ফরিদপুরে জিয়াউর রহমানের খনন করা খালে বাঁধ, বিপাকে কয়েক হাজার কৃষক
ফরিদপুরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদেশে খনন করা খালে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছে ওই এলাকার কয়েক হাজার পাট চাষি। তারা অবিলম্বে খালের বাঁধ অপ্রসারণ করে পানি প্রবাহের ব্যবস্থা করে চাষিদের সমস্যা দূর করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, ফরিদপুর সদর উপজেলার ২ নম্বর চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের চর বালুদম মৌজার এ খালটি কাচারিটেক সংলগ্ন বড় কোল থেকে শুরু হয়ে মোনছের বেপারী পাড়া, সৈয়দ আলী মাতুব্বরের পাড়া হয়ে মমিন মাতুব্বরে পাড়ার মধ্যে দিয়ে মধ্যে দিয়ে আফজাল মন্ডলের হাট হয়ে পদ্মা নদীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। যা শুল্ক মৌসুমে এই এলাকার কৃষকদের ফসলের সেচ ও অতিবৃষ্টির সময়ে জলাবদ্ধতা নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। এছাড়া বর্ষায় সোনালি আঁশ খ্যাত পাট পচিয়ে (জাগ দিয়ে) চাষিদের সোনা রঙের পাট পেতে সাহায্য করত। এছাড়া এ অঞ্চলের মানুষের প্রাণিজ আমিষের পূরণের জন্য এই খাল থেকে আহরণ করা হতো প্রচুর পরিমাণে অসংখ্য প্রজাতির দেশি মাছ। কিন্তু কয়ক বছর আগে প্রভাবশালীরা সোহর উদ্দিন মোল্লা বাড়ি এলাকায় বাদ দিলে খালটি প্রাণ হারায়। এতে একেবারেই বন্ধ হয়ে যায় এর পানি প্রবাহ। আর নেতিবাচক প
ফরিদপুরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদেশে খনন করা খালে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছে ওই এলাকার কয়েক হাজার পাট চাষি। তারা অবিলম্বে খালের বাঁধ অপ্রসারণ করে পানি প্রবাহের ব্যবস্থা করে চাষিদের সমস্যা দূর করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ফরিদপুর সদর উপজেলার ২ নম্বর চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের চর বালুদম মৌজার এ খালটি কাচারিটেক সংলগ্ন বড় কোল থেকে শুরু হয়ে মোনছের বেপারী পাড়া, সৈয়দ আলী মাতুব্বরের পাড়া হয়ে মমিন মাতুব্বরে পাড়ার মধ্যে দিয়ে মধ্যে দিয়ে আফজাল মন্ডলের হাট হয়ে পদ্মা নদীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। যা শুল্ক মৌসুমে এই এলাকার কৃষকদের ফসলের সেচ ও অতিবৃষ্টির সময়ে জলাবদ্ধতা নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত।
এছাড়া বর্ষায় সোনালি আঁশ খ্যাত পাট পচিয়ে (জাগ দিয়ে) চাষিদের সোনা রঙের পাট পেতে সাহায্য করত। এছাড়া এ অঞ্চলের মানুষের প্রাণিজ আমিষের পূরণের জন্য এই খাল থেকে আহরণ করা হতো প্রচুর পরিমাণে অসংখ্য প্রজাতির দেশি মাছ। কিন্তু কয়ক বছর আগে প্রভাবশালীরা সোহর উদ্দিন মোল্লা বাড়ি এলাকায় বাদ দিলে খালটি প্রাণ হারায়। এতে একেবারেই বন্ধ হয়ে যায় এর পানি প্রবাহ। আর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এ অঞ্চলের কয়েক হাজার চাষি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। তাই অবিলম্বে খালটির বাঁধ অপসারণ করে পানি প্রবাহে প্রয়োজনের অবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি দাবি এলাকাবাসীর।
এ বিষয়ে পাট চাষি চান মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, আমি ১ বিঘা জমিতে পাট বুনেছি। খালে পানি নেই, জাগ দেওয়ার জন্য ২ কিলো দূরে কোলের মধ্যে ঘোড়ার গাড়িতে করে টেনে নিতে হয়, আবার আঁশ ছাড়ানোর পর খরি (পাটকাঠি ও আঁশ) সেখান থেকে আনতে হয়, এতে বেশ খরচ হয়ে যায়। লাভ বলতে কিছু থাকেনা, এখন পাট ৩/৪ হাত লম্বা হয়েছে, ভাবছি এত ঝামেলা না করে পাট ভেঙে ফেলে নতুন করে ধান বুনে দেব কি-না। তবে খালে পানি থাকলে এই সমস্যা পোহাতে হতো না।
স্থানীয় কৃষক, হাবিবুর রহমান, খলিল মোল্লা, কুটি শেখসহ আরো অনেকেই চান মিয়ার মতো খালের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার অসুবিধার বিষয়টি নিয়ে আক্ষেপ করে যত দ্রুত সম্ভব খালটিতে দেওয়া সকল বাঁধ অবসারণ করে পানি প্রবাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
কৃষক রশিদ মোল্লা বলেন, জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার পর এই খাল খনন করা হয়, আমরা এই খালে মাটি কাটছি, কাজের মজুরি হিসেবে প্রতিদিন ১০ কেজি করে গম দিত আমাদের। তখন খলিল তালুকদার এ ওয়ার্ড এর মেম্বার ছিলেন।
চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড এর সাবেক মেম্বার ও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. আবু তালেব (আবু) বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খনন করা খালে ছোট- বড় প্রায় ১০টি বাঁধ দেওয়া হয়েছে। এতে এই অঞ্চলের কয়েক হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। খালটি সচল অবস্থায় যেমন এখানে মাছ পাওয়া যেত ঠিক তেমনই পাট জাগ দেওয়া, ধান ক্ষেতে, পেঁয়াজ রসুন ক্ষেতে বৃষ্টির অতিরিক্ত পানিও এই খাল দিয়ে বের হয়ে যেত।
তিনি আরও বলেন, এছাড়া শুষ্ক মৌসুমে খালেলে পানি দিয়ে ফসলের মাঠের সেচ দেওয়া হতো। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে খালে বাঁধ দিয়ে আটকে দেওয়ায় এ অঞ্চলের চাষিদের পাট পচানো কঠিন হয়ে গেছে। এছাড়া প্রতিবছর পেঁয়াজ রসুন ক্ষেতের অতিবৃষ্টির পানি নিষ্কাশন হতে না পারায় চাষিরা প্রচণ্ডভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই অবিলম্বে খালের এই কৃত্রিম বাঁধগুলো অপসারণ করে খালটি সচল করা এখন সময়ের দাবি।
খালে বাঁধের বিষয় চর মাধবদীয়া ইউনিয়নের বালুদম ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফারহানা বেগম বলেন, খালটিতে বাঁধের কারণে অঞ্চলের চাষীদের খুব বড় রকমের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। আফজল মন্ডলেরহাট এলাকায় প্রায় ১০০ বিঘা ধানের ক্ষেত জলাবদ্ধতার কারণে নষ্ট হয়ে যায়, এছাড়া প্রতিবছর রবি মৌসুমে পেঁয়াজ রসুনের জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে কয়েক শত একর ফসল নষ্ট হয়ে যায়। তবে খালটি সচল থাকলে এই জ্বলাবধ্যতার সমস্যা থেকে সমাধান পাওয়া যেত। এছাড়া পাট পচানোর জন্য খালে পানি প্রবাহ খুবই দরকার। এছাড়া খালটি সচল হলে অঞ্চলের মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা মাছের মাধ্যমে অনেকাংশে পূরণ করা যাবে।
ফরিদপুর সদর উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া বলেন, খালের উপরে এভাবে বাঁধ নির্মাণ করার বিষয়টি আমার জানা নেই, এ বিষয়ে আমি খোঁজখবর নিয়ে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
What's Your Reaction?