লাখ রুপি থেকে বাড়িয়ে ৫০ লাখ রুপি করার প্রস্ত
ভারতে সরকারি নিয়োগ ও অন্যান্য পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে বিদ্যমান আইন আরও কঠোর করতে ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) (সংশোধনী) বিল, ২০২৬’ লোকসভায় উত্থাপন করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
গত সোমবার (২৭ জুলাই) লোকসভায় বিলটি উপস্থাপন করেন কেন্দ্রীয় কর্মী, জনঅভিযোগ ও পেনশন প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং।
সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর খবরে বলা হয়, দুই বছর আগে প্রণীত বিদ্যমান আইন সংশোধনের লক্ষ্যে আনা এই বিলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলন এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পরপরই বিলটি সংসদে আনা হলো।
বিলে বলা হয়েছে, অসাধু উপায়ে পাবলিক পরীক্ষার পবিত্রতা নষ্ট করা, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, সংঘবদ্ধ চক্র ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিকার এই আইনের উদ্দেশ্য।
সংশোধনী বিলে এককভাবে অপরাধে দোষী সাব্যস্তদের সর্বোচ্চ কারাদণ্ড ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া জরিমানার পরিমাণ ১০ লাখ রুপি থেকে বাড়িয়ে ৫০ লাখ রুপি করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যাতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
খবরে বলা হয়, প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ কারাদণ্ড ৩ বছর থেকে বাড়িয়ে ৫ বছর করার প্রস্তাবও রয়েছে। সংগঠিত অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ কারাদণ্ড ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৭ বছর এবং জরিমানা ১ কোটি রুপি থেকে বাড়িয়ে ১০ কোটি রুপি করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিল অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো ঘটনা কেন্দ্রীয় সরকার চাইলে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার কাছে তদন্তের জন্য পাঠাতে পারবে। একই সঙ্গে প্রয়োজন হলে তদন্ত পরিচালনার জন্য সরকার নিজস্ব বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করতে পারবে। দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করতে প্রতিটি তদন্ত দুই মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার সময়সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিলে দেশের সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিশেষ ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি সম্ভব হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, এসব আদালতে প্রতিদিন শুনানি অনুষ্ঠিত হবে এবং অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের তিন মাসের মধ্যে বিচারকাজ শেষ করতে হবে।
দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোকে এক বা একাধিক বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি নিয়োগের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। আপিল ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে বলা হয়েছে, ফাস্ট ট্র্যাক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল হাইকোর্টের দুই বিচারকের বেঞ্চে শুনানি হবে।
রায়ের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। তবে যথাযথ কারণ থাকলে হাইকোর্ট সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে বিলম্ব মঞ্জুর করতে পারবে। এ ছাড়া আপিল গ্রহণের তারিখ থেকে তিন মাসের মধ্যে তা নিষ্পত্তির প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
What's Your Reaction?