প্রসঙ্গ : চাঁদপুরের আগাম ঈদ
ঈদ এলেই একটা বিষয় নিয়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনার চলে, তা হলো - ‘চাঁদপুরের ৪০ গ্রামে আগাম ঈদ’। বিভিন্ন গণমাধ্যমের শিরোনামে দেখা যায় - ‘সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করেছে চাঁদপুরের ৪০ গ্রাম’। মূলত : এই শিরোনামটাই ভুল। কারণ, এই চল্লিশ গ্রামের হদিস খুঁজে পায়নি আজ অবধি কেউ। মানে চল্লিশ গ্রামের নাম কেউ বলতে পারবে না। কথার তর্কে সংখ্যাটা চল্লিশ ধরে নিলেও এসব গ্রামের সব মানুষ আগাম ঈদ উদযাপন করেন না। গোটা বিষয়টাই ভুল ও অতিরঞ্জিত। অথচ এই ভুল ও অতিরঞ্জিত বার্তা সংশোধন করার উদ্যোগ কোনো সংবাদমাধ্যম নেয়নি। বরং যুগের পর যুগ ধরে কপিপেস্ট সাংবাদিকতা চলে আসছে। একই শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হচ্ছে চাঁদপুরের এই বিষয়টি কেন্দ্র করে। সাংবাদিক হিসেবে সংবাদকর্মীদের প্রতি অনুরোধ রাখলাম- আপনার প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় (চাঁদপুরের) সাংবাদিককে বলুন, ৪০ গ্রামের নাম বলতে। বড়জোর ১০টি গ্রামের নাম বলতে পারবে। সেই গ্রামের আবার সবাই আগাম ঈদ করেন না। গুটিকয়েক মানুষজন যারা সাদ্রা দরবার শরিফের মুরিদ তারা আগাম ঈদ উদযাপন করেন। প্রমাণ হিসেবে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ২৯তম রোজায় ঈদের জামায়াতের যে ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল, সেট
ঈদ এলেই একটা বিষয় নিয়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনার চলে, তা হলো - ‘চাঁদপুরের ৪০ গ্রামে আগাম ঈদ’। বিভিন্ন গণমাধ্যমের শিরোনামে দেখা যায় - ‘সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করেছে চাঁদপুরের ৪০ গ্রাম’।
মূলত : এই শিরোনামটাই ভুল। কারণ, এই চল্লিশ গ্রামের হদিস খুঁজে পায়নি আজ অবধি কেউ। মানে চল্লিশ গ্রামের নাম কেউ বলতে পারবে না। কথার তর্কে সংখ্যাটা চল্লিশ ধরে নিলেও এসব গ্রামের সব মানুষ আগাম ঈদ উদযাপন করেন না। গোটা বিষয়টাই ভুল ও অতিরঞ্জিত।
অথচ এই ভুল ও অতিরঞ্জিত বার্তা সংশোধন করার উদ্যোগ কোনো সংবাদমাধ্যম নেয়নি। বরং যুগের পর যুগ ধরে কপিপেস্ট সাংবাদিকতা চলে আসছে। একই শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হচ্ছে চাঁদপুরের এই বিষয়টি কেন্দ্র করে।
সাংবাদিক হিসেবে সংবাদকর্মীদের প্রতি অনুরোধ রাখলাম- আপনার প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় (চাঁদপুরের) সাংবাদিককে বলুন, ৪০ গ্রামের নাম বলতে। বড়জোর ১০টি গ্রামের নাম বলতে পারবে। সেই গ্রামের আবার সবাই আগাম ঈদ করেন না। গুটিকয়েক মানুষজন যারা সাদ্রা দরবার শরিফের মুরিদ তারা আগাম ঈদ উদযাপন করেন।
প্রমাণ হিসেবে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ২৯তম রোজায় ঈদের জামায়াতের যে ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল, সেটা পর্যালোচনা করুন। এটা একটা গ্রামের ঈদ উদযাপনের ছবি। মাত্র সাতজন মুসল্লি নিয়ে ঈদের জামায়াত হচ্ছে।
একটি গ্রামে কি সাতজন পুরুষ মানুষ থাকে? ওই গ্রামের আর কয়টা এমন ঈদ জামাত হয়েছে - খবর নিন।
জানা গেছে, এই সাতজন তথা সাদ্রা দরবারের মুরিদরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করেন না; বিশ্বের যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখার খবর পেলেই তারা ঈদ উদযাপন করেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর গতকাল (১৮ মার্চ) চাঁদ দেখতে পেয়েছে আফগানিস্তান, নাইজার এবং মালি। গণমাধ্যমে এই খবর পাওয়ায় আজ তারা ঈদ উদযাপন করছেন।
মূলত : সাদ্রা দরবার শরিফের পির মাওলানা ইসহাক (র.) ১৯২৮ সাল থেকে এই রেওয়াজ চালু করেন। ‘চাঁদ দেখে রোজা রাখা এবং চাঁদ দেখে রোজা ভাঙার’ হাদিসকে ব্যবহার করে তারা এ রীতি পালন করে আসছেন। সেই চাঁদ কি নিজস্ব ভৌগোলিক সীমারেখার ভেতর দেখতে হবে নাকি পৃথিবীর যেকোনো জায়গায় দেখলেই হবে? এই প্রশ্নে মূল বিরোধ।
পৃথিবী যেহেতু ঘূর্ণায়মান, সেহেতু বেশিরভাগ উলামায়ে কেরাম নিজ ভৌগোলিক সীমারেখার ভেতর চাঁদ দেখাকে সহিহ মনে করেন। অন্যদিকে মাওলানা ইসহাক (র.)-এর অনুসারীরা মনে করেন, পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে চাঁদ দেখার খবর পেলে ঈদ উদযাপন করতে হবে।
এই বিরোধ মেটানোর জন্য চাঁদপুরের এক সময়ের জেলা প্রশাসক আবু তাহের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি বাহাসের (ধর্মীয় বিতর্ক) আয়োজন করেছিলেন। তবে সেই বাহাসে হাজির হননি মাওলানা ইসহাকের অনুসারীরা। ফলে বিষয়টি আর এগোয়নি।
স্পর্শকাতর ইস্যু বিবেচনায় পরবর্তীতে এই আলোচনার উদ্যোগ আর নেওয়া হয়নি।
গণমাধ্যমের কাছে অনুরোধ সঠিক সংবাদ সামনে আনুন। এটা গণমাধ্যমের দায়িত্ব। যুগ যুগ ধরে ভুল সংবাদ পরিবেশন করে আসা গণমাধ্যমের উচিত নৈতিক দায় বিবেচনায় আগের ভুল সংবাদের জন্য দুঃখপ্রকাশ করা।
রাষ্ট্রের কর্তব্য - সামাজিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ বা বিতর্কিত রীতি পালনের কারণে এই আগাম ঈদ উদযাপনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
লেখক: শাহরিয়ার পলাশ, সাংবাদিক, দৈনিক কালবেলা
What's Your Reaction?