ফরিদপুরের সালথায় পূর্ব বিরোধের জের ধরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এসময় উভয় পক্ষের বাড়িঘর ভাঙচুরসহ এক আওয়ামী লীগ সমর্থকের বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দফায় দফায় উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মুরুটিয়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।
সংঘর্ষে এক পক্ষের নেতৃত্ব দেন মাঝারদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি হারুন মিয়ার ছেলে মিন্টু মিয়া। অপর পক্ষের নেতৃত্ব দেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আফছার মাতুব্বরের সমর্থক বেলায়েত মোল্যা।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দলীয় কোন্দল নিয়ে দুপুরে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এসময় বেলায়েত মোল্যার সমর্থক আজিজুল শেখকে (৪১) কুপিয়ে জখম করা হয়। তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এসময় উভয় পক্ষের বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ সমর্থক কৃষক কবির শেখের বসতঘরসহ ১০-১২টি খড় ও পাটখড়ির গাদায় অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এ বিষয়ে বেলায়েত মোল্যা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে গ্রামের বিএনপি নেতা মিন্টু মিয়া ও ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি সাবেক ইউপি সদস্য টিটুল মিয়া আমার কাছেসহ অনেকের কাছে টাকা চায়। বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে বলে আসছে, এলাকায় থাকতে হলে টাকা দিয়ে থাকতে হবে। টাকা না দেওয়ায় কয়েকদিন আগে আমাকে মারধর করা হয়। এরপরও আমি চুপচাপ ছিলাম। কিন্তু ওরা পায়ে পাড়া দিয়ে ঝামেলা করতে আসে। কতক্ষণ ধৈর্য ধরে থাকা যায়!’
বিএনপি নেতা মিন্টু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘রমজানে পার্শ্ববর্তী খলিশপুট্টি মাঠে ইউনিয়ন বিএনপির ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ওই অনুষ্ঠানে গ্রাম থেকে লোকজন নিয়ে আমি যাওয়ায় আমার ওপর আফছার চেয়ারম্যানের দুই ছেলে নাজমুল ও স্বপন মাতুব্বর ক্ষিপ্ত হয়। এর জের ধরে আজকের ঘটনার ওরাই নেতৃত্ব দিয়েছে। তবে কোনো চাঁদা চাওয়া নিয়ে মারামারি হয়নি। এখন ওরা মিথ্যাচার করছে।’
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতাউর রহমান জানান, পূর্ব বিরোধের জের ধরে গ্রামের আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়েছে। এসময় একটি বাড়ি ভাঙচুরসহ কয়েকটি খড়ের গাদায় আগুন দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
এন কে বি নয়ন/এসআর/জেআইএম