প্রিয় বন্ধু আতাউর রহমানকে হারিয়ে স্মৃতিকাতর আবুল হায়াত

প্রয়াত নাট্যজন আতাউর রহমানকে স্মরণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন তার দীর্ঘদিনের সহযাত্রীরা। তাদের ভাষায় মঞ্চনাটকের প্রতি নিবেদন পাণ্ডিত্য ও আন্তরিকতায় তিনি ছিলেন এক অনন্য ব্যক্তিত্ব যার শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। বরেণ্য অভিনেতা আবুল হায়াতের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহকর্মী ছিলেন আতাউর রহমান। প্রিয় মানুষকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘আতাউর রহমান নেই এটা এখনো বিশ্বাস করা কঠিন। এত কাছের ও প্রিয় একজন মানুষ ছিলেন তিনি যে তাকে হারানোর শোক ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। মনটা বিষণ্ন হয়ে আছে। কথা বলার ভাষাও যেন হারিয়ে গেছে।’ চট্টগ্রামে একই স্কুলে পড়াশোনা করেছেন আতাউর রহমান ও আবুল হায়াত। দুজন একই স্কুলে পড়লেও আতাউর রহমান ছিলেন তার কয়েক বছরের বড়। স্মৃতিকাতর কণ্ঠে আবুল হায়াত বলেন, ‘সম্প্রতি শেষবার তাকে দেখে আসার পর বারবার স্কুলজীবনের সেই চেনা মুখটাই মনে পড়ছে। কিন্তু সেই মুখ আজ নীরব।’ নাগরিক নাট্যসম্প্রদায় গঠনের সময়কার স্মৃতিও তুলে ধরে আবুল হায়াত বলেন, ‘অনেক বছর আগে নতুন একটি নাট্যদল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। গোলাম রাব্বানী আমাকে সেখানে নিয়ে যান। সেখানেই আতাউর রহমানের সঙ্গে আবার দেখা হয়। পরে দল গঠন করা হয়। জিয়া হ

প্রিয় বন্ধু আতাউর রহমানকে হারিয়ে স্মৃতিকাতর আবুল হায়াত

প্রয়াত নাট্যজন আতাউর রহমানকে স্মরণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন তার দীর্ঘদিনের সহযাত্রীরা। তাদের ভাষায় মঞ্চনাটকের প্রতি নিবেদন পাণ্ডিত্য ও আন্তরিকতায় তিনি ছিলেন এক অনন্য ব্যক্তিত্ব যার শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

বরেণ্য অভিনেতা আবুল হায়াতের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহকর্মী ছিলেন আতাউর রহমান। প্রিয় মানুষকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘আতাউর রহমান নেই এটা এখনো বিশ্বাস করা কঠিন। এত কাছের ও প্রিয় একজন মানুষ ছিলেন তিনি যে তাকে হারানোর শোক ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। মনটা বিষণ্ন হয়ে আছে। কথা বলার ভাষাও যেন হারিয়ে গেছে।’

চট্টগ্রামে একই স্কুলে পড়াশোনা করেছেন আতাউর রহমান ও আবুল হায়াত। দুজন একই স্কুলে পড়লেও আতাউর রহমান ছিলেন তার কয়েক বছরের বড়। স্মৃতিকাতর কণ্ঠে আবুল হায়াত বলেন, ‘সম্প্রতি শেষবার তাকে দেখে আসার পর বারবার স্কুলজীবনের সেই চেনা মুখটাই মনে পড়ছে। কিন্তু সেই মুখ আজ নীরব।’

নাগরিক নাট্যসম্প্রদায় গঠনের সময়কার স্মৃতিও তুলে ধরে আবুল হায়াত বলেন, ‘অনেক বছর আগে নতুন একটি নাট্যদল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। গোলাম রাব্বানী আমাকে সেখানে নিয়ে যান। সেখানেই আতাউর রহমানের সঙ্গে আবার দেখা হয়। পরে দল গঠন করা হয়। জিয়া হায়দার ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আর আতাউর রহমান প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক। সেখান থেকেই শুরু হয় আমাদের দীর্ঘ পথচলা।’

মঞ্চনাটকের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা দীর্ঘ সময়ের নানা অভিজ্ঞতার কথাও উঠে আসে তার স্মৃতিচারণে। তিনি বলেন, ‘একটি নাটকের জন্য মাসের পর মাস রিহার্সেল করতে হয়। কখনও ছয় মাস পর্যন্ত প্রস্তুতি চলে। প্রতিদিন দেখা হতো নাটকের বাইরেও অনেক গল্প হতো। এভাবেই অসংখ্য স্মৃতি তৈরি হয়েছে।’

আতাউর রহমানকে মঞ্চ সারথী নামে ডাকা হতো উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কে এই উপাধি দিয়েছিলেন জানি না তবে তার জন্য এটিই সবচেয়ে মানানসই। তিনি ছিলেন মঞ্চের প্রাণপুরুষ। মঞ্চনাটকের জন্য অসাধারণ অবদান রেখে গেছেন। জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়টুকু মঞ্চের জন্য ব্যয় করেছেন। একসময় চাকরি করতেন পরে সেটি ছেড়ে পুরো সময় দিয়েছেন নাটকের দলে।’

তার পাণ্ডিত্য ও সাংস্কৃতিক অনুরাগের কথাও উঠে আসে আবুল হায়াতের স্মৃতিচারণে। তিনি বলেন, ‘তিনি ছিলেন অত্যন্ত পাণ্ডিত্যপূর্ণ মানুষ। রবীন্দ্রনাথের প্রতি ছিল গভীর অনুরাগ। প্রচুর পড়াশোনা করেছেন। মঞ্চে তার নির্দেশনাগুলো ছিল অসাধারণ। কাজ দিয়েই তিনি বেঁচে থাকবেন।’

প্রিয়জন হারানোর বেদনার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এক এক করে প্রিয় মানুষরা চলে যাচ্ছেন। ড. ইনামুল হক জামালউদ্দিন হোসেনের পর এবার আতাউর রহমানও চলে গেলেন। পরিবারের সঙ্গেও ছিল গভীর সম্পর্ক। মেয়েরা একসঙ্গে বড় হয়েছে তাদেরও অসংখ্য স্মৃতি রয়েছে। সব স্মৃতি আজ একসঙ্গে মনে পড়ছে।’

সবশেষে তিনি বলেন, ‘তার আত্মার শান্তি কামনা করি। মহান আল্লাহ তাকে জান্নাত নসিব করুন।’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow