ফার্মের মুরগি খাওয়া কতটা স্বাস্থ্যকর?

বর্তমানে শহরের জীবনে সকলেরই প্রিয় খাবারগুলোর তালিকায় থাকে মুরগির মাংস বা মাংস জাতীয় খাবার। আর দেশে সহজলোভ্য মাংসের মধ্যে রয়েছে ফার্মের মুরগি বা ব্রয়লার মুরগি। এদিকে, ফার্মের মুরগি বা ব্রয়লার মুরগি নিয়ে নানা ধরনের ধারণা প্রচলিত রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, এসব মুরগিতে অতিরিক্ত ওষুধ বা হরমোন ব্যবহার করা হয়, তাই এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি এতটা সরল নয়। সঠিকভাবে পালন করা এবং নিরাপদভাবে জবাই ও সংরক্ষণ করা হলে ফার্মের মুরগিও পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাবার হতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতে, ব্রয়লার মুরগির মাংসে উচ্চমাত্রার প্রোটিন, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, আয়রন, জিঙ্ক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান রয়েছে। তুলনামূলকভাবে এতে চর্বির পরিমাণও কম, বিশেষ করে চামড়া ছাড়া খেলে এটি আরও স্বাস্থ্যকর হয়। তাই সুষম খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণে ফার্মের মুরগি রাখা যেতে পারে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, কিছু খামারে অপ্রয়োজনীয়ভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়ম না মেনে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে মুরগির শরীরে ওষুধের অবশিষ্টাংশ থেকে যেতে পারে এবং ভবিষ

ফার্মের মুরগি খাওয়া কতটা স্বাস্থ্যকর?

বর্তমানে শহরের জীবনে সকলেরই প্রিয় খাবারগুলোর তালিকায় থাকে মুরগির মাংস বা মাংস জাতীয় খাবার। আর দেশে সহজলোভ্য মাংসের মধ্যে রয়েছে ফার্মের মুরগি বা ব্রয়লার মুরগি। এদিকে, ফার্মের মুরগি বা ব্রয়লার মুরগি নিয়ে নানা ধরনের ধারণা প্রচলিত রয়েছে।

অনেকেই মনে করেন, এসব মুরগিতে অতিরিক্ত ওষুধ বা হরমোন ব্যবহার করা হয়, তাই এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি এতটা সরল নয়। সঠিকভাবে পালন করা এবং নিরাপদভাবে জবাই ও সংরক্ষণ করা হলে ফার্মের মুরগিও পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাবার হতে পারে।

পুষ্টিবিদদের মতে, ব্রয়লার মুরগির মাংসে উচ্চমাত্রার প্রোটিন, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, আয়রন, জিঙ্ক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান রয়েছে। তুলনামূলকভাবে এতে চর্বির পরিমাণও কম, বিশেষ করে চামড়া ছাড়া খেলে এটি আরও স্বাস্থ্যকর হয়। তাই সুষম খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণে ফার্মের মুরগি রাখা যেতে পারে।

তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, কিছু খামারে অপ্রয়োজনীয়ভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়ম না মেনে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে মুরগির শরীরে ওষুধের অবশিষ্টাংশ থেকে যেতে পারে এবং ভবিষ্যতে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী জীবাণুর ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে এটি সব খামারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়; ভালো ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত খামারে এ ধরনের ঝুঁকি অনেক কম থাকে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বিশ্বস্ত উৎস থেকে তাজা মুরগি কিনতে হবে এবং রান্নার আগে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত তাপমাত্রায় সম্পূর্ণ সিদ্ধ করে খাওয়া উচিত। কাঁচা মাংসের সংস্পর্শে আসা ছুরি, কাটিং বোর্ড ও হাতও ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে, যাতে জীবাণু ছড়িয়ে না পড়ে।

সব মিলিয়ে, ফার্মের মুরগি নিজেই অস্বাস্থ্যকর—এমন ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তবে নিরাপদ উৎপাদন, সঠিক সংরক্ষণ ও স্বাস্থ্যসম্মত রান্নার ওপরই এর নিরাপত্তা অনেকাংশে নির্ভর করে। তাই কেনার সময় বিশ্বস্ত বিক্রেতা বেছে নেওয়া এবং রান্নায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow